ভালুকায় শিশু ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার
- প্রকাশের সময় : ১১:৫০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 29

ময়মনসিংহের ভালুকায় সাত বছর বয়সী এক শিশু ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মোহাম্মদ আলী (৩০) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়েরের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কাশর চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত ‘মাদ্রাসাতুত তাকওয়া’ নামের একটি কওমি মাদ্রাসা থেকে তাকে আটক করে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলী বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ওই মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২ নভেম্বর সকালে শ্রেণিকক্ষে পড়া দিতে গেলে শিক্ষক মোহাম্মদ আলী ওই শিশু শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি দেখান এবং নিজের মুঠোফোনে অশালীন ভিডিও প্রদর্শন করে অনৈতিক ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালান। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। আটকের পর ওই শিক্ষকের কক্ষ তল্লাশি করে বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক হালুয়া, তন্ত্রমন্ত্র ও জাদুবিদ্যাসংক্রান্ত বই, শতাধিক ব্যক্তির ছবি, মন্ত্র লেখা ছবি, তাবিজসহ কবিরাজি চিকিৎসার বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক শিক্ষক পুলিশের কাছে আরও দাবি করেছেন, মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ ক্বারী আনিসুর রহমান সিদ্দিকী সেখানে নামমাত্র শিক্ষাদানের পাশাপাশি বিভিন্ন বহিরাগত ব্যক্তিকে এনে কবিরাজি চিকিৎসা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।
পবিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুর ওপর এমন যৌন নিপীড়নের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। শিশুর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
























