০৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রায়গঞ্জে আমন ধানের পাতায় অজানা রোগ, ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

কে, এম রিমান ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৪:৫২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮ Time View

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আমন ধানের জমিতে দেখা দিয়েছে পাতার অস্বাভাবিক শুকিয়ে যাওয়ার লক্ষণ। ধানের পাতার আগা ও কিনারা প্রথমে হলদে হয়ে পরে বাদামি রঙ ধারণ করে শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেক জমিতে আক্রান্ত পাতার বড় অংশ এমনভাবে শুকিয়ে গেছে, যেন আগুনে পুড়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার কৃষকেরা একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

এতে চলতি আমন মৌসুমের ধানের ফলন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। রোগের সঠিক কারণ জানা না থাকায় কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে, তা নিয়েও তাঁদের মধ্যে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু ধানের জমিতে পাতার স্বাভাবিক সবুজ রং নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও পাতার আগা থেকে শুকিয়ে আসছে, আবার কোনো কোনো জমিতে পাতার কিনারা বরাবর বাদামি দাগ দেখা যাচ্ছে। ধীরে ধীরে আক্রান্ত অংশ বিস্তৃত হয়ে পুরো পাতার একটি বড় অংশ শুকিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুরুতে বিষয়টি তেমন গুরুত্বের মনে হয়নি। কিন্তু কয়েক দিন পর একই জমির একাধিক গাছের পাতায় একই ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। এরপর আক্রান্ত পাতার সংখ্যা বাড়তে থাকায় কৃষকেরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন।

চান্দাইকোনায় ১০ বিঘা জমিতে আক্রান্তের দাবি

চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাই হাজীপুর মৌজায় প্রায় ১০ বিঘা জমিতে ধানের পাতায় এ ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন। সেখানে সরেজমিনে কৃষক আলামিন খান ও মো. আবুল হাসেমের জমিতেও আক্রান্ত ধানগাছ দেখা যায়।

কৃষক আলামিন খানের প্রায় চার বিঘা জমির ধানে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, “ধানের গাছ শুরুতে খুব ভালো ছিল। হঠাৎ করে পাতার আগা শুকাতে শুরু করে। পরে দেখি ধীরে ধীরে অনেক গাছের পাতায় একই সমস্যা হচ্ছে। এখন রোগটা কী এবং কী করলে ভালো হবে, সেটাই বুঝতে পারছি না।”

একই এলাকার কৃষক মো. আবুল হাসেমেরও প্রায় চার বিঘা জমির ধানে একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, “ধানের পাতা এভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে দেখে চিন্তায় আছি। এখন ধানের বয়সও এমন যে রোগ বেশি ছড়িয়ে পড়লে ফলনের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। কৃষি অফিস থেকে যদি দ্রুত পরামর্শ দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়।”

একাধিক এলাকায় একই চিত্র

শুধু সরাই হাজীপুর নয়, রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার কৃষকেরাও ধানের পাতায় একই ধরনের লক্ষণ দেখা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

কৃষকেরা বলছেন, আমন ধান তাঁদের মৌসুমি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। ধান উৎপাদনের জন্য জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যায় ইতোমধ্যে তাঁদের উল্লেখযোগ্য অর্থ খরচ হয়েছে। এখন ফসল ঘরে তোলার সময়ের আগে ধানের জমিতে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ায় সম্ভাব্য ফলন নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত।

তবে এটি ঠিক কোন রোগ বা কী কারণে ধানের পাতাগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফলে কৃষকেরা নিজেদের মতো করে ওষুধ প্রয়োগ না করে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শের অপেক্ষায় রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা কৃষি বিভাগের

চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত নই। ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে দেখে বিস্তারিত জানাচ্ছি।”

রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, “ধানের জমিতে এ ধরনের রোগের লক্ষণ দেখা দিলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে রোগটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আক্রান্ত জমির কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি রোগটি যাতে অন্য জমিতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে কৃষকদের সতর্ক করা হবে।”

কৃষকদের দাবি, দ্রুত আক্রান্ত জমিগুলো পরিদর্শন করে ধানের পাতার সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা হোক। একই সঙ্গে আক্রান্ত জমিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

কৃষকদের আশঙ্কা, শুরুতেই রোগের কারণ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আক্রান্ত জমির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এতে চলতি আমন মৌসুমে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারেন তাঁরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রায়গঞ্জে আমন ধানের পাতায় অজানা রোগ, ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

