১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুনে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু, আমতলীতে শোকের ছায়া

নূরুল হক লিটন স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ০৬:৪৯:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৪ Time View

আমাদের আর কেউ রইলো না, কি নিয়া বাঁচবো আমরা – কথাটি বলতে বলতেই নির্বাক হয়ে যাচ্ছেন আমতলীর কালিপুরা গ্রামের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াদুল কবির ও তার স্ত্রী কাজল রেখা।

কক্সবাজারের উখিয়া ইনানী মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাদের একমাত্র ছেলে নাসির সিহাম (২৬), একমাত্র মেয়ে ফারিহা কবির (৩২) ও নাতি ফাইজান নূর (৬) প্রাণ হারিয়েছেন। এক মুহূর্তে ছেলে, মেয়ে, নাতিকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন বাকরুদ্ধ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে ফারিহা কবিরের স্বামী নূর আলম (চুয়াডাঙ্গা) তার পরিবার ও দুই ভায়রার পরিবারসহ মোট ১০ জন বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই রিসোর্টে ওঠেন। শুক্রবার সকালে জরুরি কাজে নূর আলম স্ত্রী-সন্তান ও শ্যালককে রিসোর্টে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসায় প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু সেখানেই আগুনে পুড়ে মারা যান তার স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালকসহ ৬ জন।

নিহত নাসির সিয়াম আমতলী এ কে সরকারি হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকার সেন্ট যোসেফ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চায়না ভাষা শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি একই বিষয়ে মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বোন-ভগ্নিপতির সঙ্গে বেড়াতে গিয়েই তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু।

এ ঘটনায় জিয়াদুল কবিরের দুই ভায়রার আরও তিন মেয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তারা হলেন – ঢাকার বনশ্রী তিতাস রোডের মুনসুর রশিদের দুই মেয়ে মালিহা (২৮) ও নাভিলা এবং আরেক ভায়রা সেলিম মিয়ার মেয়ে আলভী (২৬)। মালিহা এ বছর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও নাভিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। আলভী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ছেলে-মেয়ে হারানোর খবর পেয়ে শনিবার দুপুর ১২টায় জিয়াদুল কবির স্ত্রীকে নিয়ে বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

মোবাইল ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার একমাত্র ছেলে নাসির সিয়াম, একমাত্র মেয়ে ফারিহা কবির ও নাতি ফাইজান রিসোর্টের আগুনে প্রাণ হারিয়েছে। আমার এখন বাইচা থাইকা লাভ কি? কি নিয়া বাঁচমু। সব তো শেষ হইয়া গেছে।”

স্ত্রী কাজল রেখা বলেন, “ছেলে মেয়ে নাতি সব শেষ হইয়া গেছে। আমরা আর দুনিয়ায় বাইচা থাই

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুনে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু, আমতলীতে শোকের ছায়া

Update Time : ০৬:৪৯:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আমাদের আর কেউ রইলো না, কি নিয়া বাঁচবো আমরা – কথাটি বলতে বলতেই নির্বাক হয়ে যাচ্ছেন আমতলীর কালিপুরা গ্রামের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াদুল কবির ও তার স্ত্রী কাজল রেখা।

কক্সবাজারের উখিয়া ইনানী মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাদের একমাত্র ছেলে নাসির সিহাম (২৬), একমাত্র মেয়ে ফারিহা কবির (৩২) ও নাতি ফাইজান নূর (৬) প্রাণ হারিয়েছেন। এক মুহূর্তে ছেলে, মেয়ে, নাতিকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন বাকরুদ্ধ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে ফারিহা কবিরের স্বামী নূর আলম (চুয়াডাঙ্গা) তার পরিবার ও দুই ভায়রার পরিবারসহ মোট ১০ জন বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই রিসোর্টে ওঠেন। শুক্রবার সকালে জরুরি কাজে নূর আলম স্ত্রী-সন্তান ও শ্যালককে রিসোর্টে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসায় প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু সেখানেই আগুনে পুড়ে মারা যান তার স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালকসহ ৬ জন।

নিহত নাসির সিয়াম আমতলী এ কে সরকারি হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকার সেন্ট যোসেফ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চায়না ভাষা শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি একই বিষয়ে মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বোন-ভগ্নিপতির সঙ্গে বেড়াতে গিয়েই তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু।

এ ঘটনায় জিয়াদুল কবিরের দুই ভায়রার আরও তিন মেয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তারা হলেন – ঢাকার বনশ্রী তিতাস রোডের মুনসুর রশিদের দুই মেয়ে মালিহা (২৮) ও নাভিলা এবং আরেক ভায়রা সেলিম মিয়ার মেয়ে আলভী (২৬)। মালিহা এ বছর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও নাভিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। আলভী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ছেলে-মেয়ে হারানোর খবর পেয়ে শনিবার দুপুর ১২টায় জিয়াদুল কবির স্ত্রীকে নিয়ে বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

মোবাইল ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার একমাত্র ছেলে নাসির সিয়াম, একমাত্র মেয়ে ফারিহা কবির ও নাতি ফাইজান রিসোর্টের আগুনে প্রাণ হারিয়েছে। আমার এখন বাইচা থাইকা লাভ কি? কি নিয়া বাঁচমু। সব তো শেষ হইয়া গেছে।”

স্ত্রী কাজল রেখা বলেন, “ছেলে মেয়ে নাতি সব শেষ হইয়া গেছে। আমরা আর দুনিয়ায় বাইচা থাই