ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক দশকে অর্ধেকের বেশি চারা মারা গেছে, সংকটে সুন্দরী – লবণাক্ততায় বদলে যাচ্ছে সুন্দরবন:

শাওন আকবার শান্ত, (মোংলা প্রতিনিধি):
শাওন আকবার শান্ত, (মোংলা প্রতিনিধি):
  • প্রকাশের সময় : ০২:২৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 15

সুন্দরবনের গাছপালার গঠন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে একসময়ের আধিপত্য বিস্তারকারী সুন্দরী গাছের বিস্তার সংকুচিত হচ্ছে। বিপরীতে লবণসহিষ্ণু গেওয়া ও গরানের উপস্থিতি বাড়ছে।

২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই সময়ে সুন্দরবনের ৫২.৮৯ শতাংশ চারা মারা গেছে। তবে টিকে থাকা চারাগুলোর বৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য। গবেষণার এই চিত্র সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম ও পরিবেশগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Ecological Influences on Regeneration Dynamics in the Sundarbans, Bangladesh: Exploring Biotic and Abiotic Factors Across Time and Space* শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগের গবেষকেরা সুন্দরবনের বিভিন্ন লবণাক্ততা অঞ্চলে গাছের চারা, কিশলয় ও পূর্ণবয়স্ক গাছের অবস্থা বিশ্লেষণ করেন।

লবণাক্ত এলাকায় মৃত্যুহার ৮২ শতাংশের বেশি:

গবেষণায় সুন্দরবনের লবণাক্ততাকে চারার টিকে থাকার অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কম লবণাক্ত এলাকায় চারার মৃত্যুহার ছিল মাত্র ৩.৩৩ শতাংশ। মাঝারি লবণাক্ত এলাকায় তা বেড়ে ৩৫.৬৫ শতাংশ এবং উচ্চ লবণাক্ত এলাকায় ৮২.৮৪ শতাংশে পৌঁছায়।

প্রজাতিভেদে গরান চারার মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি, ২২.৬৩ শতাংশ। সুন্দরীর ক্ষেত্রে এই হার ১৯.৩৯ শতাংশ। অন্যদিকে কাঁকড়া ও গেওয়া চারার মৃত্যুহার ছিল যথাক্রমে ৪.১২ ও ১.৯ শতাংশ। অর্থাৎ সব প্রজাতি একইভাবে লবণাক্ততার ধকল সামলাতে পারছে না।

তবে টিকে থাকা চারাগাছের বৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এসব চারার বৃদ্ধির হার ছিল ২৩০.৩১ শতাংশ। কম লবণাক্ত এলাকায় কিশলয়ের বৃদ্ধি ৩০১.১ শতাংশ, মাঝারি লবণাক্ত এলাকায় ৯৬.৩৯ শতাংশ এবং উচ্চ লবণাক্ত এলাকায় ২৩২ শতাংশ। গবেষকদের মতে, চারার মৃত্যু ও টিকে থাকা গাছের বৃদ্ধির তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করেই বনের পুনর্জন্মের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে হবে।

চাঁদপাইয়ে সুন্দরী-গেওয়ার বিস্তার কমেছে:

সুন্দরবনের গাছের প্রজাতিগত পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে আরেকটি গবেষণায়। Detection of Kankra Tree Expansion in the Northern Sundarbans* শীর্ষক এই গবেষণায় স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে ১৯৮৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত খুলনা রেঞ্জের চাঁদপাই এলাকায় গাছের বিস্তারের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালে চাঁদপাই রেঞ্জে সুন্দরী ও গেওয়াপ্রধান এলাকার আয়তন ছিল ১৭ হাজার ৩২ হেক্টর। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১২ হাজার ২২ হেক্টরে। একই সময়ে ঘন কাঁকড়াগাছের বিস্তৃত এলাকা ১২১ হেক্টর থেকে বেড়ে ২ হাজার ১৬ হেক্টরে পৌঁছায়।

ঘনত্বের ভিত্তিতে বিশ্লেষণেও কাঁকড়ার বিস্তার বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া গেছে। উচ্চ ঘনত্বের এলাকায় কাঁকড়ার অংশ ১৯৮৮ সালের ০.৪৪ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ৭.৩৮ শতাংশে দাঁড়ায়। মাঝারি ঘনত্বের এলাকায় এ হার ১.৯৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২.৫ শতাংশ হয়। এ শ্রেণির কাঁকড়াপ্রধান এলাকার আয়তন ৫৩৯ হেক্টর থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৪১৮ হেক্টরে পৌঁছায়।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এই পরিবর্তন পুরো সুন্দরবনের চিত্র নয়। বাংলাদেশ স্পেস রিসার্চ অ্যান্ড রিমোট সেন্সিং অর্গানাইজেশনের (স্পারসো) মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণাটি মূলত চাঁদপাই রেঞ্জের নির্দিষ্ট এলাকার পরিবর্তন তুলে ধরেছে। প্রায় ৬ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের মধ্যে চাঁদপাই রেঞ্জের আয়তন ২৭২ বর্গকিলোমিটার। ফলে একটি এলাকার তথ্য দিয়ে পুরো বনের প্রজাতিগত পরিবর্তন নির্ধারণ করা যাবে না।

