ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬,
২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাকের হত্যা ও সোনা ডাকাতির যোগসূত্র! স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গোলাম জাহিদ গ্রেপ্তার

Munshi Habibul Haque
  • প্রকাশের সময় : ১১:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 61

মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হোসেন হত্যা ও ১৫০ ভরি সোনা ডাকাতির ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মাগুরা জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোনা ডাকাতির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে সাকের হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, সেই রহস্য উদ্ঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

সোমবার রাতে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে গোলাম জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন সাকের হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা ডিবির এসআই কামরুজ্জামান। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সাকের হত্যা ও সোনা ডাকাতির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের ভেতরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেন। দুই যুবক মোটরসাইকেলে এসে কাউন্টারে ঢুকে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তে তার মাথার ভেতর থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সাকেরের স্ত্রী শারমিন নাহার সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনার রাতেই সাকেরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ঢাকা মহানগর যুবদলের সদস্য রনি শিকদার ও তার বান্ধবী শামীমা তাবাসসুম লুবনাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদার ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ গ্রেপ্তার হলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাগুরার রামনগর এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস থেকে পুলিশ পরিচয়ে মজিবুর রহমান নামে এক যাত্রীর ১৫০ ভরি সোনা লুট করে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি ডাকাত দল। পরে তাকে শাবলগাছা এলাকায় হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে যায় তারা।

এ ঘটনায় ২৮ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন মজিবুর রহমান। তার অভিযোগ, ডাকাতির সময় দুর্বৃত্তদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, হাতকড়া ও ওয়‍্যারলেস সেট ছিল। সাকের হত্যা মামলায় আটক ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে তিনি ডাকাতির ঘটনায় অংশ নিতে দেখেছেন বলেও দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিসি ওসি মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, বাদির বক্তব্যের সত্যতা কতটা সেই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রিপোর্টারের তথ্য
মুন্সি হাসিবুল হক

মুন্সি হাসিবুল হক

জেলা প্রতিনিধি, মাগুরা

সাকের হত্যা ও সোনা ডাকাতির যোগসূত্র! স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গোলাম জাহিদ গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ১১:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হোসেন হত্যা ও ১৫০ ভরি সোনা ডাকাতির ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মাগুরা জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোনা ডাকাতির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে সাকের হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, সেই রহস্য উদ্ঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

সোমবার রাতে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে গোলাম জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন সাকের হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা ডিবির এসআই কামরুজ্জামান। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সাকের হত্যা ও সোনা ডাকাতির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের ভেতরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেন। দুই যুবক মোটরসাইকেলে এসে কাউন্টারে ঢুকে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তে তার মাথার ভেতর থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সাকেরের স্ত্রী শারমিন নাহার সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনার রাতেই সাকেরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ঢাকা মহানগর যুবদলের সদস্য রনি শিকদার ও তার বান্ধবী শামীমা তাবাসসুম লুবনাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদার ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ গ্রেপ্তার হলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাগুরার রামনগর এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস থেকে পুলিশ পরিচয়ে মজিবুর রহমান নামে এক যাত্রীর ১৫০ ভরি সোনা লুট করে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি ডাকাত দল। পরে তাকে শাবলগাছা এলাকায় হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে যায় তারা।

এ ঘটনায় ২৮ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন মজিবুর রহমান। তার অভিযোগ, ডাকাতির সময় দুর্বৃত্তদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, হাতকড়া ও ওয়‍্যারলেস সেট ছিল। সাকের হত্যা মামলায় আটক ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে তিনি ডাকাতির ঘটনায় অংশ নিতে দেখেছেন বলেও দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিসি ওসি মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, বাদির বক্তব্যের সত্যতা কতটা সেই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।