Update Time : ০৪:৫২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আমন ধানের জমিতে দেখা দিয়েছে পাতার অস্বাভাবিক শুকিয়ে যাওয়ার লক্ষণ। ধানের পাতার আগা ও কিনারা প্রথমে হলদে হয়ে পরে বাদামি রঙ ধারণ করে শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেক জমিতে আক্রান্ত পাতার বড় অংশ এমনভাবে শুকিয়ে গেছে, যেন আগুনে পুড়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার কৃষকেরা একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

এতে চলতি আমন মৌসুমের ধানের ফলন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। রোগের সঠিক কারণ জানা না থাকায় কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে, তা নিয়েও তাঁদের মধ্যে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু ধানের জমিতে পাতার স্বাভাবিক সবুজ রং নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও পাতার আগা থেকে শুকিয়ে আসছে, আবার কোনো কোনো জমিতে পাতার কিনারা বরাবর বাদামি দাগ দেখা যাচ্ছে। ধীরে ধীরে আক্রান্ত অংশ বিস্তৃত হয়ে পুরো পাতার একটি বড় অংশ শুকিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুরুতে বিষয়টি তেমন গুরুত্বের মনে হয়নি। কিন্তু কয়েক দিন পর একই জমির একাধিক গাছের পাতায় একই ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। এরপর আক্রান্ত পাতার সংখ্যা বাড়তে থাকায় কৃষকেরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন।

চান্দাইকোনায় ১০ বিঘা জমিতে আক্রান্তের দাবি

চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাই হাজীপুর মৌজায় প্রায় ১০ বিঘা জমিতে ধানের পাতায় এ ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন। সেখানে সরেজমিনে কৃষক আলামিন খান ও মো. আবুল হাসেমের জমিতেও আক্রান্ত ধানগাছ দেখা যায়।

কৃষক আলামিন খানের প্রায় চার বিঘা জমির ধানে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, “ধানের গাছ শুরুতে খুব ভালো ছিল। হঠাৎ করে পাতার আগা শুকাতে শুরু করে। পরে দেখি ধীরে ধীরে অনেক গাছের পাতায় একই সমস্যা হচ্ছে। এখন রোগটা কী এবং কী করলে ভালো হবে, সেটাই বুঝতে পারছি না।”

একই এলাকার কৃষক মো. আবুল হাসেমেরও প্রায় চার বিঘা জমির ধানে একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, “ধানের পাতা এভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে দেখে চিন্তায় আছি। এখন ধানের বয়সও এমন যে রোগ বেশি ছড়িয়ে পড়লে ফলনের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। কৃষি অফিস থেকে যদি দ্রুত পরামর্শ দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়।”

একাধিক এলাকায় একই চিত্র

শুধু সরাই হাজীপুর নয়, রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার কৃষকেরাও ধানের পাতায় একই ধরনের লক্ষণ দেখা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

কৃষকেরা বলছেন, আমন ধান তাঁদের মৌসুমি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। ধান উৎপাদনের জন্য জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যায় ইতোমধ্যে তাঁদের উল্লেখযোগ্য অর্থ খরচ হয়েছে। এখন ফসল ঘরে তোলার সময়ের আগে ধানের জমিতে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ায় সম্ভাব্য ফলন নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত।

তবে এটি ঠিক কোন রোগ বা কী কারণে ধানের পাতাগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফলে কৃষকেরা নিজেদের মতো করে ওষুধ প্রয়োগ না করে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শের অপেক্ষায় রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা কৃষি বিভাগের

চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত নই। ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে দেখে বিস্তারিত জানাচ্ছি।”

রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, “ধানের জমিতে এ ধরনের রোগের লক্ষণ দেখা দিলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে রোগটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আক্রান্ত জমির কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি রোগটি যাতে অন্য জমিতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে কৃষকদের সতর্ক করা হবে।”

কৃষকদের দাবি, দ্রুত আক্রান্ত জমিগুলো পরিদর্শন করে ধানের পাতার সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা হোক। একই সঙ্গে আক্রান্ত জমিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

কৃষকদের আশঙ্কা, শুরুতেই রোগের কারণ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আক্রান্ত জমির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এতে চলতি আমন মৌসুমে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারেন তাঁরা।