চৌগাছার প্রধান সবজি বাজার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, তীব্র জায়গা সংকট ব্যাপারীরা সবজি না কিনেই ফিরছেন, দিশেহারা কৃষক
- Update Time : ০৮:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৩ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি ॥
যশোরের চৌগাছার প্রধান সবজি বাজার
ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। হঠাৎ করেই বাজারে জায়গা সংকট দেখা দেয়ায় ব্যাপারীরা
ট্রাক রাখা ও মালামাল ক্রয় করে জমা রাখার জায়গা না পেয়ে সকল ব্যাপারী একযোগে
বাজার ত্যাগ করেছেন। ব্যাপারী চলে যাওয়ায় বিক্রি হয়নি কোন সবজি কৃষক
দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ইজারাদার, আড়ত ব্যবসায়ী সমিতি ও পাইকারী ব্যাপারীদের
সাথে মতবিরোধে এমনটি সৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত কিছু আড়ত
ব্যবসায়ী কৌশালে মালামাল অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করেছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার ছিলো চৌগাছার সাপ্তাহিক হাটের দিন। কাক ডাকা ভোর হতেই কৃষক
তার উৎপাদিত সবজি নিয়ে বাজারে প্রবেশ করতে থাকেন। অন্য হাটের মতই বেলা
বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে সবজির সমারোহ, সেই সাথে একে একে
আসতে থাকে পাইকারী ব্যাপারীরদের ট্রাক। সকাল ৯ টার দিকে বাজারে কোন
ব্যাপারী তাদের ট্রাক ভিড়াতে এমনকি সবজি কিনে এক জায়গায় স্তুপ করবে সেই
জায়গা টুকু পাইনি। কোন উপাই না পেয়ে তারা হাট মালিকের কাছে গেলে
সেখান থেকেও পাইনি কোন সদুত্তর। ফলে সকল ব্যাপারী এক জোট হয়ে তাদের সকল
ট্রাক ও লেবার নিয়ে চৌগাছা বাজার ত্যাগ করেন। ব্যাপারি এক সাথে চলে
যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন আড়তদার ও প্রান্তিক চাষিরা। তারা সারা দিন রোদ আর
বৃষ্টিতে ভিজে সবজি বিক্রি করতে পারেননি। কিছু কিছু আড়তদার কৌশল
অবলম্বন করে অন্যত্র সবজি নিয়ে বিক্রি করে টাকা কৃষকের হাতে তুলে দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতি অব্যহত থাকলে চৌগাছার সবজি বাজার টিকিয়ে রাখা হবে
কষ্টসাধ্য মনে করছেন হাটের সাথে সংশ্লিষ্ঠরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবজি বাজারের দক্ষিন পশ্চিম কোনে প্রায় ৪৬ শতক
জমিতে নির্মান হচ্ছে মডেল মসজিদ। ওই স্থানে অর্ধশত আড়ত ব্যবসায়ীরা তাদের
আড়ত ভেঙ্গে কিছু উঠেছে হাইস্কুলের পরিত্যাক্ত অসমাপ্ত ভবনে আর কিছু আড়ত
ব্যবসায়ী বাজারের খালি স্থানে যেখানে ব্যাপারীরা ট্রাক ও তাদের কেনা সবজি স্তুপ
করতো সেই জায়গায় আড়ক বানিয়েছে। ফলে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে, যার
কারনে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এ সময় কথা হয় কৃষক মতিয়ার রহমানের সাথে। তিনি বলেন, হাটের জায়গায়
মডেল মসজিদ হচ্ছে জায়গা ছোট হয়ে গেছে ব্যাপারীরা মাল না কিনেই চলে
গেছে আমরা এখন কি করবো। আড়ৎ ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ বলেন, বৃহৎ এই
হাটে হাজারো মানুষের রুজিরুটির ব্যবস্থা কিন্তু হাটটি আজ ধ্বংসের
দ্বারপ্রান্তে। ব্যাপারীরা এসে তারা সবজি কিনে রাখতে পারছে না, ট্রাক রাখতে
পারছে না ফলে সব ব্যাপারী এক জোট হয়ে কোন সবজি না কিনেই চলে গেছেন।
এখন যত বিপদ হচ্ছে কৃষকের।
আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হুশিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক বিএম
আইনাল হোসেন বলেন, হাটের জমিতে মসজিদ নির্মানের কারনে কিছুটা
সমস্যা হয়েছে তবে আমরা জায়গা বানিয়ে দিয়েছি। বৃহৎ অংশে কাদা থাকায়
সেখানে ব্যাপারী, কৃষক কেউ যেতে পারছে না। হাট মালিকও কোন উদ্যোগ
নিচ্ছে না যার ফলে আজকে এই পরিস্থিতি। সকল ব্যাপারী হাট মালিকের কাছে
গেছেন কিন্তু হাট মালিক ব্যাপারীদের সাথে ভালো ব্যবহার করিনি, তারা সবজি না
কিনেই চলে গেছেন। প্রধান সবজি বাজারে ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু বলেন, মসজিদ হওয়ায় ফলে জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে, তারমধ্যে আড়ৎদাররা যে যার মত জমি দখলে নিয়ে আড়ৎ বানিয়েছে। আজকে হাটের এই অবস্থা দেখে ব্যাপারীরা মাল না কিনে চলে
গেছেন। আমি ব্যাপারীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।



