মিঠাপানির প্রবাহ কমায় বাড়ছে ঝুঁকি:

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম নাহিদের মতে, সুন্দরবনে গেওয়া প্রায় সব এলাকাতেই কিছুটা বেড়েছে। লবণাক্ত এলাকায় গরান ও গেওয়ার উপস্থিতি বেশি হলেও সুন্দরী এখনো কম লবণাক্ত এলাকায় প্রধান প্রজাতি হিসেবে রয়েছে।

তিনি বলেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের টিকে থাকার পরিবেশ বদলে যাচ্ছে। উজান থেকে মিঠাপানি বনে পৌঁছাতে না পারলে লবণাক্ত পানি আরও ভেতরে প্রবেশ করে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক কামরুজ্জামান বলেন, স্যাটেলাইটের তথ্যেও কাঁকড়ার বিস্তার বৃদ্ধি এবং সুন্দরীর দীর্ঘমেয়াদি পতনের চিত্র দেখা গেছে। সুন্দরী গাছের আগা শুকিয়ে যাওয়ার রোগও এ প্রজাতির ক্ষতির একটি কারণ। ফারাক্কা বাঁধের পর মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়া, ছত্রাকের আক্রমণ এবং গাছের অনুপযোগী হয়ে ওঠা পরিবেশ—সবই সুন্দরীর সংকটে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রাকৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের চাপ:

বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট—দুই ধরনের প্রক্রিয়ায় সুন্দরবনের লবণাক্ততা বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উজানে বাঁধ ও ব্যারাজের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা তৈরি হওয়ায় মিঠাপানির প্রবাহ কমছে। মিঠাপানির ওপর নির্ভরশীল গাছের প্রজাতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে তেলবাহী ট্যাংকার ও কয়লাবাহী জাহাজডুবির মতো দুর্ঘটনা সুন্দরবনের ওপর মানুষের সৃষ্ট চাপ আরও বাড়িয়েছে।#

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

এক দশকে অর্ধেকের বেশি চারা মারা গেছে, সংকটে সুন্দরী – লবণাক্ততায় বদলে যাচ্ছে সুন্দরবন:

প্রকাশের সময় : ০২:২৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সুন্দরবনের গাছপালার গঠন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে একসময়ের আধিপত্য বিস্তারকারী সুন্দরী গাছের বিস্তার সংকুচিত হচ্ছে। বিপরীতে লবণসহিষ্ণু গেওয়া ও গরানের উপস্থিতি বাড়ছে।

২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই সময়ে সুন্দরবনের ৫২.৮৯ শতাংশ চারা মারা গেছে। তবে টিকে থাকা চারাগুলোর বৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য। গবেষণার এই চিত্র সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম ও পরিবেশগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Ecological Influences on Regeneration Dynamics in the Sundarbans, Bangladesh: Exploring Biotic and Abiotic Factors Across Time and Space* শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগের গবেষকেরা সুন্দরবনের বিভিন্ন লবণাক্ততা অঞ্চলে গাছের চারা, কিশলয় ও পূর্ণবয়স্ক গাছের অবস্থা বিশ্লেষণ করেন।

লবণাক্ত এলাকায় মৃত্যুহার ৮২ শতাংশের বেশি:

গবেষণায় সুন্দরবনের লবণাক্ততাকে চারার টিকে থাকার অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কম লবণাক্ত এলাকায় চারার মৃত্যুহার ছিল মাত্র ৩.৩৩ শতাংশ। মাঝারি লবণাক্ত এলাকায় তা বেড়ে ৩৫.৬৫ শতাংশ এবং উচ্চ লবণাক্ত এলাকায় ৮২.৮৪ শতাংশে পৌঁছায়।

প্রজাতিভেদে গরান চারার মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি, ২২.৬৩ শতাংশ। সুন্দরীর ক্ষেত্রে এই হার ১৯.৩৯ শতাংশ। অন্যদিকে কাঁকড়া ও গেওয়া চারার মৃত্যুহার ছিল যথাক্রমে ৪.১২ ও ১.৯ শতাংশ। অর্থাৎ সব প্রজাতি একইভাবে লবণাক্ততার ধকল সামলাতে পারছে না।

