উন্নয়নের আলোর নিচে নিকষ আঁধার: জীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন ভোলার, পাশে দাঁড়াবে কে?
- Update Time : ০৪:০৩:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১২ Time View

স্বাধীনতার পর বদলে গেছে দেশের মানচিত্র ও আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট। উন্নয়নের স্পর্শে মানুষের জীবনযাত্রা, যোগাযোগ ও অবকাঠামোতে এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। তবে সেই উন্নয়নগাথার বাইরে এখনও রয়ে গেছেন সমাজের প্রান্তিক কিছু মানুষ। তেমনি এক করুণ বাস্তবতার মুখ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ৫ নম্বর হরিদাসকাটি ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের নিখিল বৈরাগী ওরফে ‘ভোলা’।
দৈনিক আয় ৫০-৮০ টাকা, ভাঙা ঘরে আশ্রয়
নিখিল বৈরাগীর নিজের নামে কোনো জমি নেই, নেই স্থায়ী আয়ের উৎস। মানসিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করা ভোলা স্থানীয় চায়ের দোকানে জ্বালানি কাঠ সরবরাহ করে দিনে মাত্র ৫০ থেকে ৮০ টাকা আয় করেন। এই সামান্য আয় দিয়েই কোনোমতে চলে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর সংসার।
তাদের একমাত্র ছেলে মহাদেব বৈরাগীও তীব্র দারিদ্র্যের শিকার। অন্যের মাছের ঘেরে দিনমজুরি করে যা পান, তা দিয়ে নিজের পরিবার চালানোই দায়। পিতা-পুত্রের চেষ্টায় তৈরি একটি মাত্র এক খোপের ঘরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ভোলা ও তাঁর স্ত্রী বাধ্য হয়ে বাইরে আলাদা ও মানবেতরভাবে থাকছেন।
পাতে নেই পুষ্টিকর খাবার
সমাজের সচ্ছল মানুষের খাবারে যেখানে বৈচিত্র্য থাকে, সেখানে ভোলাদের পরিবারে একবেলার খাবার জোটানোই বড় লড়াই। মাছ-মাংস তাদের জন্য বিলাসিতা; এক তরকারি দিয়েই কোনোভাবে পেট ভরানোই তাদের একমাত্র সম্বল।
জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতা ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
সরকারি সহায়তা প্রসঙ্গে ৫ নম্বর হরিদাসকাটি ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সজল মল্লিক জানান, নিখিল বৈরাগী কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পান না।
এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই ওয়ার্ডে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে দুইজন জনপ্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও এমন হতদরিদ্র পরিবার কীভাবে বছরের পর বছর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে থাকে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। ভূমিহীনদের নিরাপদ বাসস্থান, প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা খাদ্য সহায়তার মতো নানা উদ্যোগ থাকলেও তার কোনোটিই পৌঁছায়নি নিখিল বৈরাগীর কাছে।
প্রশাসনের আশ্বাস
ভোলার পরিবারের প্রত্যাশা কেবল বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুযোগ ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মসংস্থান। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন যেন সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বাসন ও ভাতার ব্যবস্থা নেয়।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন থেকে জনাব মো. সম্রাট হোসেন দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।



















