সীমান্ত থেকে অটোতে মাদকের চালান, র্যাবের জালে ধরা বয়স্কা নারীসহ ২
- Update Time : ১০:১৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / ২২ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অটোরিকশায় চেপে অনায়াসেই জেলা সদরে পৌঁছে যাচ্ছিল মাদকের বড় বড় চালান—এমন একটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চোরাচালান চক্রের উন্মোচন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। অভিযানের অংশ হিসেবে ৯.৪ কেজি গাঁজা ও একটি অটোরিকশাসহ দুই মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯-এর একটি চৌকস দল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ও সাধারণ মানুষের সন্দেহ এড়াতে বেছে নেওয়া হয়েছিল ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা ও এক মধ্যবয়সী পুরুষকে। তবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এক নিখুঁত অভিযানে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
যেভাবে পরিচালনা করা হয় অভিযান
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ৩০ আগস্ট (রবিবার) দুপুরে র্যাব-৯, সিপিসি-১-এর একটি আভিযানিক দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানাধীন রাধিকা এলাকায় অবস্থান করছিল। আনুমানিক দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে গোপন সংবাদের মাধ্যমে তাদের কাছে তথ্য আসে—আখাউড়া সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে একটি মাদকের চালান জেলা সদরের দিকে যাচ্ছে।
খবর পাওয়ার পরপরই আভিযানিক দলটি দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করে এবং দুপুর ২টা ৫ মিনিটে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কের ‘পাথৈর হাতা’ এলাকায় একটি বিশেষ চেকপোস্ট বসায়।
তদারকিকালে একটি সন্দেহভাজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু গাড়িটি থামার পরপরই র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ভেতর থেকে দুই যাত্রী নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে তাদের আটক করেন।
প্লাস্টিকের বস্তা ও খাকি স্কচটেপে মোড়ানো গাঁজা
আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর অটোরিকশায় তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে থাকা একটি সাদা রঙের প্লাস্টিকের বস্তা খুলে দেখা যায়, পলিথিন ও খাকি রঙের স্কচটেপ দিয়ে অতি সতর্কতায় মোড়ানো অবস্থায় ৯.৪ কেজি গাঁজা রাখা আছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন:
মোঃ হানিফ (৫০): পিতা—মৃত মদন মিয়া, গ্রাম—রাজাপুর, থানা—আখাউড়া।
মরিয়ম (৭০): স্বামী—শাহিন, গ্রাম—তালশহর, থানা—আশুগঞ্জ।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে, সীমান্ত এলাকা থেকে তুলনামূলক কম দামে গাঁজা সংগ্রহ করে তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে এটি পরিবহন করছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে বৃদ্ধা মরিয়মকে সামনে রেখে যাত্রীর ছদ্মবেশে এই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন কাজ করে আসছিল।
আইনগত ব্যবস্থা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধারকৃত ৯.৪ কেজি গাঁজা ও পরিবহনে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি পুলিশি জিম্মায় আলামত হিসেবে জব্দ দেখানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার (অতিঃ পুলিশ সুপার) কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে রুটিন টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত ঘেঁষা এই রুটগুলোতে মাদকের এ ধরনের সিন্ডিকেট উপড়ে ফেলতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”



















