সিরাজগঞ্জে জমি বন্ধকীর পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: হাসপাতালে ৫, থানায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
- Update Time : ০৮:২৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৩ Time View

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের আগবয়রা গ্রামে জমি বন্ধকের পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ সদর থানায় ২৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
বিরোধের নেপথ্যে জমি বন্ধকী লেনদেন
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, আগবয়রা গ্রামের রমু আলম দুদু তার শালিকা পপি খাতুনের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় একটি জমি বন্ধক নেন। জমিটি বর্গা চাষের মাধ্যমে ফসল দেওয়ার কথা থাকলেও ২০২৩ সালে মাত্র ছয় মণ ধান দেওয়ার পর আর কোনো ফসল বা টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। পাওনা টাকা ও জমির বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে দিন দিন দুই পক্ষের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।
বাকবিতণ্ডা থেকে অতর্কিত হামলা
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আগবয়রা গ্রামের সোহাগ রানা ওরফে টুকুর বাড়ির সামনের পাকা সড়কে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। অভিযোগকারী মো. মুকুল হোসেনের বড় ভাই রব্বানী তালুকদার পাওনা টাকা পরিশোধের বিষয়ে রমু আলম দুদুর সাথে কথা বলতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের একদল লোক দেশীয় অস্ত্র—দা, ছোরা, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে রব্বানী তালুকদারকে ঘিরে ফেলে বেধড়ক মারধর ও মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তাকে রক্ষা করতে স্বজনরা এগিয়ে এলে রেজাউল করিম পাশা, হায়দার আলী, হযরত আলী ও সোহরাব আলীও গুরুতর আহত হন।
চিকিৎসাধীন আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক
হামলার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সিএনজিযোগে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে তাদের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আহতরা। স্বজনদের দাবি, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
২৭ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ
ঘটনার পর আহতদের পক্ষে মো. মুকুল হোসেন সিরাজগঞ্জ সদর থানায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগভুক্ত প্রধান আসামিরা হলেন:
রঞ্জু আলম দুদু (৪২), ফিরোজ প্রামাণিক (৪০), জেল হোসেন (৭০), রফিকুল ইসলাম (৪৫), আব্দুল হামিদ ওরফে বাদুলী (৫৮), সাইদুল ইসলাম (৫৫), ওমর ফারুক লিমন (১৯), গোলাম হোসেন (৫৫), বাদশা (৫২), রহমত আলী (৩৮), আনোয়ার হোসেন (২৭), হীরা (৩২), আলিম প্রামাণিক (৪৫), হবিবার রহমান খান (৭০), জাহাঙ্গীর (৩৮), জয়নাল আবেদীন (৬৫), মকবুল প্রামাণিক (৬০), আব্দুস সাত্তার (৬০), মিন্টু প্রামাণিক (৫০), আলম (৪৬), রুহুল আমিন (৪৫), ইব্রাহীম প্রামাণিক (৭০), বাহার আলী (৫০), আব্দুর রাজ্জাক (৪৫), আজিবার আলী (৫০), সোলায়মান (৬০) এবং শাহীন (৩৫)। আসামিরা সকলেই আগবয়রা গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগকারী ও পুলিশের বক্তব্য
অভিযোগকারী মুকুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আমার বড় ভাইসহ স্বজনদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। অনেকের মাথায় গুরুতর জখম রয়েছে। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান জানান, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ হস্তগত হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলা রুজু করা হবে।”
বর্তমানে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগবয়রা গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী।



















