০৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার সংখ্যা অর্ধ শতক ছাড়িয়ে গেছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আধুনিক পরীক্ষা ব্যবস্থার অভাবে চরম দুর্ভোগে অসহায় রোগীরা

রিপোর্টার শাহিনুর ইসলাম
  • Update Time : ০৮:১৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১২ Time View

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে । এ পর্যন্ত ৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়ে তারা বাড়িতে ফিরে গেছে । বর্তমানে হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা সাধারণ রোগের সংখ্যা প্রায় শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ০৪ জন। প্রতিদিন রোগির সংখ্যা বেড়েই চলেছে,সেই সাথে বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। তবে রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও মেটানো যাচ্ছে না চিকিৎসার ন্যূনতম চাহিদা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং আধুনিক রোগ শনাক্তকরণ (ডায়াগনস্টিক) পরীক্ষার সুবিধা না থাকায় চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ভর্তি হওয়া অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন নতুন নতুন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হলেও হাসপাতালের বেড ও ল্যাবরেটরিতে আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ-সুবিধা একেবারেই অপ্রতুল। বাধ্য হয়ে রোগীদের চড়া মূল্যের বিনিময়ে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রক্তসহ ডেঙ্গুর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে নিম্ন আয়ের ও সাধারণ পরিবারগুলোর ওপর বিরাট আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। যদিও সাম্প্রতি ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পুরুষ এবং মহিলা ৮ টি বেড সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এক সভায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, প্লাজমা লিকেজ এড়াতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জ্বর কমে যাওয়ার পর চার দিন গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালে অবজারভেশনে রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে সিকিউরিটি দিয়ে গেট বন্ধ রেখে রোগীদের অবজারভেশনে রাখতে হবে।
কিন্তু তালা হাসপাতালের বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা; পরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় রোগীরা সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগে হাসপাতালে দ্রুত এনএস১ (NS1) এবং সিবিসি (CBC) টেস্টের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও কিট সরবরাহ নিশ্চিত করা, যাতে অসহায় রোগীদের বাইরে বেশি টাকা খরচ করতে না হয়। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় স্যালাইন, মশারি ও সরঞ্জাম জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ করা।
সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে ডেঙ্গুর লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং জমা পানি পরিষ্কার করার গুরুত্ব তুলে ধরে ব্যাপক মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা জরুরী। হাসপাতাল,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান(বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান), নিজের বাড়ীর চারপাশসহ এলাকাগুলোতে মশা মারার স্প্রে ছিটানো এবং জমা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের স্বজনদের সঠিক তথ্য প্রদান এবং কোন পরীক্ষা কখন দরকার তা জানানোর জন্য একটি আলাদা/ বিশেষ তথ্য ডেক্স চালু করা।
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মিজানুর রহমান বলেন আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি,পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বক্ষণিক সেবার ব্যাপারে কোন ত্রুটি যাতে না হয়, সে ব্যাপারে আমরা চিকিৎসা সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মীদের সহায়তা কামনা করি।
এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি নজরদারি বৃদ্ধি, সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী রোগী ও এলাকাবাসী।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

তালা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার সংখ্যা অর্ধ শতক ছাড়িয়ে গেছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আধুনিক পরীক্ষা ব্যবস্থার অভাবে চরম দুর্ভোগে অসহায় রোগীরা

Update Time : ০৮:১৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে । এ পর্যন্ত ৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়ে তারা বাড়িতে ফিরে গেছে । বর্তমানে হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা সাধারণ রোগের সংখ্যা প্রায় শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ০৪ জন। প্রতিদিন রোগির সংখ্যা বেড়েই চলেছে,সেই সাথে বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। তবে রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও মেটানো যাচ্ছে না চিকিৎসার ন্যূনতম চাহিদা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং আধুনিক রোগ শনাক্তকরণ (ডায়াগনস্টিক) পরীক্ষার সুবিধা না থাকায় চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ভর্তি হওয়া অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন নতুন নতুন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হলেও হাসপাতালের বেড ও ল্যাবরেটরিতে আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ-সুবিধা একেবারেই অপ্রতুল। বাধ্য হয়ে রোগীদের চড়া মূল্যের বিনিময়ে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রক্তসহ ডেঙ্গুর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে নিম্ন আয়ের ও সাধারণ পরিবারগুলোর ওপর বিরাট আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। যদিও সাম্প্রতি ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পুরুষ এবং মহিলা ৮ টি বেড সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এক সভায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, প্লাজমা লিকেজ এড়াতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জ্বর কমে যাওয়ার পর চার দিন গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালে অবজারভেশনে রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে সিকিউরিটি দিয়ে গেট বন্ধ রেখে রোগীদের অবজারভেশনে রাখতে হবে।
কিন্তু তালা হাসপাতালের বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা; পরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় রোগীরা সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগে হাসপাতালে দ্রুত এনএস১ (NS1) এবং সিবিসি (CBC) টেস্টের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও কিট সরবরাহ নিশ্চিত করা, যাতে অসহায় রোগীদের বাইরে বেশি টাকা খরচ করতে না হয়। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় স্যালাইন, মশারি ও সরঞ্জাম জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ করা।
সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে ডেঙ্গুর লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং জমা পানি পরিষ্কার করার গুরুত্ব তুলে ধরে ব্যাপক মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা জরুরী। হাসপাতাল,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান(বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান), নিজের বাড়ীর চারপাশসহ এলাকাগুলোতে মশা মারার স্প্রে ছিটানো এবং জমা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের স্বজনদের সঠিক তথ্য প্রদান এবং কোন পরীক্ষা কখন দরকার তা জানানোর জন্য একটি আলাদা/ বিশেষ তথ্য ডেক্স চালু করা।
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মিজানুর রহমান বলেন আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি,পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বক্ষণিক সেবার ব্যাপারে কোন ত্রুটি যাতে না হয়, সে ব্যাপারে আমরা চিকিৎসা সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মীদের সহায়তা কামনা করি।
এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি নজরদারি বৃদ্ধি, সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী রোগী ও এলাকাবাসী।