০৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গবেষণা-উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান চীফ হুইপের

মোঃ মাসুম মিয়া স্টাফ রিপোর্টার।
  • Update Time : ০৪:১০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৫ Time View

মানুষের অস্তিত্ব, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

শনিবার(২৬ সেপ্টেম্বর )ঢাকার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জ্যুলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চীফ হুইপ বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম মৌলিক শর্ত খাদ্য। আর খাদ্যসংস্থান সরাসরি উদ্ভিদ ও বিভিন্ন প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রাণী ও উদ্ভিদকূলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা মানে মানুষের খাদ্য ও জীবনব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, নদী, হাওড়, বন, পাহাড়, জলাভূমি ও সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির আবাসস্থল। এসব বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হলে এর প্রভাব মানুষের জীবন, খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও পড়বে। তাই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, “প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের গবেষণাকে শুধু একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। গবেষণার ফলাফলকে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি তরুণ প্রজন্মকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং টেকসই গবেষণার মাধ্যমে তরুণরা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চীফ হুইপ বলেন, রাজনীতি বা তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি মানুষের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা ও সন্তানদের সুশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
সভায় দেশের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, ড. মো. খালেদ কানাক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গবেষক, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জীববৈচিত্র্য রক্ষা শুধু প্রকৃতি সংরক্ষণের বিষয় নয়—এটি মানুষের খাদ্য, জীবন, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন চীফ হুইপ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গবেষণা-উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান চীফ হুইপের

Update Time : ০৪:১০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানুষের অস্তিত্ব, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

শনিবার(২৬ সেপ্টেম্বর )ঢাকার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জ্যুলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চীফ হুইপ বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম মৌলিক শর্ত খাদ্য। আর খাদ্যসংস্থান সরাসরি উদ্ভিদ ও বিভিন্ন প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রাণী ও উদ্ভিদকূলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা মানে মানুষের খাদ্য ও জীবনব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, নদী, হাওড়, বন, পাহাড়, জলাভূমি ও সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির আবাসস্থল। এসব বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হলে এর প্রভাব মানুষের জীবন, খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও পড়বে। তাই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, “প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের গবেষণাকে শুধু একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। গবেষণার ফলাফলকে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি তরুণ প্রজন্মকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং টেকসই গবেষণার মাধ্যমে তরুণরা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চীফ হুইপ বলেন, রাজনীতি বা তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি মানুষের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা ও সন্তানদের সুশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
সভায় দেশের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, ড. মো. খালেদ কানাক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গবেষক, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জীববৈচিত্র্য রক্ষা শুধু প্রকৃতি সংরক্ষণের বিষয় নয়—এটি মানুষের খাদ্য, জীবন, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন চীফ হুইপ।