ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬,
১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় শিশু জান্নাতুল হত্যা: ৬ মাসেও মেলেনি রহস্য, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

md afzal Hossain shubo
  • প্রকাশের সময় : ১২:৪১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 29

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল হত্যাকাণ্ডের প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও মূল রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ার অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত আসা আসামিদের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার দাবি করে নিজেদের এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অসহায়ত্ব ও ন্যায়বিচারের আর্তি তুলে ধরেন নিহত শিশুর স্বজনরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত জান্নাতুলের ফুফাতো ভাই মিজানুর রহমান। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন শিশুটির মা ইয়াসমিন আক্তার ও বাবা মো. আর্শাদ মিয়া।
নিখোঁজ ও লাশ উদ্ধার প্রসঙ্গ:
সংবাদ সম্মেলনে জানানো ও মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, গত ৪ মে বিকেলে কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের হুগলী গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয় শিশু জান্নাতুল। স্থানীয়ভাবে খোঁজাখুঁজির পর সন্ধান না পেয়ে ৫ মে কলমাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। দুদিন পর ৬ মে সকালে বাড়ির অদূরে একটি ধানখেত থেকে মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় তার ক্ষতবিক্ষত ও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই নিহত জান্নাতুলের বাবা আর্শাদ মিয়া বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে গাফিলতি ও নিরাপত্তার অভাব:
মামলাটি বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত করছে। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর গুরুত্বপূর্ণ আলামতগুলো ফরেনসিক ল্যাবে পাঠাতে দীর্ঘ বিলম্ব করা হয়েছে। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তকাজে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছিল, তারা সম্প্রতি আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। জামিনে আসার পর থেকেই আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য এবং আদালতে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য বাদী ও সাক্ষীদের নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রকাশ্য প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এই বিষয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২৮ অক্টোবর কলমাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বাদী মো. আর্শাদ মিয়া।
পাঁচ দফা দাবি:
ন্যায়বিচারের স্বার্থে সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সাথে সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, বিশেষায়িত সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত, আলামত বিশ্লেষণ, প্রধান আসামির জামিন আদেশ পুনর্বিবেচনা এবং বাদী ও সাক্ষীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নিহত শিশুর পরিবারের সদস্যরা স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং পাঁচ বছরের নিষ্পাপ শিশুর পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পেছনের সত্য উন্মোচন এবং অবশিষ্ট সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের একমাত্র দাবি।

Please Share This Post in Your Social Media

রিপোর্টারের তথ্য
আফজাল হোসেন শুভ

আফজাল হোসেন শুভ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

নেত্রকোনায় শিশু জান্নাতুল হত্যা: ৬ মাসেও মেলেনি রহস্য, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশের সময় : ১২:৪১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল হত্যাকাণ্ডের প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও মূল রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ার অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত আসা আসামিদের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার দাবি করে নিজেদের এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অসহায়ত্ব ও ন্যায়বিচারের আর্তি তুলে ধরেন নিহত শিশুর স্বজনরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত জান্নাতুলের ফুফাতো ভাই মিজানুর রহমান। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন শিশুটির মা ইয়াসমিন আক্তার ও বাবা মো. আর্শাদ মিয়া।
নিখোঁজ ও লাশ উদ্ধার প্রসঙ্গ:
সংবাদ সম্মেলনে জানানো ও মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, গত ৪ মে বিকেলে কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের হুগলী গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয় শিশু জান্নাতুল। স্থানীয়ভাবে খোঁজাখুঁজির পর সন্ধান না পেয়ে ৫ মে কলমাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। দুদিন পর ৬ মে সকালে বাড়ির অদূরে একটি ধানখেত থেকে মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় তার ক্ষতবিক্ষত ও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই নিহত জান্নাতুলের বাবা আর্শাদ মিয়া বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে গাফিলতি ও নিরাপত্তার অভাব:
মামলাটি বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত করছে। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর গুরুত্বপূর্ণ আলামতগুলো ফরেনসিক ল্যাবে পাঠাতে দীর্ঘ বিলম্ব করা হয়েছে। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তকাজে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছিল, তারা সম্প্রতি আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। জামিনে আসার পর থেকেই আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য এবং আদালতে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য বাদী ও সাক্ষীদের নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রকাশ্য প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এই বিষয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২৮ অক্টোবর কলমাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বাদী মো. আর্শাদ মিয়া।
পাঁচ দফা দাবি:
ন্যায়বিচারের স্বার্থে সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সাথে সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, বিশেষায়িত সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত, আলামত বিশ্লেষণ, প্রধান আসামির জামিন আদেশ পুনর্বিবেচনা এবং বাদী ও সাক্ষীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নিহত শিশুর পরিবারের সদস্যরা স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং পাঁচ বছরের নিষ্পাপ শিশুর পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পেছনের সত্য উন্মোচন এবং অবশিষ্ট সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের একমাত্র দাবি।