লামা প্রেস ক্লাব: সাংবাদিকদের ঐক্য, অধিকার ও উন্মুক্ততার প্রশ্ন
- Update Time : ০১:৫২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৯ Time View

আজিজুল হাকিম তুহিন, বিশেষ প্রতিনিধি
লামা প্রেস ক্লাবের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে ‘লামা-আলীকদম প্রেস ক্লাব’ নামে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। ১৪ মে ১৯৯১ সালে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং একই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ভবন উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে আলীকদম প্রেস ক্লাব পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে ‘লামা প্রেস ক্লাব’ করা হয়।
একটি প্রেস ক্লাব শুধু একটি ভবন কিংবা কয়েকজন সদস্যের সংগঠন নয়। এটি সাংবাদিকদের পেশাগত যোগাযোগ, মতবিনিময়, সংবাদ সংগ্রহ, সংবাদ সম্মেলন, প্রশিক্ষণ, অধিকার আদায় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই সদস্যপদ, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত—সবকিছুই হওয়া উচিত গঠনতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে।
কিন্তু বর্তমানে লামা প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ ও নেতৃত্ব নিয়ে যে আলোচনা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে, তা সাংবাদিক সমাজের সামনে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে।
প্রশ্ন হলো—
১. লামা প্রেস ক্লাবের অনুমোদিত গঠনতন্ত্রে মোট সদস্যসংখ্যা কত?
২. সদস্য হওয়ার যোগ্যতার সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড কী?
৩. কর্মরত ও যোগ্য নতুন সংবাদকর্মীদের সদস্য হওয়ার সুযোগ কতটা উন্মুক্ত?
৪. সদস্যপদ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো লিখিত আবেদন, যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া রয়েছে কি?
৫. ১১ জনের সদস্যসংখ্যা নির্ধারণের ভিত্তি কী এবং তা কোন গঠনতন্ত্রের ধারায় নির্ধারিত?
৬. নতুন সংবাদকর্মীদের সদস্যপদ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলে তার লিখিত কারণ কী?
৭. নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি উঠলে কোন কমিটিকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং তার সাংগঠনিক ভিত্তি কী?
৮. সদস্য তালিকা, গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনসংক্রান্ত নথি কি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কাছে উন্মুক্ত করা যায় না?
৯. একটি সাংবাদিক সংগঠনে মতপার্থক্য থাকতেই পারে; কিন্তু সেই মতপার্থক্যের সমাধান কি আলোচনার মাধ্যমে হতে পারে না?
১০. লামা প্রেস ক্লাব কি ভবিষ্যতে আরও বেশি সাংবাদিকের অংশগ্রহণের জন্য একটি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো তৈরি করবে?
সদস্যপদ হতে পারে আরও সুসংগঠিত
যদি অনুমোদিত গঠনতন্ত্রে সুযোগ থাকে, তাহলে সদস্যপদকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
১. স্থায়ী সদস্য: দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ও পেশাগতভাবে সাংবাদিকতায় যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য।
২. প্রবেশনারি সদস্য: নতুন বা নবীন সংবাদকর্মীদের নির্দিষ্ট সময়ের পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের পর সদস্যপদ দেওয়ার ব্যবস্থা।
৩. সহযোগী সদস্য: যারা নিয়মিত সাংবাদিকতা করছেন, কিন্তু পূর্ণ সদস্য হওয়ার পূর্বশর্ত পূরণে সময় প্রয়োজন—তাদের জন্য স্বচ্ছ একটি কাঠামো।
৪. সম্মানসূচক সদস্য: সাংবাদিকতা, সমাজসেবা বা জনস্বার্থে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের জন্য, অবশ্যই গঠনতন্ত্রের অনুমোদন সাপেক্ষে।
এ ধরনের কাঠামো থাকলে পুরোনো সদস্যদের মর্যাদা যেমন অক্ষুণ্ণ থাকতে পারে, তেমনি যোগ্য নতুন সংবাদকর্মীদের জন্যও পেশাগত সংগঠনে প্রবেশের একটি নিয়মতান্ত্রিক পথ তৈরি হতে পারে।
বিরোধ নয়, দরকার স্বচ্ছতা
বর্তমান পরিস্থিতিতে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অভিযুক্ত বা হেয় করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—লামা প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্র, সদস্য তালিকা ও নির্বাচনসংক্রান্ত নথি সামনে আনা।
কারণ নিয়ম পরিষ্কার থাকলে বিতর্কের অবকাশ কমে। সদস্য হওয়ার যোগ্যতা যদি নির্ধারিত থাকে, তাহলে সেই যোগ্যতা পূরণকারী প্রত্যেক সংবাদকর্মীর আবেদন যাচাই করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থাকা স্বাভাবিক প্রত্যাশা।
একটি প্রেস ক্লাব যত বেশি উন্মুক্ত, নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক হবে, তার গ্রহণযোগ্যতাও তত বেশি শক্তিশালী হবে।
আমরা কারও বিরুদ্ধে নই। প্রশ্ন করছি একটি প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার স্বার্থে।
লামা প্রেস ক্লাব কি সীমিত সদস্যের একটি সংগঠন হিসেবেই থাকবে, নাকি গঠনতন্ত্রের আলোকে যোগ্য ও কর্মরত সংবাদকর্মীদের জন্য একটি স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এগিয়ে যাবে?
উত্তরটি কোনো ব্যক্তি নয়—দেবে গঠনতন্ত্র, নথি এবং স্বচ্ছ সাংগঠনিক প্রক্রিয়া।
লামা প্রেস ক্লাবের দীর্ঘ ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে ব্যক্তিগত বিরোধ এড়িয়ে নিয়মের কাছে ফিরে যাওয়া, যোগ্যতার ভিত্তিতে সদস্যপদ নির্ধারণ করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা।
কারণ প্রেস ক্লাব কোনো ব্যক্তির একক সম্পদ নয়; এটি সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, অধিকার ও মর্যাদার একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম।



















