০৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​লৌহজংয়ে মৎস্য অভিযানের তথ্য ফাঁস ও জব্দ করা জাল বিক্রির অভিযোগ, নেপথ্যে সি-বোট চালক কাইউম সিন্ডিকেট!

​ফৌজি হাসান খান রিকু লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৬:১১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৮ Time View

​মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের অভিযান পরিচালনার গোপনীয়তা রক্ষা ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দপ্তরের ‘রিফাত’ নামের এক কর্মী বিদায় নেওয়ার পর থেকেই সি-বোট চালক কাইউমের প্রভাব ও সিন্ডিকেটের অপ তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযানের গোপন তথ্য অসাধু জেলেদের কাছে আগাম পৌঁছে দেওয়া এবং অভিযানে জব্দ করা অবৈধ কারেন্ট জাল পুনরায় বিক্রি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
​অভিযোগের তীর কেবল সি-বোট চালক কাইউমের দিকেই নয়, বরং এই চক্রের অন্যতম মূল সহযোগী হিসেবে উঠে এসেছে রহিমউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির নাম।
​গোপন তথ্য ফাঁস ও চাঁদাবাজি
​সূত্রমতে, রহিমউদ্দিন সরাসরি অসাধু জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে অভিযানের আগাম বার্তা বা সতর্কতা পৌঁছে দেন। বিনিময়ে জেলেদের কাছ থেকে আদায় করা চাঁদার টাকা সি-বোট চালক কাইউমের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত রহিমউদ্দিন কনকসার ইউনিয়নের ধীৎপুর গ্রামের বকুলতলা এলাকার বাসিন্দা এবং লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইয়াসিন বেপারীর ছেলে। রহিমউদ্দিনের মাধ্যমেই কাইউম পুরো অঞ্চলের জেলেদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং আটক করা অবৈধ জাল পুনর্বিক্রির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
​প্রশ্নবিদ্ধ সরকারি উদ্যোগ
​পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষা, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে প্রতি বছর সরকারের পক্ষ থেকে কোটি টাকার বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হয়। তবে অভিযানের পরিকল্পনা ও সময়সূচির গোপনীয়তা যদি শুরুতেই ফাঁস হয়ে যায়, তবে অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অভিযানে উদ্ধার করা নিষিদ্ধ জাল যদি পুনরায় বাজারে বা জেলেদের হাতে ফিরে যায়, তবে তা সরকারি অভিযানের মূল উদ্দেশ্যকেই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।
​সচেতন মহলের দাবি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
​স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জেলেদের দাবি, এই সিন্ডিকেটে কাইউম ও রহিমউদ্দিন ছাড়াও স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নেপথ্যে থেকে মদদ দিচ্ছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এবং অভিযানের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সি-বোট চালক কাইউমকে মৎস্য অফিসের সব ধরনের কার্যক্রম ও সি-বোট পরিচালনা থেকে অবিলম্বে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা প্রয়োজন।
​ইতোমধ্যেই এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তারিত উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। পদ্মা নদীর মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং সরকারি অভিযানের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে এ ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

​লৌহজংয়ে মৎস্য অভিযানের তথ্য ফাঁস ও জব্দ করা জাল বিক্রির অভিযোগ, নেপথ্যে সি-বোট চালক কাইউম সিন্ডিকেট!

Update Time : ০৬:১১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

​মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের অভিযান পরিচালনার গোপনীয়তা রক্ষা ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দপ্তরের ‘রিফাত’ নামের এক কর্মী বিদায় নেওয়ার পর থেকেই সি-বোট চালক কাইউমের প্রভাব ও সিন্ডিকেটের অপ তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযানের গোপন তথ্য অসাধু জেলেদের কাছে আগাম পৌঁছে দেওয়া এবং অভিযানে জব্দ করা অবৈধ কারেন্ট জাল পুনরায় বিক্রি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
​অভিযোগের তীর কেবল সি-বোট চালক কাইউমের দিকেই নয়, বরং এই চক্রের অন্যতম মূল সহযোগী হিসেবে উঠে এসেছে রহিমউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির নাম।
​গোপন তথ্য ফাঁস ও চাঁদাবাজি
​সূত্রমতে, রহিমউদ্দিন সরাসরি অসাধু জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে অভিযানের আগাম বার্তা বা সতর্কতা পৌঁছে দেন। বিনিময়ে জেলেদের কাছ থেকে আদায় করা চাঁদার টাকা সি-বোট চালক কাইউমের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত রহিমউদ্দিন কনকসার ইউনিয়নের ধীৎপুর গ্রামের বকুলতলা এলাকার বাসিন্দা এবং লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইয়াসিন বেপারীর ছেলে। রহিমউদ্দিনের মাধ্যমেই কাইউম পুরো অঞ্চলের জেলেদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং আটক করা অবৈধ জাল পুনর্বিক্রির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
​প্রশ্নবিদ্ধ সরকারি উদ্যোগ
​পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষা, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে প্রতি বছর সরকারের পক্ষ থেকে কোটি টাকার বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হয়। তবে অভিযানের পরিকল্পনা ও সময়সূচির গোপনীয়তা যদি শুরুতেই ফাঁস হয়ে যায়, তবে অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অভিযানে উদ্ধার করা নিষিদ্ধ জাল যদি পুনরায় বাজারে বা জেলেদের হাতে ফিরে যায়, তবে তা সরকারি অভিযানের মূল উদ্দেশ্যকেই বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।
​সচেতন মহলের দাবি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
​স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জেলেদের দাবি, এই সিন্ডিকেটে কাইউম ও রহিমউদ্দিন ছাড়াও স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নেপথ্যে থেকে মদদ দিচ্ছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এবং অভিযানের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সি-বোট চালক কাইউমকে মৎস্য অফিসের সব ধরনের কার্যক্রম ও সি-বোট পরিচালনা থেকে অবিলম্বে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা প্রয়োজন।
​ইতোমধ্যেই এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তারিত উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। পদ্মা নদীর মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং সরকারি অভিযানের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে এ ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।