০৭:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​২০ লাখ টাকার জব্দ বালু মাত্র ৫ লাখে নিলাম! চকরিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৪৪ Time View

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ছড়াখালের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা জব্দ বালুর উন্মুক্ত নিলামকে ঘিরে চরম বিতর্ক ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীদের অভিযোগ, প্রায় ২০ লাখ টাকা বাজারমূল্যের বালু কৌশল অবলম্বন করে মাত্র ৫ লাখ ৫ হাজার টাকায় নিলাম দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক দর এড়াতে অন্য ডাককারীদের ঘুষ প্রদানের গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
​কারসাজির অভিযোগ ও নিলামের দর
​গত ৭ অক্টোবর বেলা ১টার দিকে খুটাখালীর জব্দকৃত বালুর স্তূপ সংলগ্ন স্থানে এই উন্মুক্ত নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। উন্মুক্ত বিডিংয়ে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা দর হেঁকে প্রায় এক লাখ ঘনফুট বালু কিনে নেন খুটাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. শফিউল আলম শফি।
​তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় অভিযোগকারীদের দাবি, নিলামে প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হতে দেওয়া হয়নি। উচ্চ দর ঠেকাতে উপস্থিত প্রায় ৩০ জন ডাককারীকে ৫ হাজার টাকা করে দিয়ে দেওয়া হয়। ২০ লাখ টাকার বালু মাত্র ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
​ভ্যাট-ট্যাক্সসহ মোট মূল্য ও নিলামের স্থান
​উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, খুটাখালী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের স্মারক অনুযায়ী (তারিখ: ৫ অক্টোবর) এই নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল।
​বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৬টি স্তূপের বালু সরাতে সর্বোচ্চ দরদাতাকে মূল নিলাম মূল্যের ওপর ১৫% ভ্যাট ও ১০% আয়কর পরিশোধের শর্ত দেওয়া হয়। সেই হিসেবে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকার বিপরীতে অতিরিক্ত ১ লাখ ২৬ হাজার ২৫০ টাকা যুক্ত হয়ে সরকারের কোষাঘারে জমা পড়ছে মোট ৬ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা।
​জব্দকৃত বালুর স্তূপগুলো ছিল খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিখোলা এলাকার ৬টি পয়েন্টে:
১. ডাইভার্সন এলাকার রাস্তার পূর্ব পাশে দোকানের সামনে ও পেছনে (২টি স্তূপ)
২. হরিখোলা এলাকার রাস্তার পাশে (পয়েন্ট-১)
৩. আবছারের ভিটার পাশে (পয়েন্ট-২)
৪. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে (পয়েন্ট-৩)
৫. সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে (পয়েন্ট-৪)
৬. একটি মুরগির খামারের পাশে (পয়েন্ট-৫)
​নদীভাঙন ও পুনরায় বালু উত্তোলনের আশঙ্কা
​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চকরিয়ার খুটাখালী খালে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলায় খালের দুই তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বসতবাড়ি, ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে।
​অভিযোগ রয়েছে, এলাকাটিতে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ছড়াখাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে এবং প্রতিবাদ করতে গেলে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও মারধর করা হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, জব্দকৃত বালু সরানোর সুযোগে চক্রটি নতুন করে আবারও অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন শুরু করতে পারে।
​জনস্বার্থে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নিলামের নির্দিষ্ট শর্ত মেনে দ্রুত বালু অপসারণ করার পাশাপাশি ছড়াখালে নতুন করে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

​২০ লাখ টাকার জব্দ বালু মাত্র ৫ লাখে নিলাম! চকরিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ

Update Time : ০১:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ছড়াখালের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা জব্দ বালুর উন্মুক্ত নিলামকে ঘিরে চরম বিতর্ক ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীদের অভিযোগ, প্রায় ২০ লাখ টাকা বাজারমূল্যের বালু কৌশল অবলম্বন করে মাত্র ৫ লাখ ৫ হাজার টাকায় নিলাম দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক দর এড়াতে অন্য ডাককারীদের ঘুষ প্রদানের গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
​কারসাজির অভিযোগ ও নিলামের দর
​গত ৭ অক্টোবর বেলা ১টার দিকে খুটাখালীর জব্দকৃত বালুর স্তূপ সংলগ্ন স্থানে এই উন্মুক্ত নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। উন্মুক্ত বিডিংয়ে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা দর হেঁকে প্রায় এক লাখ ঘনফুট বালু কিনে নেন খুটাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. শফিউল আলম শফি।
​তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় অভিযোগকারীদের দাবি, নিলামে প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হতে দেওয়া হয়নি। উচ্চ দর ঠেকাতে উপস্থিত প্রায় ৩০ জন ডাককারীকে ৫ হাজার টাকা করে দিয়ে দেওয়া হয়। ২০ লাখ টাকার বালু মাত্র ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
​ভ্যাট-ট্যাক্সসহ মোট মূল্য ও নিলামের স্থান
​উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, খুটাখালী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের স্মারক অনুযায়ী (তারিখ: ৫ অক্টোবর) এই নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল।
​বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৬টি স্তূপের বালু সরাতে সর্বোচ্চ দরদাতাকে মূল নিলাম মূল্যের ওপর ১৫% ভ্যাট ও ১০% আয়কর পরিশোধের শর্ত দেওয়া হয়। সেই হিসেবে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকার বিপরীতে অতিরিক্ত ১ লাখ ২৬ হাজার ২৫০ টাকা যুক্ত হয়ে সরকারের কোষাঘারে জমা পড়ছে মোট ৬ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা।
​জব্দকৃত বালুর স্তূপগুলো ছিল খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিখোলা এলাকার ৬টি পয়েন্টে:
১. ডাইভার্সন এলাকার রাস্তার পূর্ব পাশে দোকানের সামনে ও পেছনে (২টি স্তূপ)
২. হরিখোলা এলাকার রাস্তার পাশে (পয়েন্ট-১)
৩. আবছারের ভিটার পাশে (পয়েন্ট-২)
৪. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে (পয়েন্ট-৩)
৫. সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে (পয়েন্ট-৪)
৬. একটি মুরগির খামারের পাশে (পয়েন্ট-৫)
​নদীভাঙন ও পুনরায় বালু উত্তোলনের আশঙ্কা
​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চকরিয়ার খুটাখালী খালে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলায় খালের দুই তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বসতবাড়ি, ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে।
​অভিযোগ রয়েছে, এলাকাটিতে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ছড়াখাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে এবং প্রতিবাদ করতে গেলে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও মারধর করা হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, জব্দকৃত বালু সরানোর সুযোগে চক্রটি নতুন করে আবারও অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন শুরু করতে পারে।
​জনস্বার্থে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নিলামের নির্দিষ্ট শর্ত মেনে দ্রুত বালু অপসারণ করার পাশাপাশি ছড়াখালে নতুন করে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।