সন্ত্রাস নির্মূলে ক্রসফায়ার নয়, আইনের কঠোর প্রয়োগ হবে: খুলনা মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী
- Update Time : ১২:৫৭:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৬ Time View

শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি:
সন্ত্রাস ও অপরাধ নির্মূলে সরকার কোনো বিচারবহির্ভূত পদ্ধতি বা ‘ক্রসফায়ার’-এর মতো বিতর্কিত পথে হাঁটবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে প্রচলিত বিদ্যমান আইনগুলোকে আরও কঠোর, কার্যকর ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় খুলনা জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সার্বিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সীমান্ত দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী বলেন, “পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে মাদকের চালান চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে বসে ইয়াবা কারবারিরা নানা ছক কষছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোনের মাধ্যমেও বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে।” মাদক সংকট এখন দেশের উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ উল্লেখ করে তিনি জানান, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঠেকাতে বর্তমানে সারাদেশে ‘ডোপ টেস্ট’-এর ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগে কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারি ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
খুলনার রূপসা ঘাটে নদী পারাপারে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি অনতিবিলম্বে সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “ঘাটে গুটিকয়েক ক্ষমতাধর বা রাজনৈতিক ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষায় সরকার কোনো অপবাদ নিজের ঘাড়ে নেবে না। এমনকি সরকারি দলের কেউ এতে জড়িত থাকলেও বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণকে কোনোভাবেই ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না।”
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের সদিচ্ছা ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনোভাবেই বিচার বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। কাউকে জামিন দেওয়া বা না দেওয়ার জন্য টেলিফোন বা কোনো নির্দেশ দিলে সেটি হস্তক্ষেপ হিসেবেই গণ্য হবে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে সরকারি কৌঁসুলিরা (পাবলিক প্রসেকিউটর) যেন জামিনের বিরোধিতায় যথাযথ ভূমিকা পালন করেন, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী কিংবা এমপিদের কেউ সুশাসনবিরোধী বা অনৈতিক কোনো কাজে জড়িত থাকলে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করুন। এতে সরকারের কোনো আপস থাকবে না; সরকার মুক্ত বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। সাইবার আইন সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি জানান, তথ্য, অপতথ্য ও মানহানি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বাকস্বাধীনতার গুরুত্ব অনুধাবন করে আইনটি আরও যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। সম্পাদক পরিষদসহ সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতেই তা চূড়ান্ত করা হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, বিভাগীয় কমিশনার আবদুল্লাহ হারুন, কেএমপি কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা, খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল ইসলাম বাপ্পিসহ জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
এর আগে সকাল ৯টায় খুলনা জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে জেলা ও দায়রা জজ চান মোহাম্মদ আব্দুল আলিম আল রাজীসহ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। এতে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করে আদালত থেকে মামলার জট কমানোর তাগিদ দেন তিনি।



















