ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত

রিপোর্টার মোঃ ফয়সাল
রিপোর্টার মোঃ ফয়সাল
  • প্রকাশের সময় : ০১:৩২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 119

​নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও অভূতপূর্ব আনন্দঘন পরিবেশে এক বিশাল ‘জশনে জুলুস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দুনিয়ায় শুভাগমন এবং তাঁর সুমহান আদর্শ স্মরণে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এই বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসে নিয়মিতভাবে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অন্যতম শীর্ষ নেতা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী এই জুলুস ও সমাবেশে প্রধান বক্তা বা মুরুব্বি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর উপস্থিতি এবং সান্নিধ্য এই আয়োজনকে আরও বেশি মহিমান্বিত করে তোলে।
সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ধর্মপ্রাণ মুসলমান, বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক, পীর-মাশায়েখ ও সুফি-মাজহাবের অনুসারীরা দলে দলে এসে নির্ধারিত জমায়েতস্থলে সমবেত হন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল কলেমা খচিত পতাকা, ফেস্টুন এবং নবীপ্রেমের বাণী সংবলিত প্ল্যাকার্ড। ‘নারায়ে তাকবির, নারায়ে রিসালাত’, ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা’ এবং ‘দরুদ ও সালাম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে নারায়ণগঞ্জের আকাশ-বাতাস। বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষও এতে অংশ নেন।
জুলুসটি নির্দিষ্ট রুট প্রদক্ষিণ শেষে একটি বিশাল সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে আমন্ত্রিত অতিথিরা ও দেশের প্রখ্যাত আলেমগণ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বর্ণাঢ্য জীবন, তাঁর সুন্নাহ, ক্ষমা, সহনশীলতা এবং মানবতার সার্বজনীন শিক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান অশান্ত বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং সমাজে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
আয়োজক কমিটি, স্থানীয় আলেম-ওলামা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সমাবেশস্থল।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত

প্রকাশের সময় : ০১:৩২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

​নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও অভূতপূর্ব আনন্দঘন পরিবেশে এক বিশাল ‘জশনে জুলুস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দুনিয়ায় শুভাগমন এবং তাঁর সুমহান আদর্শ স্মরণে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এই বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসে নিয়মিতভাবে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অন্যতম শীর্ষ নেতা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী এই জুলুস ও সমাবেশে প্রধান বক্তা বা মুরুব্বি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর উপস্থিতি এবং সান্নিধ্য এই আয়োজনকে আরও বেশি মহিমান্বিত করে তোলে।
সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ধর্মপ্রাণ মুসলমান, বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক, পীর-মাশায়েখ ও সুফি-মাজহাবের অনুসারীরা দলে দলে এসে নির্ধারিত জমায়েতস্থলে সমবেত হন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল কলেমা খচিত পতাকা, ফেস্টুন এবং নবীপ্রেমের বাণী সংবলিত প্ল্যাকার্ড। ‘নারায়ে তাকবির, নারায়ে রিসালাত’, ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা’ এবং ‘দরুদ ও সালাম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে নারায়ণগঞ্জের আকাশ-বাতাস। বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষও এতে অংশ নেন।
জুলুসটি নির্দিষ্ট রুট প্রদক্ষিণ শেষে একটি বিশাল সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে আমন্ত্রিত অতিথিরা ও দেশের প্রখ্যাত আলেমগণ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বর্ণাঢ্য জীবন, তাঁর সুন্নাহ, ক্ষমা, সহনশীলতা এবং মানবতার সার্বজনীন শিক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান অশান্ত বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং সমাজে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
আয়োজক কমিটি, স্থানীয় আলেম-ওলামা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সমাবেশস্থল।