দিঘলিয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ পালিত
- Update Time : ০৮:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৩ Time View

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সকালে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে র্যালিটি বের হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন দাশ গুপ্ত, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা আক্তার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টি এম শাহ আলমসহ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা র্যালিতে অংশ নেন। র্যালিটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
পরে উপজেলা প্রশাসনের অডিটোরিয়াম হলরুমে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য—“শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষায় ৬০ বছর, মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ রূপদান।”
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাশ গুপ্ত। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টি এম শাহ আলম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা আক্তার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম, উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী আবু তারেক সাইফুল কামাল, উপজেলা প্রাইমারি স্কুল ট্রেনিং ইনস্ট্রাক্টর রুহুল আমিন, তথ্য আপা সাঈদা খাতুন ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মাকসুদা খানম।
বক্তব্যে ইউএনও সুজন দাশ গুপ্ত শিক্ষকদের সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই দেন না; তাঁরা একজন শিক্ষার্থীর চিন্তা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি গীতা, কোরআন, বাইবেল ও ত্রিপিটকসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থে শিক্ষক ও জ্ঞান অর্জনের গুরুত্বের বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল, আলবার্ট আইনস্টাইনসহ বিশ্বের খ্যাতনামা মনীষীদের জীবন ও শিক্ষাদর্শ থেকে শিক্ষণীয় বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ইউএনও সুজন দাশ গুপ্ত বলেন, “শিক্ষকের বাণী তোমাদের কাছে কোরআনের আয়াত বা মন্ত্রের মতো।” শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাঁদের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষকদের নির্দেশনা ও আদর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও পেশাগত সংকটের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা, সময়মতো আর্থিক সুবিধা না পাওয়া, পদোন্নতি ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা এবং শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতার সমস্যা দ্রুত সমাধান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈষম্য দূরীকরণ এবং পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের দাবি জানান। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপযোগী আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তথ্য আপা সাঈদা খাতুন ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মাকসুদা খানম।
আলোচনা সভা শেষে উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের তিনজন এবং প্রাথমিক পর্যায়ের তিনজনসহ মোট ছয়জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাশ গুপ্ত ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা সম্মানিত শিক্ষকদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।
এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।



















