সরাইলে জমি দখলের নামে ‘তাজু-জাবেদ’ বাহিনীর তাণ্ডব: ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর নারী নির্যাতন ও লুটপাট
- Update Time : ১২:৩৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৩ Time View

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়ন যেন এক ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় দুই প্রভাবশালী তাজু ও জাবেদের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা, বসতবাড়ি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া, নারী নির্যাতন, শ্লীলতাহানি ও লুটপাটের মতো নির্মম ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ পশ্চিমপাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষ।
বিজ্ঞ আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা
ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, অরুয়াইল ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি মূল্যবান জমি নিয়ে বাদী ও বিবাদীপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে বিবাদীপক্ষের মূল উসকানিদাতা তাজু ও জাবেদ এলাকার একদল চিহ্নিত অপরাধীকে সংঘবদ্ধ করে জমিটি অবৈধভাবে দখলের পাঁয়তারা চালায়।
ধারাবাহিক হুমকি ও সহিংসতার আশঙ্কায় ভুক্তভোগী পক্ষ বিজ্ঞ আদালতে ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২’-এর ৪ ও ৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: পি-৯৯৪/২৬)। মামলায় অরুয়াইল এলাকার মৃত শেঞ্চু দাসের ছেলে উত্তম দাস (৪০)-সহ মূল পরিকল্পনাকারী তাজু, জাবেদ ও তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীদের আসামি করা হয়। এই মামলায় বকুল আক্তার, শারমিন জাহান, নুর ইসলাম, শহিদুল, হারুন মিয়া ও জয়বন নেছাকে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছে।
আইনের আশ্রয়ে ক্ষিপ্ত সন্ত্রাসীরা: নারী নির্যাতন ও ছিনতাই
আদালতে মামলা দায়ের করার পর থেকেই তাজু ও জাবেদ বাহিনী আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। প্রতিনিয়ত জীবননাশের হুমকির মুখে পড়ে পরিবারটি। নিরাপত্তার আকুতি জানিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে প্রথম লিখিত আবেদন করা হয়।
এরই জেরে গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাজু ও জাবেদের নির্দেশে চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সুফিয়া খাতুন (৫৪) নামের এক নারীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সরাইল থানায় করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়— সন্ত্রাসীরা তাকে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানি করে এবং তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীর আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তাদেরও দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুফিয়া খাতুনকে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
রামদা-রড নিয়ে হামলা, মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয় বসতঘর
সর্বশেষ তথ্য মতে, চিহ্নিত ভূমিদস্যু, মাদক কারবারি ও কালোবাজারি চক্রের মূলহোতা তাজু ও জাবেদের সশস্ত্র ভাড়াটে বাহিনী দা, রামদা, শাবল ও লোহার রড নিয়ে সুপরিকল্পিত হামলা চালায়। তাণ্ডব চালিয়ে তারা ভুক্তভোগী পরিবারের পুরো বসতঘর ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয় এবং ঘরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে পুরো এলাকায় থমথমে ও ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে অরুয়াইলবাসী
এ ঘটনায় অরুয়াইলের সাধারণ গ্রামবাসী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর বক্তব্য:
”জমিজমার প্রকৃত স্বত্ব ও খতিয়ান প্রশাসন তদন্ত করে বিচার করবে— এটাই আইনি নিয়ম। কিন্তু দিনদুপুরে তাজু ও জাবেদ বাহিনীর মতো অপরাধীরা এসে নারীদের লাঞ্ছিত করবে, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেবে— এ বর্বরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী তাণ্ডবের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মূলহোতা তাজু, জাবেদসহ তাদের ক্যাডার বাহিনীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।



















