ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে অভিযান: ২ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ

মো:শফিউল আলম রাশেদ ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি:
মো:শফিউল আলম রাশেদ ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 32

মা ইলিশ সংরক্ষণ ও ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ। অভিযানে প্রায় দুই হাজার মিটার অবৈধ জাল ও একটি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা জালগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন। নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা এবং মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে নদীতে ব্যবহৃত অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জালগুলো প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং ইলিশের বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ইলিশ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজনন সুরক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ে মা ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ সময়ে নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার ইলিশের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তারে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরা প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। এ লক্ষ্যে জেলা মৎস্য বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে জেলেদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ করা গেলে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজননের সুযোগ বাড়বে। এর ফলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের সচেতন সহযোগিতাও জরুরি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে অভিযান: ২ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

মা ইলিশ সংরক্ষণ ও ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ। অভিযানে প্রায় দুই হাজার মিটার অবৈধ জাল ও একটি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা জালগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন। নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা এবং মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে নদীতে ব্যবহৃত অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জালগুলো প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং ইলিশের বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ইলিশ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজনন সুরক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ে মা ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ সময়ে নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার ইলিশের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তারে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরা প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। এ লক্ষ্যে জেলা মৎস্য বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে জেলেদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ করা গেলে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজননের সুযোগ বাড়বে। এর ফলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের সচেতন সহযোগিতাও জরুরি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব।