১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরাইলে ৯ বছরের শিশুকে নির্জন চরে পাশবিক নির্যাতন: ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী, ফাঁসির দাবি

মোঃ বাদশা মিয়া সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
  • Update Time : ০৯:৪৯:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৭২ Time View

চকলেট ও চিপস কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ৯ বছরের এক অবোধ শিশুকে নির্জন চরে নিয়ে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের তেলিকান্দি উত্তরপাড়া গ্রামে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি—ফাঁসির দাবিতে এখন উত্তাল সরাইল।
​ঘটনার বিবরণ ও মামলা
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৩ মে দুপুরে তেলিকান্দি এলাকার প্রতিবেশী শহিদ মিয়া (৩৫) খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে বাড়ি থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে নৌকায় করে নদীর অপর পাড়ে ‘ডুগাবিল চর’-এর এক পরিত্যক্ত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক নির্যাতন চালানো হয়।
​ঘটনার পরদিন (২৪ মে) ভুক্তভোগীর স্বজন বিলকিছ আক্তার বাদী হয়ে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে শিশুটির ফরেনসিক পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ করে। ইতোমধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছেন।
​ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী
ঘটনার পর থেকেই তেলিকান্দি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব সাহেব সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি অবোধ শিশুর ওপর এমন অত্যাচার কোনো মানুষ করতে পারে না। আমরা বিচার ব্যবস্থার কাছে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি।”
​স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইতিপূর্বেও শিশুদের নানাভাবে ফুসলানোর চেষ্টা করেছে।
​আইনি পর্যবেক্ষণ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি ও মেডিকেল রিপোর্ট মামলায় অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সরাইলে ৯ বছরের শিশুকে নির্জন চরে পাশবিক নির্যাতন: ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী, ফাঁসির দাবি

Update Time : ০৯:৪৯:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চকলেট ও চিপস কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ৯ বছরের এক অবোধ শিশুকে নির্জন চরে নিয়ে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের তেলিকান্দি উত্তরপাড়া গ্রামে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি—ফাঁসির দাবিতে এখন উত্তাল সরাইল।
​ঘটনার বিবরণ ও মামলা
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৩ মে দুপুরে তেলিকান্দি এলাকার প্রতিবেশী শহিদ মিয়া (৩৫) খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে বাড়ি থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে নৌকায় করে নদীর অপর পাড়ে ‘ডুগাবিল চর’-এর এক পরিত্যক্ত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক নির্যাতন চালানো হয়।
​ঘটনার পরদিন (২৪ মে) ভুক্তভোগীর স্বজন বিলকিছ আক্তার বাদী হয়ে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে শিশুটির ফরেনসিক পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ করে। ইতোমধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছেন।
​ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী
ঘটনার পর থেকেই তেলিকান্দি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব সাহেব সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি অবোধ শিশুর ওপর এমন অত্যাচার কোনো মানুষ করতে পারে না। আমরা বিচার ব্যবস্থার কাছে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি।”
​স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইতিপূর্বেও শিশুদের নানাভাবে ফুসলানোর চেষ্টা করেছে।
​আইনি পর্যবেক্ষণ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি ও মেডিকেল রিপোর্ট মামলায় অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা।