০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অসময়ে তরমুজ চাষে আবারও বাজিমাত খলিলের!

Reporter Name
  • Update Time : ০১:১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১১ Time View

শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি:
মৌসুমের অপেক্ষা নয়, আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অমৌসুমেও তরমুজ ফলিয়ে আবারও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন যশোরের মনিরামপুরের কৃষক খলিলুর রহমান। মালচিং পদ্ধতিতে ৬০ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি। গত বছরও অমৌসুমে তরমুজ চাষ করে সাফল্য পেয়েছিলেন এই কৃষক। মনিরামপুর পৌরশহরের তাহেরপুর গ্রামের খলিলুর রহমান একজন মিশ্র ফল ও সবজি চাষি। বছরের বিভিন্ন সময়ে তিনি অন্তত ২৬ জাতের ফল ও সবজি আবাদ করেন। একের পর এক সফলতার কারণে স্বনীয় কৃষকদের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণার নাম। সরেজমিনে দেখা যায়, খলিলের তরমুজ খেতজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ তরমুজ। গাঢ় সবুজ পাতার নিচে উঁকি দিচ্ছে ফল। আধুনিক মালচিং প্রযুক্তিতে চাষ হওয়ায় অসময়ে উৎপাদিত এসব তরমুজের বাজারে চাহিদাও ভালো বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। খলিলুর রহমান বলেন, “এ বছর লিজসহ ৬০ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ফল ধরেছে, আরও ধরবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভের আশা করছি। আগে মনে করতাম তরমুজ শুধু মৌসুমেই হয়। এখন বুঝেছি, প্রযুক্তি ও পরিশ্রম থাকলে অসময়েও ভালো ফলন সম্ভব। “উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “খলিলুর রহমান শুধু তরমুজ চাষেই নয়, বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদে একজন অনুসরণীয় কৃষক। তাঁর খামারটি অনেকটা মডেলের মতো। তাঁকে দেখে অন্য কৃষকরাও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ তাঁর পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।” মনিরামপুর উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শাহানাজ বলেন, “অমৌসুমে তরমুজ চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। সাধারণত তরমুজ গ্রীষ্মকালীন ফসল হলেও আধুনিক মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসময়েও উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এতে ফলনের পাশাপাশি রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়। খলিলুর রহমানের সাফল্য অন্য কৃষকদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

অসময়ে তরমুজ চাষে আবারও বাজিমাত খলিলের!

Update Time : ০১:১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি:
মৌসুমের অপেক্ষা নয়, আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অমৌসুমেও তরমুজ ফলিয়ে আবারও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন যশোরের মনিরামপুরের কৃষক খলিলুর রহমান। মালচিং পদ্ধতিতে ৬০ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি। গত বছরও অমৌসুমে তরমুজ চাষ করে সাফল্য পেয়েছিলেন এই কৃষক। মনিরামপুর পৌরশহরের তাহেরপুর গ্রামের খলিলুর রহমান একজন মিশ্র ফল ও সবজি চাষি। বছরের বিভিন্ন সময়ে তিনি অন্তত ২৬ জাতের ফল ও সবজি আবাদ করেন। একের পর এক সফলতার কারণে স্বনীয় কৃষকদের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণার নাম। সরেজমিনে দেখা যায়, খলিলের তরমুজ খেতজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ তরমুজ। গাঢ় সবুজ পাতার নিচে উঁকি দিচ্ছে ফল। আধুনিক মালচিং প্রযুক্তিতে চাষ হওয়ায় অসময়ে উৎপাদিত এসব তরমুজের বাজারে চাহিদাও ভালো বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। খলিলুর রহমান বলেন, “এ বছর লিজসহ ৬০ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ফল ধরেছে, আরও ধরবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভের আশা করছি। আগে মনে করতাম তরমুজ শুধু মৌসুমেই হয়। এখন বুঝেছি, প্রযুক্তি ও পরিশ্রম থাকলে অসময়েও ভালো ফলন সম্ভব। “উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “খলিলুর রহমান শুধু তরমুজ চাষেই নয়, বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদে একজন অনুসরণীয় কৃষক। তাঁর খামারটি অনেকটা মডেলের মতো। তাঁকে দেখে অন্য কৃষকরাও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ তাঁর পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।” মনিরামপুর উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শাহানাজ বলেন, “অমৌসুমে তরমুজ চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। সাধারণত তরমুজ গ্রীষ্মকালীন ফসল হলেও আধুনিক মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসময়েও উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এতে ফলনের পাশাপাশি রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়। খলিলুর রহমানের সাফল্য অন্য কৃষকদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।”