১২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে লংমার্চে যাওয়ার পথে দুই জামায়াত নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ।

কে, এম রিমান ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ, প্রতিনিধি:
  • Update Time : ০৮:৫০:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৭ Time View

১১ দলীয় জোটের ঢাকা–রংপুর লংমার্চে অংশ নিতে যাওয়ার সময় সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকায় দুই জামায়াত নেতাকে ছুরিকাঘাত করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে এ হামলার জন্য স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করা হলেও বিএনপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আহত জামায়াত নেতারা হলেন আব্দুস সবুর ও নুরুন্নবী। তাঁদের মধ্যে আব্দুস সবুরের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। প্রথমে তাঁকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার লংমার্চের গাড়িবহর যমুনা সেতু পেরিয়ে সয়দাবাদ এলাকা অতিক্রম করার পর আব্দুস সবুর জোহরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হন। এ সময় পারভেজ, আলামিন ও হাসান নামে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মীর নেতৃত্বে একদল লোক তাঁর ও নুরুন্নবীর ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাঁদের ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলার পর স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আব্দুস সবুরকে বগুড়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জেলা জামায়াতের নেতাদের আরও অভিযোগ, লংমার্চের গাড়িবহর এলাকায় পৌঁছানোর আগে থেকেই বিএনপির কিছু নেতাকর্মী বহরে হামলার চেষ্টা করেন। জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের বাধার কারণে ওই চেষ্টা সফল হয়নি বলে তাঁদের দাবি। পরে গাড়িবহর চলে যাওয়ার পর লংমার্চে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের ওপর বিচ্ছিন্নভাবে হামলা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

তবে জামায়াতের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সয়দাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিক সরকার। তাঁর দাবি, বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনো হামলা করেননি। বরং আল আমিন নামে বিএনপির এক কর্মীকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা মারধর করেছেন। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই জামায়াতের পক্ষ থেকে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।

জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা হয়েছে। তিনি জানান, আহত আব্দুস সবুরকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, তাঁরা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সিরাজগঞ্জে লংমার্চে যাওয়ার পথে দুই জামায়াত নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ।

Update Time : ০৮:৫০:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১১ দলীয় জোটের ঢাকা–রংপুর লংমার্চে অংশ নিতে যাওয়ার সময় সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকায় দুই জামায়াত নেতাকে ছুরিকাঘাত করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে এ হামলার জন্য স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করা হলেও বিএনপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আহত জামায়াত নেতারা হলেন আব্দুস সবুর ও নুরুন্নবী। তাঁদের মধ্যে আব্দুস সবুরের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। প্রথমে তাঁকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার লংমার্চের গাড়িবহর যমুনা সেতু পেরিয়ে সয়দাবাদ এলাকা অতিক্রম করার পর আব্দুস সবুর জোহরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হন। এ সময় পারভেজ, আলামিন ও হাসান নামে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মীর নেতৃত্বে একদল লোক তাঁর ও নুরুন্নবীর ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাঁদের ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলার পর স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আব্দুস সবুরকে বগুড়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জেলা জামায়াতের নেতাদের আরও অভিযোগ, লংমার্চের গাড়িবহর এলাকায় পৌঁছানোর আগে থেকেই বিএনপির কিছু নেতাকর্মী বহরে হামলার চেষ্টা করেন। জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের বাধার কারণে ওই চেষ্টা সফল হয়নি বলে তাঁদের দাবি। পরে গাড়িবহর চলে যাওয়ার পর লংমার্চে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের ওপর বিচ্ছিন্নভাবে হামলা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

তবে জামায়াতের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সয়দাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিক সরকার। তাঁর দাবি, বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনো হামলা করেননি। বরং আল আমিন নামে বিএনপির এক কর্মীকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা মারধর করেছেন। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই জামায়াতের পক্ষ থেকে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।

জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা হয়েছে। তিনি জানান, আহত আব্দুস সবুরকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, তাঁরা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।