ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা: ৩ মাস পর ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত জর্জ মিয়া
- Update Time : ০৮:৪৬:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪১ Time View

তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীর অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তারা। র্যাবের পরিচয় দিয়েও রক্ষা পাননি; উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়িতে আটকে রেখে চালানো হয়েছিল তাণ্ডব। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বহুল আলোচিত সেই ‘শফিক ডাকাত ও তার বাহিনী’ কর্তৃক র্যাব সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনার দীর্ঘ তিন মাস পর তদন্তে প্রাপ্ত মূল এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মোঃ জর্জ মিয়া (৫৫)। সে নবীনগর থানার খাগাতুয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত হাজী হরন মিয়ার ছেলে। গতকাল ১৮ আগস্ট দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানাধীন নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তথ্য সংগ্রহের সময় যেভাবে হামলা চালানো হয়
ঘটনার সূত্রপাত গত ১১ মে ২০২৬ তারিখ বিকেলে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই দিন আনুমানিক বিকেল ৪টায় র্যাব-৯, সিপিসি-১ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এর একটি সাধারণ পোশাকের গোয়েন্দা দল দাপ্তরিক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলযোগে নবীনগর হয়ে বাঞ্ছারামপুর থানার দিকে যাচ্ছিল।
পথিমধ্যে নবীনগর থানাধীন রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া বলিাপাড় গ্রামে পৌঁছালে আগে থেকে উৎ পেতে থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘শফিক ডাকাত’ ও তার বাহিনীর সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের পথরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই র্যাব সদস্যদের মোটরসাইকেল থামিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দেওয়ার পরও সন্ত্রাসীরা ক্ষান্ত হয়নি; বরং আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে র্যাব সদস্যদের জোরপূর্বক একটি বাড়িতে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর ও গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়। খবর পেয়ে র্যাবের একটি আভিযানিক দল স্থানীয় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় অবরুদ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।
আইনি পদক্ষেপ ও অভিযান
এ ঘটনায় র্যাবের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে নবীনগর থানায় একটি মামলা (মামলা নং- ২১, তারিখ: ১৩/০৫/২০২৬; ধারা- ১৮৬/১৮৭/১৮৯/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৩৮২ পেনাল কোড) দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র্যাব।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং স্থানীয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে টিকিয়ে রাখার একটি অপচেষ্টা। র্যাব সূত্র জানায়, এর আগেও এই হামলার ঘটনায় জড়িত ১১ জন আসামিকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব-৯। সর্বশেষ জর্জ মিয়া গ্রেফতার হওয়ায় মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি এলো।
পরবর্তী ব্যবস্থা
গ্রেফতারকৃত জর্জ মিয়াকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ‘শফিক ডাকাত’সহ এই বাহিনীর বাকি পলাতক সদস্যদের ধরতে র্যাব-৯ এর বিশেষ গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।





















