ঢাকায় খুন করে ২০০ কিমি দূরে ড্রামে লাশ গুম: শেরপুরে যুবতী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৪
- প্রকাশের সময় : ০৮:১১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 32

শেরপুর এর শ্রীবরদীতে ব্রিজের নিচে ভাসমান ড্রাম থেকে অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধারের ক্লু-লেস ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই শেরপুর)। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের পর পঞ্চগড় ও ঢাকা থেকে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনৈতিক কাজের পারিশ্রমিকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পিবিআই শেরপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
কুড়িকাহনিয়া ব্রিজের নিচে ড্রামবন্দী লাশ উদ্ধার:
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. সকাল আনুমানিক ০৯:৩০ ঘটিকায় শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানাধীন কুড়িকাহনিয়া ব্রিজের নিচে খালের পানিতে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে সংবাদ দেয়। শ্রীবরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রাম খুলে অজ্ঞাতনামা এক নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে পিবিআই শেরপুরের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আঙুলের ছাপ ও আধুনিক প্রযুক্তির (বায়োমেট্রিক পদ্ধতি) মাধ্যমে ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করে。
নিহত ওই নারীর নাম ঝিনুক আক্তার (২৬), পিতা-মোঃ শাকিল মিয়া, মাতা-বেবী, সাং-এরশাদনগর, টঙ্গী পূর্ব, গাজীপুর। তিনি টঙ্গী এলাকায় একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। এই ঘটনার পর নিহতের ফুফু বাদী হয়ে ভিকটিমের স্বামী সাইফুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে শ্রীবরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১০, তারিখ: ২৩/১০/২০২৬ খ্রি.; ধারা: ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড)。
পিবিআইয়ের তদন্ত ও ধারাবাহিক গ্রেপ্তার:
গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. তারিখে পিবিআই শেরপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মাহবুবুর রহমান মামলাটির তদন্ত শুরু করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. পঞ্চগড় জেলার বোদা থানাধীন দিঘলগ্রাম থেকে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মোঃ নুর ইসলাম ওরফে বাবু (৪৪)-কে গ্রেপ্তার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. ঢাকার উত্তরখান এলাকা থেকে আসামী মোঃ সজল (৪৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। ধারাবাহিক অভিযানে গত ১ নভেম্বর ২০২৬ খ্রি. একই এলাকা থেকে আসামী মোঃ নুর মোহাম্মদ ওরফে গোসা ওরফে বুশা (৪৪) এবং হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা (৪৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে নুর ইসলাম বাবু বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছে।
হত্যাকাণ্ডের কারণ ও নৃশংস বিবরণ:
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, ভিকটিম ঝিনুক আক্তারকে আসামিরা ঢাকার উত্তরখান ও দক্ষিণখান সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে অনৈতিক কাজের পারিশ্রমিকের টাকা ভাগাভাগি ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা বটি দিয়ে ভিকটিমকে আঘাত করে। পরবর্তীতে অন্য আসামিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ফাতেমা ভিকটিমকে বটি দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধের আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তারা লাশটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে একটি অজ্ঞাত ভাড়া গাড়িতে করে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে এনে শেরপুরের শ্রীবরদী থানাধীন কুড়িকাহনিয়া ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পিবিআই শেরপুর জেলা ইউনিট জানিয়েছে, মামলায় এজাহারনামীয় ভিকটিমের স্বামী সাইফুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই। ঘটনার সাথে অন্য কোনো চক্র বা ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।























