১২:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলারোয়ায় ১০০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে তালবীজ রোপণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

রিপোর্টার শাহিনুর ইসলাম
  • Update Time : ১০:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২২ Time View

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি:
বজ্রপাত প্রতিরোধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ১০০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে তালবীজ রোপণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কলারোয়ার যুগিখালি গ্রামের তরুণ সিভিল প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় ২০২৪ সাল থেকে তিনি এ পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছেন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে উপজেলার ১২ নম্বর যুগিখালী ইউনিয়নের প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করেন আসিফ ইকবাল চয়ন। ইতোমধ্যে রোপণ করা বীজের প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে চারা গজিয়েছে। এ সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে এবার পুরো উপজেলায় বৃহৎ পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ছয় বছরের মধ্যে কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন প্রধান ও আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটারজুড়ে পর্যায়ক্রমে তালবীজ রোপণ করা হবে। এরই মধ্যে জয়নগর, সোনাবাড়িয়া, কুশোডাঙ্গা ও দেয়াড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে তালবীজ রোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আসিফ ইকবাল চয়ন বলেন, উচ্চ ভবনে বজ্রপাতের ক্ষতি কমাতে যেমন প্রকৌশলগতভাবে লাইটনিং অ্যারেস্টার ব্যবহার করা হয়, তেমনি গ্রামীণ এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে তালগাছের বিস্তার ঘটিয়ে বজ্রপাতের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। প্রতি বছর বজ্রপাতে মানুষ ও গবাদিপশুর প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তাই দীর্ঘমেয়াদে তালগাছের একটি প্রাকৃতিক বলয় গড়ে তুলে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখাই তাঁর উদ্দেশ্য। তিনি আরও জানান, তাঁর এ উদ্যোগে স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষী, প্রবাসী এবং বিভিন্ন এলাকার গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছেন। অনেকেই বিনামূল্যে হাজার হাজার তালবীজ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। প্রতিদিনের কর্মসূচিতে স্থানীয় ভ্যানচালক, শ্রমজীবী মানুষ ও বিপুলসংখ্যক তরুণ স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিচ্ছেন। এ বিষয়ে আলাপকালে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তরুণ প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক ও নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কাজে সম্পৃক্ত করাও তাঁর এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাঁর প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে এলে কলারোয়ায় একটি সবুজ ও পরিবেশসম্মত জনপদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এদিকে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় ও মহতী সামাজিক কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। আসিফ ইকবাল চয়ন তাঁর অনুসারী ও বন্ধুদের নিয়ে কলারোয়ার বিভিন্ন সড়কের পাশে বজ্রপাত প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে তালবীজ ও চারা রোপণ করছেন। ইউএনও আরও জানান, কর্মসূচি শুরুর আগেই আসিফ ইকবাল চয়ন উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্যোগটির বিষয়ে অবহিত করেছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সামাজিক কল্যাণ ও পরিবেশ রক্ষামূলক উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে। ব্যক্তিগত অর্থায়ন, স্বেচ্ছাশ্রম এবং তরুণদের অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন কলারোয়ার সড়কগুলো সবুজে আচ্ছাদিত হবে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কলারোয়ায় ১০০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে তালবীজ রোপণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

Update Time : ১০:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি:
বজ্রপাত প্রতিরোধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ১০০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে তালবীজ রোপণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কলারোয়ার যুগিখালি গ্রামের তরুণ সিভিল প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় ২০২৪ সাল থেকে তিনি এ পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছেন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে উপজেলার ১২ নম্বর যুগিখালী ইউনিয়নের প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করেন আসিফ ইকবাল চয়ন। ইতোমধ্যে রোপণ করা বীজের প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে চারা গজিয়েছে। এ সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে এবার পুরো উপজেলায় বৃহৎ পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ছয় বছরের মধ্যে কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন প্রধান ও আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটারজুড়ে পর্যায়ক্রমে তালবীজ রোপণ করা হবে। এরই মধ্যে জয়নগর, সোনাবাড়িয়া, কুশোডাঙ্গা ও দেয়াড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে তালবীজ রোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আসিফ ইকবাল চয়ন বলেন, উচ্চ ভবনে বজ্রপাতের ক্ষতি কমাতে যেমন প্রকৌশলগতভাবে লাইটনিং অ্যারেস্টার ব্যবহার করা হয়, তেমনি গ্রামীণ এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে তালগাছের বিস্তার ঘটিয়ে বজ্রপাতের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। প্রতি বছর বজ্রপাতে মানুষ ও গবাদিপশুর প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তাই দীর্ঘমেয়াদে তালগাছের একটি প্রাকৃতিক বলয় গড়ে তুলে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখাই তাঁর উদ্দেশ্য। তিনি আরও জানান, তাঁর এ উদ্যোগে স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষী, প্রবাসী এবং বিভিন্ন এলাকার গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছেন। অনেকেই বিনামূল্যে হাজার হাজার তালবীজ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। প্রতিদিনের কর্মসূচিতে স্থানীয় ভ্যানচালক, শ্রমজীবী মানুষ ও বিপুলসংখ্যক তরুণ স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিচ্ছেন। এ বিষয়ে আলাপকালে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তরুণ প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক ও নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কাজে সম্পৃক্ত করাও তাঁর এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাঁর প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে এলে কলারোয়ায় একটি সবুজ ও পরিবেশসম্মত জনপদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এদিকে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় ও মহতী সামাজিক কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। আসিফ ইকবাল চয়ন তাঁর অনুসারী ও বন্ধুদের নিয়ে কলারোয়ার বিভিন্ন সড়কের পাশে বজ্রপাত প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে তালবীজ ও চারা রোপণ করছেন। ইউএনও আরও জানান, কর্মসূচি শুরুর আগেই আসিফ ইকবাল চয়ন উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্যোগটির বিষয়ে অবহিত করেছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সামাজিক কল্যাণ ও পরিবেশ রক্ষামূলক উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে। ব্যক্তিগত অর্থায়ন, স্বেচ্ছাশ্রম এবং তরুণদের অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন কলারোয়ার সড়কগুলো সবুজে আচ্ছাদিত হবে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।