১১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির মানচিত্র প্রণয়ন: পার্বতীপুরে তিন দিনব্যাপী কর্মশালা সম্পন্ন

মোঃ মশিউর ইসলাম দিনাজপুর প্রতিনিধি:
  • Update Time : ১০:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১২ Time View

​দিনাজপুর: উত্তরাঞ্চলের ১৩টি জেলায় ভূগর্ভস্থ পানির প্রকৃত মজুত, ব্যবহার, চাহিদা ও গুণগত মান নিরূপণ এবং পানি সংকটাপন্ন এলাকা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী কর্মশালা সমাপ্ত হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই কর্মশালাটি সোমবার (১৯ অক্টোবর) সফলভাবে শেষ হয়।
​বাংলাদেশ পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘অ্যাকুইফার ম্যাপিং ও পানি সংকটাপন্ন এলাকা মূল্যায়ন’ শীর্ষক সমীক্ষার অংশ হিসেবে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস’ (সিইজিআইএস) এই কার্যক্রমে কারিগরি সহযোগিতায় যুক্ত রয়েছে। পার্বতীপুরের পাশাপাশি একই দিনে ঠাকুরগাঁও ও কুড়িগ্রামেও অনুরূপ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
​১৩ জেলায় সমীক্ষা ও সংকটের চিত্র
​এই প্রকল্পের আওতায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ, বগুড়া, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ—এই ১৩টি জেলার ভূগর্ভস্থ পানির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে।
​সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে অতিরিক্ত পানি উত্তোলন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং প্রাকৃতিকভাবে পানির পুনর্ভরণ কমে যাওয়ার কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলসহ উত্তরাঞ্চলে নিরাপদ পানির সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রতি বছর গড়ে ০.২৩ থেকে ০.৩৮ মিটার পর্যন্ত পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ ও সংকটাপন্ন এলাকা চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
​স্থানীয় অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
​কর্মশালায় স্থানীয় জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কৃষক, নারী, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে পানি পাওয়ার সুবিধা, দৈনন্দিন ব্যবহার ও সংকটের অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইউনিয়ন ও মৌজা পর্যায়ে পানির সংকটের মানচিত্র তৈরি করা হবে, যা ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
​প্রকল্পের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের একটি নিরাপদ ও টেকসই সীমা নির্ধারণ করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ‘বাংলাদেশ পানি আইন-২০১৩’ এবং ‘পানি বিধিমালা-২০১৮’ কার্যকরে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
​কর্মশালায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মো. আব্দুস সামাদ, মো. আজাদ রহমান, মো. ফাহাদ রহমান, মোছা. জুলেখা আক্তার, মো. মাখুন, মো. বাদশা, মো. শফিকুল ইসলাম, স্বাধীন চন্দ্র, মো. জিয়াউর রহমান, মো. সিরাজুল ইসলাম, নিপেন চন্দ্র, মো. কবির হোসেন, মো. সুমন, মো. আলম, মো. নুর আলম, মনিনা, সুরমানা, কাদেশ, প্রীতি প্রারস ও দুলাদিন্দীসহ আরও অনেকে উপস্থিত থেকে নিজ নিজ অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
​

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

​উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির মানচিত্র প্রণয়ন: পার্বতীপুরে তিন দিনব্যাপী কর্মশালা সম্পন্ন

Update Time : ১০:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

​দিনাজপুর: উত্তরাঞ্চলের ১৩টি জেলায় ভূগর্ভস্থ পানির প্রকৃত মজুত, ব্যবহার, চাহিদা ও গুণগত মান নিরূপণ এবং পানি সংকটাপন্ন এলাকা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী কর্মশালা সমাপ্ত হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই কর্মশালাটি সোমবার (১৯ অক্টোবর) সফলভাবে শেষ হয়।
​বাংলাদেশ পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘অ্যাকুইফার ম্যাপিং ও পানি সংকটাপন্ন এলাকা মূল্যায়ন’ শীর্ষক সমীক্ষার অংশ হিসেবে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস’ (সিইজিআইএস) এই কার্যক্রমে কারিগরি সহযোগিতায় যুক্ত রয়েছে। পার্বতীপুরের পাশাপাশি একই দিনে ঠাকুরগাঁও ও কুড়িগ্রামেও অনুরূপ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
​১৩ জেলায় সমীক্ষা ও সংকটের চিত্র
​এই প্রকল্পের আওতায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ, বগুড়া, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ—এই ১৩টি জেলার ভূগর্ভস্থ পানির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে।
​সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে অতিরিক্ত পানি উত্তোলন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং প্রাকৃতিকভাবে পানির পুনর্ভরণ কমে যাওয়ার কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলসহ উত্তরাঞ্চলে নিরাপদ পানির সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রতি বছর গড়ে ০.২৩ থেকে ০.৩৮ মিটার পর্যন্ত পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ ও সংকটাপন্ন এলাকা চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
​স্থানীয় অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
​কর্মশালায় স্থানীয় জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কৃষক, নারী, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে পানি পাওয়ার সুবিধা, দৈনন্দিন ব্যবহার ও সংকটের অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইউনিয়ন ও মৌজা পর্যায়ে পানির সংকটের মানচিত্র তৈরি করা হবে, যা ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
​প্রকল্পের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের একটি নিরাপদ ও টেকসই সীমা নির্ধারণ করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ‘বাংলাদেশ পানি আইন-২০১৩’ এবং ‘পানি বিধিমালা-২০১৮’ কার্যকরে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
​কর্মশালায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মো. আব্দুস সামাদ, মো. আজাদ রহমান, মো. ফাহাদ রহমান, মোছা. জুলেখা আক্তার, মো. মাখুন, মো. বাদশা, মো. শফিকুল ইসলাম, স্বাধীন চন্দ্র, মো. জিয়াউর রহমান, মো. সিরাজুল ইসলাম, নিপেন চন্দ্র, মো. কবির হোসেন, মো. সুমন, মো. আলম, মো. নুর আলম, মনিনা, সুরমানা, কাদেশ, প্রীতি প্রারস ও দুলাদিন্দীসহ আরও অনেকে উপস্থিত থেকে নিজ নিজ অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
​