ভূঞাগাতী ইউনিয়নে যোগ দিতে চান না চান্দাইকোনার দুই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা: গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, প্রতিবাদ সভা ও স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা
- Update Time : ০৯:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৮ Time View

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় প্রস্তাবিত ‘ভূঞাগাতী ইউনিয়ন পরিষদ’ গঠন নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন ইউনিয়নে চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা নতুন ইউনিয়নে যুক্ত না হয়ে আগের মতোই চান্দাইকোনা ইউনিয়নের অধীনে বহাল থাকতে চান।
নিজেদের অস্তিত্ব ও প্রশাসনিক অবস্থান রক্ষায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল থেকে এলাকায় গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, মতবিনিময় সভা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গণস্বাক্ষর ও মতবিনিময় সভা
মঙ্গলবার বিকেলে চান্দাইকোনা ইউনিয়নের পূর্ব পাইকড়া ও পশ্চিম লক্ষীকোলা নতুন বাজার এলাকায় এ গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু হয়। এতে পূর্ব পাইকড়া, খোকশাহাট, লক্ষীকোলাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মুরব্বি মো. ছোরহাবুল আলমের সভাপতিত্বে এবং যুবক শাকিল আহমেদের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন:
সাইদুল ইসলাম
আব্দুল মালেক
আবু সুফিয়ান
মুক্তার হোসেন
আমিনুর ইসলাম
ইউসুফ আলী
মনিরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও গণশুনানি বয়কট
সভায় বক্তারা বলেন, ভূঞাগাতীকে নতুন ইউনিয়ন হিসেবে গঠনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন গণশুনানির আয়োজন করলেও ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা প্রস্তাবিত ইউনিয়নে যেতে আগ্রহী নন। দীর্ঘদিন ধরে চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সাথে সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত থাকায় ভবিষ্যতেও একই ইউনিয়নে থাকার পক্ষে তাঁরা। এ কারণে প্রতিবাদ হিসেবে তাঁরা উপজেলা প্রশাসনের গণশুনানিতে অংশ নেননি।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, “নতুন ইউনিয়ন গঠন প্রশাসনিক উন্নয়নের উদ্যোগ হতে পারে, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় মানুষের মতামত, দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্ক ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত। জনগণের সম্মতি ছাড়া চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হবে না।”
প্রতিনিধি দলকে হেনস্তার অভিযোগ
গণশুনানিতে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছিল জানিয়ে বক্তারা অভিযোগ করেন, শুনানিতে বক্তব্য দিতে গেলে উপস্থিত কিছু মানুষের বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়েন তাঁরা। এমনকি প্রশাসনের উপস্থিতিতেই তাঁদের হেনস্তা করা হয় বলে দাবি করা হয়।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সব পক্ষকে স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া উচিত। ভূঞাগাতীর পরিবর্তে কোনো নিরপেক্ষ স্থানে গণশুনানি আয়োজন করা হলে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হতো, যা প্রশাসন নিশ্চিত করতে পারেনি।
আগামী দিনের কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান
সভায় চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডকে আগের অবস্থাতেই বহাল রাখার জোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বক্তারা জানান, গণস্বাক্ষর সংবলিত একটি স্মারকলিপি দ্রুতই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দেওয়া হবে।
যদি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরও তাঁদের এই ন্যায্য দাবি বিবেচনা করা না হয়, তবে স্থানীয় অধিবাসীদের নিয়ে আলোচনা করে কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন এলাকাবাসী।
বর্তমানে এই দুই ওয়ার্ডের তীব্র আপত্তির পর উপজেলা প্রশাসন পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রায়গঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ।




















