১০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সলঙ্গায় বেওয়ারিশ কুকুরের তাণ্ডব: খাঁচায় ঝরল শতাধিক মুরগির প্রাণ, নিঃস্ব দুই খামারি

রিপোর্টার জাকিরুল্লাহ
  • Update Time : ০৪:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৪ Time View

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার কাঁঠালবাড়ীয়া গ্রামে এক রাতের ব্যবধানে তছনছ হয়ে গেছে দুই জন খামারির স্বপ্নের আস্তানা।

গতকাল দিবাগত রাতে বেওয়ারিশ কুকুরের পাল পৃথক দুটি খামারে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে শতাধিক ডিমপাড়া মুরগি। হঠাৎ এমন মর্মান্তিক ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাতের আঁধারে বেওয়ারিশ কুকুরের দল প্রথমে কাঁঠালবাড়ীয়া গ্রামের ফরহাদ হোসেনের বাড়ির খামারে হানা দেয়। কুকুরের দলটি খামারের চারপাশের সুরক্ষাজাল (নেট) ছিঁড়ে ভেতরে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর একই কৌশলে পাশের গোলাম হোসেনের মুরগির খামারেও তাণ্ডব চালায় বেপরোয়া কুকুরের দল। সকালে খামারিরা ভেতরে গিয়ে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকা শতাধিক ডিমপাড়া মুরগি দেখতে পান।

এনজিও ঋণ আর বহু কষ্টে অর্জিত পুঁজি বিনিয়োগ করে এই খামার দুটি গড়ে তুলেছিলেন দুই খামারি। প্রতিদিনের ডিম বিক্রি থেকেই চলত তাঁদের সংসারের চাকা ও দেনা শোধের চিন্তা। কিন্তু রাতের এই এক তাণ্ডবেই মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে গেল তাঁদের সব পরিকল্পনা ও স্বপ্ন। খামারের এমন মর্মান্তিক ও নির্মম দৃশ্য দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা; কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এলাকাবাসীর দাবি, সলঙ্গা ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রায়ই রাতে ও ভোরে হাঁটাহাঁটির সময় সাধারণ মানুষসহ গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি আক্রমণের শিকার হচ্ছে। কাঁঠালবাড়ীয়া গ্রামের এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত দুই খামারিকে সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সলঙ্গায় বেওয়ারিশ কুকুরের তাণ্ডব: খাঁচায় ঝরল শতাধিক মুরগির প্রাণ, নিঃস্ব দুই খামারি

Update Time : ০৪:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার কাঁঠালবাড়ীয়া গ্রামে এক রাতের ব্যবধানে তছনছ হয়ে গেছে দুই জন খামারির স্বপ্নের আস্তানা।

গতকাল দিবাগত রাতে বেওয়ারিশ কুকুরের পাল পৃথক দুটি খামারে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে শতাধিক ডিমপাড়া মুরগি। হঠাৎ এমন মর্মান্তিক ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাতের আঁধারে বেওয়ারিশ কুকুরের দল প্রথমে কাঁঠালবাড়ীয়া গ্রামের ফরহাদ হোসেনের বাড়ির খামারে হানা দেয়। কুকুরের দলটি খামারের চারপাশের সুরক্ষাজাল (নেট) ছিঁড়ে ভেতরে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর একই কৌশলে পাশের গোলাম হোসেনের মুরগির খামারেও তাণ্ডব চালায় বেপরোয়া কুকুরের দল। সকালে খামারিরা ভেতরে গিয়ে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকা শতাধিক ডিমপাড়া মুরগি দেখতে পান।

এনজিও ঋণ আর বহু কষ্টে অর্জিত পুঁজি বিনিয়োগ করে এই খামার দুটি গড়ে তুলেছিলেন দুই খামারি। প্রতিদিনের ডিম বিক্রি থেকেই চলত তাঁদের সংসারের চাকা ও দেনা শোধের চিন্তা। কিন্তু রাতের এই এক তাণ্ডবেই মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে গেল তাঁদের সব পরিকল্পনা ও স্বপ্ন। খামারের এমন মর্মান্তিক ও নির্মম দৃশ্য দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা; কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এলাকাবাসীর দাবি, সলঙ্গা ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রায়ই রাতে ও ভোরে হাঁটাহাঁটির সময় সাধারণ মানুষসহ গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি আক্রমণের শিকার হচ্ছে। কাঁঠালবাড়ীয়া গ্রামের এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত দুই খামারিকে সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।