ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬,
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদার দাবিতে মোহনগঞ্জে প্রবীণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, লুটপাট: ১৫ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

md afzal Hossain shubo
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 19

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ পৌর শহরে চাঁদার দাবিতে সবুজ মিয়া (৬০) নামের এক প্রবীণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও ক্যাশবাক্স লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল সোহান (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মোহনগঞ্জ থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সোহানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ছিনতাই, মাদক ও মারামারিসহ আগের ১৫টি মামলা রয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে তাকে জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত সোহান মোহনগঞ্জ উপজেলার বড়কাশিয়া গ্রামের মৃত নূর আহম্মদের ছেলে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদ ইকবালের চাচাতো ভাই।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জ পৌর শহরের খাদ্যগুদামের ঠিক বিপরীত পাশে ‘পিংকী সাইকেল স্টোর’ নামের দোকানে সাইকেল যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন ষাটোর্ধ্ব সবুজ মিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সোহান কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ওই দোকানে হানা দেন এবং সবুজ মিয়ার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। প্রবীণ এই ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সোহান। একপর্যায়ে সাথে থাকা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে সবুজ মিয়ার ওপর অতর্কিত আঘাত করেন তিনি। অস্ত্রের আঘাতে সবুজ মিয়ার নাক কেটে গুরুতর জখম হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়েন।
ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও থামেনি হামলাকারীদের তাণ্ডব। তারা দোকানের ভেতর ঢুকে মালামাল ভাঙচুর করে এবং ক্যাশবাক্সে থাকা ব্যবসার নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। এ সময় আশপাশের ব্যবসায়ীরা সাহসিকতার সাথে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় সবুজ মিয়াকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে শহরের খাদ্যগুদামসংলগ্ন সেতু পুনর্নির্মাণের সময় সরকারি জায়গায় থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সেই সুযোগে সরকারি কিছু জায়গা নিজের দখলে নিয়ে সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করেন সোহান। পরবর্তীতে মাসিক ৮ হাজার টাকা চুক্তিতে ঘরটি সবুজ মিয়ার কাছে ভাড়া দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সোহান দীর্ঘদিন ধরেই মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জোগাড় করতে তিনি প্রায়ই অসময়ে দোকানে এসে সবুজ মিয়ার কাছে টাকা দাবি করতেন। ভাড়ার টাকা ও অসময়ে টাকা চাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই মনস্তাত্ত্বিক বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলেও টাকার দাবিকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় এবং এর জের ধরেই দলবল নিয়ে এসে প্রবীণ ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই আহত ব্যবসায়ীর ছোট ভাই মোহাম্মদ কমল মিয়া বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে রাতেই অভিযুক্ত সোহানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, প্রবীণ ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও অর্থ লুটের ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার পরপরই রাতেই অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল সোহানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শুক্রবার দুপুরে তাকে জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সোহানের বিরুদ্ধে এর আগেও থানায় ধর্ষণ, ছিনতাই, মাদক ও মারামারিসহ ১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রিপোর্টারের তথ্য
আফজাল হোসেন শুভ

আফজাল হোসেন শুভ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

চাঁদার দাবিতে মোহনগঞ্জে প্রবীণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, লুটপাট: ১৫ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ পৌর শহরে চাঁদার দাবিতে সবুজ মিয়া (৬০) নামের এক প্রবীণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও ক্যাশবাক্স লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল সোহান (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মোহনগঞ্জ থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সোহানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ছিনতাই, মাদক ও মারামারিসহ আগের ১৫টি মামলা রয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে তাকে জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত সোহান মোহনগঞ্জ উপজেলার বড়কাশিয়া গ্রামের মৃত নূর আহম্মদের ছেলে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদ ইকবালের চাচাতো ভাই।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জ পৌর শহরের খাদ্যগুদামের ঠিক বিপরীত পাশে ‘পিংকী সাইকেল স্টোর’ নামের দোকানে সাইকেল যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন ষাটোর্ধ্ব সবুজ মিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সোহান কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ওই দোকানে হানা দেন এবং সবুজ মিয়ার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। প্রবীণ এই ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সোহান। একপর্যায়ে সাথে থাকা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে সবুজ মিয়ার ওপর অতর্কিত আঘাত করেন তিনি। অস্ত্রের আঘাতে সবুজ মিয়ার নাক কেটে গুরুতর জখম হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়েন।
ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও থামেনি হামলাকারীদের তাণ্ডব। তারা দোকানের ভেতর ঢুকে মালামাল ভাঙচুর করে এবং ক্যাশবাক্সে থাকা ব্যবসার নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। এ সময় আশপাশের ব্যবসায়ীরা সাহসিকতার সাথে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় সবুজ মিয়াকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে শহরের খাদ্যগুদামসংলগ্ন সেতু পুনর্নির্মাণের সময় সরকারি জায়গায় থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সেই সুযোগে সরকারি কিছু জায়গা নিজের দখলে নিয়ে সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করেন সোহান। পরবর্তীতে মাসিক ৮ হাজার টাকা চুক্তিতে ঘরটি সবুজ মিয়ার কাছে ভাড়া দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সোহান দীর্ঘদিন ধরেই মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জোগাড় করতে তিনি প্রায়ই অসময়ে দোকানে এসে সবুজ মিয়ার কাছে টাকা দাবি করতেন। ভাড়ার টাকা ও অসময়ে টাকা চাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই মনস্তাত্ত্বিক বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলেও টাকার দাবিকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় এবং এর জের ধরেই দলবল নিয়ে এসে প্রবীণ ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই আহত ব্যবসায়ীর ছোট ভাই মোহাম্মদ কমল মিয়া বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে রাতেই অভিযুক্ত সোহানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, প্রবীণ ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও অর্থ লুটের ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার পরপরই রাতেই অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল সোহানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শুক্রবার দুপুরে তাকে জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সোহানের বিরুদ্ধে এর আগেও থানায় ধর্ষণ, ছিনতাই, মাদক ও মারামারিসহ ১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।