খুলনার দিঘলিয়ায় ৬১ টি মন্দিরে দুর্গাপূজা
- Update Time : ০৫:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ৯ Time View

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৬১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজা হবে গাজীরহাট ইউনিয়নে ২৭টি এবং সবচেয়ে কম যোগীপোল ইউনিয়নে ০১ টি।
ইউনিয়নভিত্তিক হিসাবে, গাজীরহাট ইউনিয়নে ২৭টি, বারাকপুর ইউনিয়নে ১৭টি, সেনহাটি ইউনিয়নে ৮টি, দিঘলিয়া ইউনিয়নে ৬টি, আড়ংঘাটা ইউনিয়নে ২টি এবং যোগীপোল ইউনিয়নে ১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সব মিলিয়ে পূজার সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৬১টি।
এদিকে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে এরই মধ্যে মণ্ডপগুলোতে সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ন করা হয়েছে। প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপ সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজও প্রায় শেষের দিকে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১০ ই অক্টোবর ২০২৬ শনিবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা। এরপর ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠী ও দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে মূল দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর শনি ও রবিবার মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী অনুষ্ঠিত হবে।
দিঘলিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সৌমিত্র দত্ত বলেন, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি মণ্ডপের পূজা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপে আগত দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় এবারও দিঘলিয়ায় শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাশ গুপ্ত শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে ইউএনও বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করতে হবে। মণ্ডপে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখতে হবে এবং ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইন ব্যবহার করা যাবে না। বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। নামাজের সময় মণ্ডপের সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ রাখতে হবে। এ ছাড়া পূজাকালীন যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কিংবা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা নজরে এলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করার নির্দেশনা দেন তিনি। পূজা উদযাপন-সংক্রান্ত জরুরি যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ অরূপ কুমার চৌধুরী বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। প্রতিটি মন্দিরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের যোগাযোগ নম্বর সরবরাহ করা হবে, যাতে যেকোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পুলিশের সহায়তা নেওয়া যায়। তিনি আরও জানান, পূজাকালীন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পুলিশ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



















