১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৩ মাসেও চালুর সম্ভাবনা নেই: দুটি ইউনিটের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ

​মোঃ মেহেদী হাসান, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৯:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২১ Time View

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেও এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালুর কোনো লক্ষণ বা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
​সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রে বড় ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেওয়ায় এর ২টি ইউনিটই বন্ধ হয়ে যায়:
​১ নম্বর ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট): গত ৫ই অক্টোবর (সোমবার) সকালে এই ইউনিটের বৈদ্যুতিক তারে শর্ট সার্কিট হয়ে আগুন লাগে। এতে তারের তিনটি ট্রে পুড়ে যায়, যার প্রতিটিতে প্রায় ৫০০ থেকে ১০০০টি ক্যাবল ছিল। বর্তমানে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় এটি সচল করতে কর্তৃপক্ষকে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।
​৩ নম্বর ইউনিট (২৭৫ মেগাওয়াট): গত ৬ই অক্টোবর (মঙ্গলবার) জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড ফেল করায় ৩ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে সেলু বয়লার পাম্প চালু না করার কারণে টারবাইনের শ্যাফটের বিয়ারিং অকেজো ও শ্যাফট বাঁকা হয়ে যায়।
​উল্লেখ্য, ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকেই অচল অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় ৭ বছর ধরে বন্ধ থাকা এই ইউনিটটি মেরামতে খরচ হতে পারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এরপর ১ নম্বর ইউনিটটি জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছিল, যা সম্প্রতি আগুনে পুড়ে অকেজো হয়ে যায়।
​মেরামত ব্যয় ও বর্তমান অবস্থা:
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ৩ নম্বর ইউনিটের বাঁকা হয়ে যাওয়া শ্যাফটসহ সামগ্রিক যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করতে বিশাল অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হবে। ১ ও ৩ নম্বর ইউনিট দুটি মেরামত করতেই প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
​বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হারবিন কোম্পানি’র প্রকৌশলীরা কেন্দ্রটির সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি তদারকি করছেন। তবে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও চীনা প্রকৌশলীরা দুটি ইউনিটের ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাপ না করা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট ব্যয়ের হিসাব বা আনুষ্ঠানিকভাবে মেরামত কাজ শুরু করতে পারছেন না। ফলে আগামী ৩ মাসের মধ্যে এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা খুবই ক্ষীণ।
​(আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সংবাদটিতে কোনো তথ্য সংশোধন বা আরও যোগ-বিয়োগ করতে চাইলে জানাতে পারেন।)

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

​বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৩ মাসেও চালুর সম্ভাবনা নেই: দুটি ইউনিটের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ

Update Time : ০৯:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেও এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালুর কোনো লক্ষণ বা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
​সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রে বড় ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেওয়ায় এর ২টি ইউনিটই বন্ধ হয়ে যায়:
​১ নম্বর ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট): গত ৫ই অক্টোবর (সোমবার) সকালে এই ইউনিটের বৈদ্যুতিক তারে শর্ট সার্কিট হয়ে আগুন লাগে। এতে তারের তিনটি ট্রে পুড়ে যায়, যার প্রতিটিতে প্রায় ৫০০ থেকে ১০০০টি ক্যাবল ছিল। বর্তমানে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় এটি সচল করতে কর্তৃপক্ষকে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।
​৩ নম্বর ইউনিট (২৭৫ মেগাওয়াট): গত ৬ই অক্টোবর (মঙ্গলবার) জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড ফেল করায় ৩ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে সেলু বয়লার পাম্প চালু না করার কারণে টারবাইনের শ্যাফটের বিয়ারিং অকেজো ও শ্যাফট বাঁকা হয়ে যায়।
​উল্লেখ্য, ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকেই অচল অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় ৭ বছর ধরে বন্ধ থাকা এই ইউনিটটি মেরামতে খরচ হতে পারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এরপর ১ নম্বর ইউনিটটি জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছিল, যা সম্প্রতি আগুনে পুড়ে অকেজো হয়ে যায়।
​মেরামত ব্যয় ও বর্তমান অবস্থা:
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ৩ নম্বর ইউনিটের বাঁকা হয়ে যাওয়া শ্যাফটসহ সামগ্রিক যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করতে বিশাল অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হবে। ১ ও ৩ নম্বর ইউনিট দুটি মেরামত করতেই প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
​বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হারবিন কোম্পানি’র প্রকৌশলীরা কেন্দ্রটির সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি তদারকি করছেন। তবে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও চীনা প্রকৌশলীরা দুটি ইউনিটের ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাপ না করা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট ব্যয়ের হিসাব বা আনুষ্ঠানিকভাবে মেরামত কাজ শুরু করতে পারছেন না। ফলে আগামী ৩ মাসের মধ্যে এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা খুবই ক্ষীণ।
​(আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সংবাদটিতে কোনো তথ্য সংশোধন বা আরও যোগ-বিয়োগ করতে চাইলে জানাতে পারেন।)