০৭:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ বছর ধরে অকেজো খানসামার একমাত্র স্লুইসগেট: দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের কৃষক ও মৎস্যচাষী

Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৪১ Time View

​দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ৪ নম্বর খামারপাড়া ইউনিয়নের জোয়ার কালিরবাজার সংলগ্ন বেলান নদীর ওপর নির্মিত একমাত্র স্লুইসগেটটি (কপাটিপুল) দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ব্রিটিশ কিংবা পাকিস্তান আমলের প্রাচীন এই অবকাঠামোটি সংস্কারের অভাবে বর্তমানে পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী। এর ফলে ওই এলাকার কৃষি ও মৎস্য খাতে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সাল থেকে এই স্লুইসগেটটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এর পর থেকে প্রতি বর্ষা মৌসুমে কিংবা সামান্য বৃষ্টিতেই চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় আশেপাশের কয়েক গ্রামের মানুষকে। পার্শ্ববর্তী আত্রাই নদী ও স্থানীয় নদ-নদীর উপচে পড়া পানির সঠিক নিষ্কাশন ও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্লাবিত হচ্ছে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি। পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় মৌসুমী ফসলহানির আশঙ্কায় থাকেন কৃষকেরা।
​শুধু কৃষিতেই নয়, এই সমস্যার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মৎস্য খণ্ডেও। স্লুইসগেট সচল না থাকায় বেলান নদী ও সংলগ্ন পুকুরগুলোতে পানির লেভেল ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় চাষীরা পুকুরে সঠিকভাবে মাছ চাষ করতে পারছেন না, যা তাদের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
​এলাকাবাসীর দাবি, প্রাচীন এই স্লুইসগেটটি দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা গেলে আত্রাই নদী থেকে আসা অতিরিক্ত পানির দুশ্চিন্তা দূর হবে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সঠিকভাবে ধরে রেখে ও নিষ্কাশন করে শত শত হেক্টর জমিতে ফলন বৃদ্ধি এবং পুকুরে পুরোদমে মাছ চাষ সম্ভব হবে।
​ভুক্তভোগী কৃষক, মৎস্যচাষী ও সর্বস্তরের জনগণ অনতিবিলম্বে প্রাচীন এই কপাটিপুল/স্লুইসগেটটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

১৬ বছর ধরে অকেজো খানসামার একমাত্র স্লুইসগেট: দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের কৃষক ও মৎস্যচাষী

Update Time : ০১:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ৪ নম্বর খামারপাড়া ইউনিয়নের জোয়ার কালিরবাজার সংলগ্ন বেলান নদীর ওপর নির্মিত একমাত্র স্লুইসগেটটি (কপাটিপুল) দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ব্রিটিশ কিংবা পাকিস্তান আমলের প্রাচীন এই অবকাঠামোটি সংস্কারের অভাবে বর্তমানে পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী। এর ফলে ওই এলাকার কৃষি ও মৎস্য খাতে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সাল থেকে এই স্লুইসগেটটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এর পর থেকে প্রতি বর্ষা মৌসুমে কিংবা সামান্য বৃষ্টিতেই চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় আশেপাশের কয়েক গ্রামের মানুষকে। পার্শ্ববর্তী আত্রাই নদী ও স্থানীয় নদ-নদীর উপচে পড়া পানির সঠিক নিষ্কাশন ও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্লাবিত হচ্ছে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি। পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় মৌসুমী ফসলহানির আশঙ্কায় থাকেন কৃষকেরা।
​শুধু কৃষিতেই নয়, এই সমস্যার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মৎস্য খণ্ডেও। স্লুইসগেট সচল না থাকায় বেলান নদী ও সংলগ্ন পুকুরগুলোতে পানির লেভেল ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় চাষীরা পুকুরে সঠিকভাবে মাছ চাষ করতে পারছেন না, যা তাদের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
​এলাকাবাসীর দাবি, প্রাচীন এই স্লুইসগেটটি দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা গেলে আত্রাই নদী থেকে আসা অতিরিক্ত পানির দুশ্চিন্তা দূর হবে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সঠিকভাবে ধরে রেখে ও নিষ্কাশন করে শত শত হেক্টর জমিতে ফলন বৃদ্ধি এবং পুকুরে পুরোদমে মাছ চাষ সম্ভব হবে।
​ভুক্তভোগী কৃষক, মৎস্যচাষী ও সর্বস্তরের জনগণ অনতিবিলম্বে প্রাচীন এই কপাটিপুল/স্লুইসগেটটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন।