০৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিবহনে চাঁদাবাজির রাজত্ব: শ্রমিক-যাত্রীদের ঘাম ঝরানো লাখ লাখ টাকা যাচ্ছে কার পকেটে?

রিপোর্টার খাইরুল বাশার
  • Update Time : ০৪:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৭৫ Time View

​পরিবহন খাতে মালিক সমিতির নামে অবাধে চলছে চাঁদাবাজি। বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী গণপরিবহন ও পণ্যবাহী গাড়ি থেকে মাসোহারা ও দৈনিকভিত্তিতে তোলা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। চালক ও সাহায্যকারীদের অভিযোগ, কোনো নির্দিষ্ট রশিদ ছাড়াই বা সমিতির নামে ভুয়া রসিদ দেখিয়ে এই বিপুল অংকের চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
​প্রতিদিন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের পরিশ্রমের অর্জিত আয় থেকে টেনে নেওয়া এই টাকার শেষ গন্তব্য কোথায়, কে বা কারা এই অর্থ লুটে নিচ্ছে—তার কোনো সুস্পষ্ট হিসাব বা হদিস নেই। স্থানীয় পরিবহন খাতের একাধিক সূত্র জানায়, সাধারণ শ্রমিক বা রুটের সার্বিক উন্নয়নের কথা বলে টাকা তোলা হলেও তার সামান্য অংশও শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় হয় না। বরং একটি প্রভাবশালী মহল এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
​চাঁদাবাজির এই প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। বাড়তি চাঁদার জুগিয়ে উঠতে বাস ও গণপরিবহনে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া, আর পণ্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে বেড়ে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন খরচ।
​ভুলভুলাইয়ার মতো ছড়িয়ে থাকা এই অবৈধ অর্থচক্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে। ভুক্তভোগী শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের একটাই দাবি—প্রশাসনকে অবিলম্বে এই নীরব চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ তদন্তে নামতে হবে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনলে এই খাতে নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

পরিবহনে চাঁদাবাজির রাজত্ব: শ্রমিক-যাত্রীদের ঘাম ঝরানো লাখ লাখ টাকা যাচ্ছে কার পকেটে?

Update Time : ০৪:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​পরিবহন খাতে মালিক সমিতির নামে অবাধে চলছে চাঁদাবাজি। বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী গণপরিবহন ও পণ্যবাহী গাড়ি থেকে মাসোহারা ও দৈনিকভিত্তিতে তোলা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। চালক ও সাহায্যকারীদের অভিযোগ, কোনো নির্দিষ্ট রশিদ ছাড়াই বা সমিতির নামে ভুয়া রসিদ দেখিয়ে এই বিপুল অংকের চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
​প্রতিদিন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের পরিশ্রমের অর্জিত আয় থেকে টেনে নেওয়া এই টাকার শেষ গন্তব্য কোথায়, কে বা কারা এই অর্থ লুটে নিচ্ছে—তার কোনো সুস্পষ্ট হিসাব বা হদিস নেই। স্থানীয় পরিবহন খাতের একাধিক সূত্র জানায়, সাধারণ শ্রমিক বা রুটের সার্বিক উন্নয়নের কথা বলে টাকা তোলা হলেও তার সামান্য অংশও শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় হয় না। বরং একটি প্রভাবশালী মহল এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
​চাঁদাবাজির এই প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। বাড়তি চাঁদার জুগিয়ে উঠতে বাস ও গণপরিবহনে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া, আর পণ্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে বেড়ে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন খরচ।
​ভুলভুলাইয়ার মতো ছড়িয়ে থাকা এই অবৈধ অর্থচক্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে। ভুক্তভোগী শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের একটাই দাবি—প্রশাসনকে অবিলম্বে এই নীরব চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ তদন্তে নামতে হবে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনলে এই খাতে নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়।