আশাশুনিতে গুরুর চিতার পাশে মুসলিম শিষ্যের অশ্রু।। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত
- Update Time : ০১:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৪ Time View

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি।।গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক যে ধর্ম-বর্ণের গণ্ডি পেরিয়ে মানবিকতার গভীর বন্ধনে পরিণত হতে পারে,তারই এক হৃদয়স্পর্শী দৃষ্টান্ত দেখা গেল সাতক্ষীরার আশাশুনিতে।
হিন্দু গুরুর জ্বলন্ত চিতার পাশে বসে অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ বিদায় জানালেন তাঁর মুসলিম শিষ্য। এ দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সেখানে উপস্থিত অনেকেই।
মঙ্গলবার রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে উপজেলার ফকরাবাদ গ্রামের প্রবীণ কাঠমিস্ত্রি শ্যামাপদ সরকার (৮৫) মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শোকে ভেঙে পড়েন দীর্ঘদিনের শিষ্য জোহর আলী গাজী,যিনি স্থানীয়ভাবে ঢালী মিস্ত্রি হিসেবে পরিচিত।
বুধবার দুপুরে বুড়িয়া শ্মশান ঘাটে শ্যামাপদ সরকারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এ সময় জোহর আলীকে গুরুর চিতার পাশে বসে অশ্রুসিক্ত চোখে শেষবারের মতো তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন গুরুর সান্নিধ্যে থেকে কাজ শেখার মধ্য দিয়ে শ্যামাপদ সরকারের সঙ্গে তাঁর যে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল,গুরুর মৃত্যুতে সেই সম্পর্কের গভীরতাই যেন ফুটে ওঠে তাঁর চোখের জলে।
চিতার আগুনের পাশে শিষ্যের এই নীরব কান্না উপস্থিত মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সেখানে ছিল না ধর্মের কোনো বিভাজন,ছিল না জাতপাতের ভেদাভেদ—ছিল শুধু একজন গুরুর প্রতি তাঁর শিষ্যের গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।
হৃদয়স্পর্শী এ দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করেন গণমাধ্যমকর্মী এসএম শরিফুল ইসলাম। মুহূর্তটি উপস্থিত মানুষের মধ্যে ব্যাপক আবেগের সৃষ্টি করে।
কোনো বক্তব্য,স্লোগান কিংবা আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয়নি। গুরুর চিতার পাশে বসে একজন মুসলিম শিষ্যের অশ্রুই যেন নীরবে জানিয়ে দিল—ধর্ম যার যার যার,কিন্তু ভালোবাসা,শ্রদ্ধা ও মানবতা সবার।
আশাশুনির মাটিতে গুরু-শিষ্যের এই সম্পর্ক তাই শুধু একটি মৃত্যুর বিদায় মুহূর্ত নয়;এটি হয়ে উঠেছে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধনের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।##



















