০৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০০ বছরের ঐতিহ্যের রাজকীয় উৎসব: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নদীজুড়ে জমজমাট বিশাল নৌকা বাইচ

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১০ Time View

​নাগরপুর (টাঙ্গাইল):
ঢোলের মাতাল তাল, কাঁসার ঝংকার আর ‘হেইয়া হেইয়া’ শব্দে মুখরিত টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বারাপুষা এলাকা। গ্রামীণ বাংলার লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান অঙ্গ ঐতিহ্যবাহী বিশাল নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় দুইশত বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যকে ঘিরে ধলেশ্বরীর শাখা নদী ও বারাপুষা এলাকার জলাশয়জুড়ে সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব আনন্দমুখর পরিবেশ।
​আবহমান বাংলার এই রূপসী রূপ দেখতে আশপাশের গ্রামসহ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজার হাজার দর্শনার্থী। শত শত বর্ণিল ও সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে প্রতিযোগীরা এই বাইচে অংশগ্রহণ করেন।
​উৎসবের চিত্র ও জনসমাগম
বাইচ উপলক্ষে নদী ও জলাশয়ের দুই তীরে ছিল দর্শনার্থীদের থৈ থৈ ভিড়। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ ও নারীদের উপস্থিতি উৎসবের আবহকে আরও বর্ণিল করে তোলে। নদীর তীর ছাড়িয়ে আশেপাশের ঘরবাড়ির ছাদ এবং গাছে উঠেও উৎসুক জনতাকে বাইচ উপভোগ করতে দেখা যায়।
​প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাইচাদের (নৌকা চালক) পরনে ছিল একই রঙের পোশাক ও মাথায় বাঁধা গামছা। বৈঠার ছন্দে আর সারিগানের তালে তালে দলবেঁধে এগিয়ে চলার দৃশ্য রূপ নেয় এক অনাবিল সৌন্দর্যে।
​উৎসবের রূপরেখা
​অংশগ্রহণ: টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় ২০টিরও বেশি বড় আকৃতির ছিপ ও ময়ূরপঙ্খী নৌকা।
​বিভাগ: দূরত্বের ভিত্তিতে ও নৌকার ধরন অনুযায়ী কয়েকটি ধাপে প্রতিযোগিতা পরিচালিত হয়।
​পুরস্কার: বিজয়ী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর জন্য রাখা হয় আকর্ষণীয় ইলেকট্রনিক পণ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ।
​ঐতিহ্য রক্ষা ও মেলা
বারাপুষার এই ঐতিহাসিক বাইচকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বসে দু’দিনব্যাপী লোকজ মেলা। মিষ্টির দোকান, মাটির তৈরি জিনিসপত্র, শিশুদের খেলনা ও গৃহস্থালি পণ্যের পসরা সাজান ব্যবসায়ীরা। আত্মীয়-স্বজন ও মেহমান দাওয়াত দেওয়ার মাধ্যমে এলাকাটিতে এক ঈদের মতোই আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়।
​আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যান্ত্রিক সভ্যতার ভিড়ে আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। ২০০ বছরের এই বাইচ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি এলাকার সম্প্রীতি ও কৃষ্টির প্রতীক। তরুণ প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই প্রতি বছর এই আয়োজন ধরে রাখা হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

২০০ বছরের ঐতিহ্যের রাজকীয় উৎসব: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নদীজুড়ে জমজমাট বিশাল নৌকা বাইচ

Update Time : ০৭:২২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

​নাগরপুর (টাঙ্গাইল):
ঢোলের মাতাল তাল, কাঁসার ঝংকার আর ‘হেইয়া হেইয়া’ শব্দে মুখরিত টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বারাপুষা এলাকা। গ্রামীণ বাংলার লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান অঙ্গ ঐতিহ্যবাহী বিশাল নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় দুইশত বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যকে ঘিরে ধলেশ্বরীর শাখা নদী ও বারাপুষা এলাকার জলাশয়জুড়ে সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব আনন্দমুখর পরিবেশ।
​আবহমান বাংলার এই রূপসী রূপ দেখতে আশপাশের গ্রামসহ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজার হাজার দর্শনার্থী। শত শত বর্ণিল ও সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে প্রতিযোগীরা এই বাইচে অংশগ্রহণ করেন।
​উৎসবের চিত্র ও জনসমাগম
বাইচ উপলক্ষে নদী ও জলাশয়ের দুই তীরে ছিল দর্শনার্থীদের থৈ থৈ ভিড়। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ ও নারীদের উপস্থিতি উৎসবের আবহকে আরও বর্ণিল করে তোলে। নদীর তীর ছাড়িয়ে আশেপাশের ঘরবাড়ির ছাদ এবং গাছে উঠেও উৎসুক জনতাকে বাইচ উপভোগ করতে দেখা যায়।
​প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাইচাদের (নৌকা চালক) পরনে ছিল একই রঙের পোশাক ও মাথায় বাঁধা গামছা। বৈঠার ছন্দে আর সারিগানের তালে তালে দলবেঁধে এগিয়ে চলার দৃশ্য রূপ নেয় এক অনাবিল সৌন্দর্যে।
​উৎসবের রূপরেখা
​অংশগ্রহণ: টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় ২০টিরও বেশি বড় আকৃতির ছিপ ও ময়ূরপঙ্খী নৌকা।
​বিভাগ: দূরত্বের ভিত্তিতে ও নৌকার ধরন অনুযায়ী কয়েকটি ধাপে প্রতিযোগিতা পরিচালিত হয়।
​পুরস্কার: বিজয়ী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর জন্য রাখা হয় আকর্ষণীয় ইলেকট্রনিক পণ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ।
​ঐতিহ্য রক্ষা ও মেলা
বারাপুষার এই ঐতিহাসিক বাইচকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বসে দু’দিনব্যাপী লোকজ মেলা। মিষ্টির দোকান, মাটির তৈরি জিনিসপত্র, শিশুদের খেলনা ও গৃহস্থালি পণ্যের পসরা সাজান ব্যবসায়ীরা। আত্মীয়-স্বজন ও মেহমান দাওয়াত দেওয়ার মাধ্যমে এলাকাটিতে এক ঈদের মতোই আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়।
​আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যান্ত্রিক সভ্যতার ভিড়ে আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। ২০০ বছরের এই বাইচ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি এলাকার সম্প্রীতি ও কৃষ্টির প্রতীক। তরুণ প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই প্রতি বছর এই আয়োজন ধরে রাখা হয়েছে।