০২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চেক প্রতারণা: মানামী লঞ্চের মালিক আবদুস সালামের ১ বছরের কারাদণ্ড, ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা জরিমানা

Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৭ Time View

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী বিলাসবহুল ‘এমভি মানামী’ লঞ্চের অন্যতম মালিক ও সালাম শিপিং লাইনস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালামকে চেক প্রতারণার মামলায় ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
​ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক মেহেদী হাসান সম্প্রতি এ রায় ঘোষণা করেন।
​মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮/১৪০ ধারায় ইসমত আরা নামের এক শেয়ারহোল্ডার বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নং: সিআর ৮৩৭/৩১)।
​অভিযোগে বলা হয়:
​জয়েন্ট স্টকের মালিকানা চুক্তি অনুযায়ী মানামী লঞ্চের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ আলম, শেয়ারহোল্ডার ইসমত আরা এবং আহমেদ জাকিকে যৌথভাবে লঞ্চ পরিচালনা ও আয়-ব্যয়ের হিসাব করার কথা ছিল।
​কিন্তু চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম কৌশলে অন্য অংশীদারদের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেন।
​দীর্ঘ তিন বছর তিনি কোনো ধরনের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেননি, উল্টো অন্য অংশীদারদের নানাভাবে হুমকি প্রদান করেন।
​চেক ডিজঅনারের ঘটনা
​পরবর্তীতে অংশীদারদের এক সমঝোতা বৈঠকে তিন বছরের হিসাব চূড়ান্ত করে ইসমত আরাকে ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। দেনা মেটাতে আবদুস সালাম নির্ধারিত অঙ্কের একটি চেক প্রদান করেন।
​ইসমত আরা চেকটি নগদায়নের জন্য ঢাকার সিটি ব্যাংক গুলশান শাখায় জমা দিলে তা পরপর তিনবার ডিজঅনার হয়। এরপর কোনো সুরাহা না হওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এনআই অ্যাক্টে মামলা করেন।
​সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া
​”তৎকালীন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে আবদুস সালাম এই অনিয়ম করেছিলেন। বিষয়টি লঞ্চ মালিক সমিতি জানে। আদালতের রায় অনুযায়ী এখন তাকে আইনের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে।”
— শেখ আবদুর রহিম, সিনিয়র সহসভাপতি, বরিশাল লঞ্চ মালিক সমিতি।
​এদিকে রায়ের বিষয়ে সালাম শিপিং লাইনস লিমিটেডের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মানামী লঞ্চের সুপারভাইজার বাপ্পি জানান, চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দেশে ফিরলে বা তার সাথে যোগাযোগ হলে বিষয়টি স্পষ্ট করা সম্ভব হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

চেক প্রতারণা: মানামী লঞ্চের মালিক আবদুস সালামের ১ বছরের কারাদণ্ড, ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা জরিমানা

Update Time : ১১:৪১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী বিলাসবহুল ‘এমভি মানামী’ লঞ্চের অন্যতম মালিক ও সালাম শিপিং লাইনস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালামকে চেক প্রতারণার মামলায় ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
​ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক মেহেদী হাসান সম্প্রতি এ রায় ঘোষণা করেন।
​মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮/১৪০ ধারায় ইসমত আরা নামের এক শেয়ারহোল্ডার বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নং: সিআর ৮৩৭/৩১)।
​অভিযোগে বলা হয়:
​জয়েন্ট স্টকের মালিকানা চুক্তি অনুযায়ী মানামী লঞ্চের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ আলম, শেয়ারহোল্ডার ইসমত আরা এবং আহমেদ জাকিকে যৌথভাবে লঞ্চ পরিচালনা ও আয়-ব্যয়ের হিসাব করার কথা ছিল।
​কিন্তু চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম কৌশলে অন্য অংশীদারদের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেন।
​দীর্ঘ তিন বছর তিনি কোনো ধরনের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেননি, উল্টো অন্য অংশীদারদের নানাভাবে হুমকি প্রদান করেন।
​চেক ডিজঅনারের ঘটনা
​পরবর্তীতে অংশীদারদের এক সমঝোতা বৈঠকে তিন বছরের হিসাব চূড়ান্ত করে ইসমত আরাকে ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। দেনা মেটাতে আবদুস সালাম নির্ধারিত অঙ্কের একটি চেক প্রদান করেন।
​ইসমত আরা চেকটি নগদায়নের জন্য ঢাকার সিটি ব্যাংক গুলশান শাখায় জমা দিলে তা পরপর তিনবার ডিজঅনার হয়। এরপর কোনো সুরাহা না হওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এনআই অ্যাক্টে মামলা করেন।
​সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া
​”তৎকালীন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে আবদুস সালাম এই অনিয়ম করেছিলেন। বিষয়টি লঞ্চ মালিক সমিতি জানে। আদালতের রায় অনুযায়ী এখন তাকে আইনের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে।”
— শেখ আবদুর রহিম, সিনিয়র সহসভাপতি, বরিশাল লঞ্চ মালিক সমিতি।
​এদিকে রায়ের বিষয়ে সালাম শিপিং লাইনস লিমিটেডের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মানামী লঞ্চের সুপারভাইজার বাপ্পি জানান, চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দেশে ফিরলে বা তার সাথে যোগাযোগ হলে বিষয়টি স্পষ্ট করা সম্ভব হবে।