১০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​কুলাউড়ায় বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চলছে করাতকল, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা

​মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি (রাশেদ আহমদ):
  • Update Time : ০৮:২৭:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫ Time View

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় একের পর এক করাতকল (সমিল) অবৈধভাবে পরিচালনা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে অধিকাংশ করাতকলের মালিকই বৈধ ও হালনাগাদ লাইসেন্স বা পরিবেশগত ছাড়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের পুরোনো কাগজপত্র কিংবা চলমান মামলার দোহাই দিয়ে বছরের পর বছর ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমনকি আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংলগ্ন স্থানেও অবাধে চলছে এসব করাতকল।
​দাপ্তরিক বক্তব্য ও দায় এড়ানোর চেষ্টা
​কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর: ভাটেরা এলাকার একটি করাতকলে পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকলেও দেখান হয় শ্রীমঙ্গল উপমহাপরিদর্শক কার্যালয়ের নথি। এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গলে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাপরিদর্শক তপন বিকাশ চঞ্চঙ্গ্যা জানান, তাঁদের দপ্তর কেবল শ্রম আইন-সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স দেয়, করাতকল পরিচালনার মূল অনুমতিপত্র নয়।
​পরিবেশ অধিদপ্তর: মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম লোকবল সংকটের কথা জানিয়ে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বন কর্মকর্তা চাইলে এ বিষয়ে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন।
​বন বিভাগ: কুলাউড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিংহ জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় অধিকাংশ করাতকলে তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারছেন না।
​পিডিবি (বিদ্যুৎ বিভাগ): পিডিবি জোনের প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় যাচাই করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন বা বন বিভাগ অবৈধ করাতকলের তালিকা দিলে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
​উপজেলা প্রশাসন: সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার।
​উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রভাব
​অনুসন্ধানকালে কয়েকটি করাতকলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো দেখতে পাওয়া যায়। এমনকি ভাটেরার একটি করাতকলে কাগজপত্র নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন। সচেতন মহলের মতে—রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, আইন ও অনুমোদন মেনে প্রতিষ্ঠান চলছে কি না সেটাই মুখ্য বিষয়।
​স্থানীয়দের দাবি ও প্রত্যাশা
​কুলাউড়ায় মোট কতটি করাতকল রয়েছে এবং তার মধ্যে কতটির বৈধ হালনাগাদ লাইসেন্স আছে, তা প্রকাশ্যে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিদ্যুৎ বিভাগের যৌথ ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই অনিয়ম বন্ধের অপেক্ষায় রয়েছে সচেতন মহল।
​(করাতকলের অবৈধ কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান থাকছে দ্বিতীয় পর্বে।)
​আপনার কি এই প্রতিবেদনের কোনো অংশ পরিবর্তন বা সংক্ষিপ্ত করার প্রয়োজন রয়েছে?

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

​কুলাউড়ায় বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চলছে করাতকল, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা

Update Time : ০৮:২৭:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় একের পর এক করাতকল (সমিল) অবৈধভাবে পরিচালনা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে অধিকাংশ করাতকলের মালিকই বৈধ ও হালনাগাদ লাইসেন্স বা পরিবেশগত ছাড়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের পুরোনো কাগজপত্র কিংবা চলমান মামলার দোহাই দিয়ে বছরের পর বছর ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমনকি আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংলগ্ন স্থানেও অবাধে চলছে এসব করাতকল।
​দাপ্তরিক বক্তব্য ও দায় এড়ানোর চেষ্টা
​কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর: ভাটেরা এলাকার একটি করাতকলে পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকলেও দেখান হয় শ্রীমঙ্গল উপমহাপরিদর্শক কার্যালয়ের নথি। এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গলে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাপরিদর্শক তপন বিকাশ চঞ্চঙ্গ্যা জানান, তাঁদের দপ্তর কেবল শ্রম আইন-সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স দেয়, করাতকল পরিচালনার মূল অনুমতিপত্র নয়।
​পরিবেশ অধিদপ্তর: মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম লোকবল সংকটের কথা জানিয়ে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বন কর্মকর্তা চাইলে এ বিষয়ে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন।
​বন বিভাগ: কুলাউড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিংহ জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় অধিকাংশ করাতকলে তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারছেন না।
​পিডিবি (বিদ্যুৎ বিভাগ): পিডিবি জোনের প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় যাচাই করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন বা বন বিভাগ অবৈধ করাতকলের তালিকা দিলে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
​উপজেলা প্রশাসন: সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার।
​উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রভাব
​অনুসন্ধানকালে কয়েকটি করাতকলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো দেখতে পাওয়া যায়। এমনকি ভাটেরার একটি করাতকলে কাগজপত্র নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন। সচেতন মহলের মতে—রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, আইন ও অনুমোদন মেনে প্রতিষ্ঠান চলছে কি না সেটাই মুখ্য বিষয়।
​স্থানীয়দের দাবি ও প্রত্যাশা
​কুলাউড়ায় মোট কতটি করাতকল রয়েছে এবং তার মধ্যে কতটির বৈধ হালনাগাদ লাইসেন্স আছে, তা প্রকাশ্যে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিদ্যুৎ বিভাগের যৌথ ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই অনিয়ম বন্ধের অপেক্ষায় রয়েছে সচেতন মহল।
​(করাতকলের অবৈধ কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান থাকছে দ্বিতীয় পর্বে।)
​আপনার কি এই প্রতিবেদনের কোনো অংশ পরিবর্তন বা সংক্ষিপ্ত করার প্রয়োজন রয়েছে?