তবে টিকে থাকা চারাগাছের বৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এসব চারার বৃদ্ধির হার ছিল ২৩০.৩১ শতাংশ। কম লবণাক্ত এলাকায় কিশলয়ের বৃদ্ধি ৩০১.১ শতাংশ, মাঝারি লবণাক্ত এলাকায় ৯৬.৩৯ শতাংশ এবং উচ্চ লবণাক্ত এলাকায় ২৩২ শতাংশ। গবেষকদের মতে, চারার মৃত্যু ও টিকে থাকা গাছের বৃদ্ধির তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করেই বনের পুনর্জন্মের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে হবে।

চাঁদপাইয়ে সুন্দরী-গেওয়ার বিস্তার কমেছে:

সুন্দরবনের গাছের প্রজাতিগত পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে আরেকটি গবেষণায়। Detection of Kankra Tree Expansion in the Northern Sundarbans* শীর্ষক এই গবেষণায় স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে ১৯৮৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত খুলনা রেঞ্জের চাঁদপাই এলাকায় গাছের বিস্তারের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালে চাঁদপাই রেঞ্জে সুন্দরী ও গেওয়াপ্রধান এলাকার আয়তন ছিল ১৭ হাজার ৩২ হেক্টর। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১২ হাজার ২২ হেক্টরে। একই সময়ে ঘন কাঁকড়াগাছের বিস্তৃত এলাকা ১২১ হেক্টর থেকে বেড়ে ২ হাজার ১৬ হেক্টরে পৌঁছায়।

ঘনত্বের ভিত্তিতে বিশ্লেষণেও কাঁকড়ার বিস্তার বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া গেছে। উচ্চ ঘনত্বের এলাকায় কাঁকড়ার অংশ ১৯৮৮ সালের ০.৪৪ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ৭.৩৮ শতাংশে দাঁড়ায়। মাঝারি ঘনত্বের এলাকায় এ হার ১.৯৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২.৫ শতাংশ হয়। এ শ্রেণির কাঁকড়াপ্রধান এলাকার আয়তন ৫৩৯ হেক্টর থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৪১৮ হেক্টরে পৌঁছায়।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এই পরিবর্তন পুরো সুন্দরবনের চিত্র নয়। বাংলাদেশ স্পেস রিসার্চ অ্যান্ড রিমোট সেন্সিং অর্গানাইজেশনের (স্পারসো) মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণাটি মূলত চাঁদপাই রেঞ্জের নির্দিষ্ট এলাকার পরিবর্তন তুলে ধরেছে। প্রায় ৬ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের মধ্যে চাঁদপাই রেঞ্জের আয়তন ২৭২ বর্গকিলোমিটার। ফলে একটি এলাকার তথ্য দিয়ে পুরো বনের প্রজাতিগত পরিবর্তন নির্ধারণ করা যাবে না।

মিঠাপানির প্রবাহ কমায় বাড়ছে ঝুঁকি:

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম নাহিদের মতে, সুন্দরবনে গেওয়া প্রায় সব এলাকাতেই কিছুটা বেড়েছে। লবণাক্ত এলাকায় গরান ও গেওয়ার উপস্থিতি বেশি হলেও সুন্দরী এখনো কম লবণাক্ত এলাকায় প্রধান প্রজাতি হিসেবে রয়েছে।

তিনি বলেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের টিকে থাকার পরিবেশ বদলে যাচ্ছে। উজান থেকে মিঠাপানি বনে পৌঁছাতে না পারলে লবণাক্ত পানি আরও ভেতরে প্রবেশ করে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক কামরুজ্জামান বলেন, স্যাটেলাইটের তথ্যেও কাঁকড়ার বিস্তার বৃদ্ধি এবং সুন্দরীর দীর্ঘমেয়াদি পতনের চিত্র দেখা গেছে। সুন্দরী গাছের আগা শুকিয়ে যাওয়ার রোগও এ প্রজাতির ক্ষতির একটি কারণ। ফারাক্কা বাঁধের পর মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়া, ছত্রাকের আক্রমণ এবং গাছের অনুপযোগী হয়ে ওঠা পরিবেশ—সবই সুন্দরীর সংকটে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রাকৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের চাপ:

বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট—দুই ধরনের প্রক্রিয়ায় সুন্দরবনের লবণাক্ততা বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উজানে বাঁধ ও ব্যারাজের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা তৈরি হওয়ায় মিঠাপানির প্রবাহ কমছে। মিঠাপানির ওপর নির্ভরশীল গাছের প্রজাতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে তেলবাহী ট্যাংকার ও কয়লাবাহী জাহাজডুবির মতো দুর্ঘটনা সুন্দরবনের ওপর মানুষের সৃষ্ট চাপ আরও বাড়িয়েছে।#