০৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​দীর্ঘ ১৭ বছর পর মোংলায় প্রধানমন্ত্রী: দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব গড়ার আশায় উদ্যোক্তারা

​শাওন আকবার শান্ত, মোংলা প্রতিনিধি:
  • Update Time : ০৮:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৭ Time View

​দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর প্রথমবার মোংলা বন্দর পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সফরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নানা সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজছেন মোংলা অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা।
​সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের জেটি কার্যক্রম এবং বন্দর সংলগ্ন ইকোনমিক জোন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখবেন। এছাড়া হেলিকপ্টারে করে সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন স্পট এবং মোংলা বন্দর চ্যানেলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
​প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনের সংসদ সদস্য এবং বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনের মধ্য দিয়ে চীনে বিনিয়োগ আকর্ষণ, মোংলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, মোংলা-খুলনা সড়ককে ৬ লেনে উন্নীতকরণ এবং ট্রানজিট সুবিধা কাজে লাগিয়ে মোংলা বন্দরকে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
​প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে মোংলা সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, “শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে মোংলা ইপিজেডসহ আশপাশের শিল্প এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি দূর হলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং বিশ্ববাজারে দেশীয় ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারবে।” এছাড়া মোংলা বন্দর চ্যানেলে স্থায়ী ড্রেজিং ব্যবস্থা নেওয়া এবং মোংলা রেল ও সড়কপথের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করে কম খরচে রাজধানীসহ সারাদেশে দ্রুত পণ্য পরিবহনের ওপর জোর দেন তিনি।
​একই সুর ফুটে উঠেছে মোংলা শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের বক্তব্যেও। তিনি জানান, বর্তমানে বন্দরে জাহাজ আসার সংখ্যা কমছে। তাই চ্যানেল ড্রেজিংয়ের স্থায়ী সমাধান ও রামপাল বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি দূর করে বন্দর পরিচালনায় গতি ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
​অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মতে, মোংলা বন্দরের যথেষ্ট সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় এটি পিছিয়ে রয়েছে। মোংলা বন্দরভিত্তিক স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. খোরশেদ আলম বলেন, “আমলাতান্ত্রিক হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধ করে সরকার প্রধানের ঘোষিত ‘বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি এই সফরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।”
​এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর পুরোপুরি সরকারি হলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। পুরো বাগেরহাট জেলা জুড়ে আনন্দ মিছিল ও র‍্যালি বের করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
​মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার জানান, “দেশ পরিচালনায় দূরদর্শী নেতৃত্বের পাশাপাশি মোংলা বন্দরের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী। তার এই আগমন মোংলাবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের।” দলের পক্ষ থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

​দীর্ঘ ১৭ বছর পর মোংলায় প্রধানমন্ত্রী: দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব গড়ার আশায় উদ্যোক্তারা

Update Time : ০৮:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

​দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর প্রথমবার মোংলা বন্দর পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সফরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নানা সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজছেন মোংলা অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা।
​সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের জেটি কার্যক্রম এবং বন্দর সংলগ্ন ইকোনমিক জোন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখবেন। এছাড়া হেলিকপ্টারে করে সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন স্পট এবং মোংলা বন্দর চ্যানেলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
​প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনের সংসদ সদস্য এবং বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনের মধ্য দিয়ে চীনে বিনিয়োগ আকর্ষণ, মোংলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, মোংলা-খুলনা সড়ককে ৬ লেনে উন্নীতকরণ এবং ট্রানজিট সুবিধা কাজে লাগিয়ে মোংলা বন্দরকে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
​প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে মোংলা সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, “শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে মোংলা ইপিজেডসহ আশপাশের শিল্প এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি দূর হলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং বিশ্ববাজারে দেশীয় ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারবে।” এছাড়া মোংলা বন্দর চ্যানেলে স্থায়ী ড্রেজিং ব্যবস্থা নেওয়া এবং মোংলা রেল ও সড়কপথের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করে কম খরচে রাজধানীসহ সারাদেশে দ্রুত পণ্য পরিবহনের ওপর জোর দেন তিনি।
​একই সুর ফুটে উঠেছে মোংলা শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের বক্তব্যেও। তিনি জানান, বর্তমানে বন্দরে জাহাজ আসার সংখ্যা কমছে। তাই চ্যানেল ড্রেজিংয়ের স্থায়ী সমাধান ও রামপাল বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি দূর করে বন্দর পরিচালনায় গতি ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
​অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মতে, মোংলা বন্দরের যথেষ্ট সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় এটি পিছিয়ে রয়েছে। মোংলা বন্দরভিত্তিক স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. খোরশেদ আলম বলেন, “আমলাতান্ত্রিক হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধ করে সরকার প্রধানের ঘোষিত ‘বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি এই সফরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।”
​এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর পুরোপুরি সরকারি হলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। পুরো বাগেরহাট জেলা জুড়ে আনন্দ মিছিল ও র‍্যালি বের করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
​মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার জানান, “দেশ পরিচালনায় দূরদর্শী নেতৃত্বের পাশাপাশি মোংলা বন্দরের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী। তার এই আগমন মোংলাবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের।” দলের পক্ষ থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।