কর্ণফুলীতে ৪র্থ জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার উপজেলা অডিশন অনুষ্ঠিত।
- Update Time : ০৭:২৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৭ Time View

পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া, নতুন প্রজন্মকে হিফজুল কুরআনে উৎসাহিত করা এবং কুরআন হিফজ, বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও সুমধুর কণ্ঠের প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী ৪র্থ জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬-২৭-এর উপজেলা অডিশন।
শনিবার (২২ আগস্ট ২০২৬) কর্ণফুলী উপজেলার ফয়জুল বারী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ অডিশন অনুষ্ঠিত হয়। মাইজভাণ্ডারী তরিকার প্রবর্তক গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী হযরত মওলানা শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.)-এর পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাঁর কুরআনভিত্তিক শিক্ষার আদর্শকে সামনে রেখে এ আয়োজন করা হয়।
গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এবং আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ্ এমদাদীয়া), কর্ণফুলী উপজেলা কার্যকরী সংসদ ও শাখা কমিটির সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে পরিচালনা করেন কর্ণফুলী উপজেলা কার্যকরী সংসদের সভাপতি মোহাম্মদ জানে আলম সওদাগর, সহ-সভাপতি মোঃ আহসান হাবীব এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা কার্যকরী সংসদের দারুত তালিম সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মোঃ ইব্রাহিম।
প্রতিযোগিতার বিচারকমণ্ডলীতে ছিলেন হাফেজ ক্বারী একরাম হোসাইন, হাফেজ ক্বারী মামুনুর রশিদ ও হাফেজ ক্বারী মুহাম্মদ আল হাসান। প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন, ফাউন্ডেশনের চিফ কো-অর্ডিনেটর হাফেজ ক্বারী মাওলানা মোবারক আলী হোসাইনী এবং সঞ্চালনায় ছিলেন কো-অর্ডিনেটর মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল করিম।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত হাফেজে কুরআন ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ৫ পারা ও ১০ পারা—উভয় গ্রুপে মোট ২০ জন প্রতিযোগী কৃতিত্বের সঙ্গে ‘ইয়েস কার্ড’ অর্জন করেন। নির্বাচিত প্রতিযোগীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও ইয়েস কার্ড তুলে দেওয়া হয়।
এছাড়া হুসনে সাউত গ্রুপে ১০ জন প্রতিযোগীকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অডিশনে অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষকদেরও উপহার দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন আওলাদে রাসুল, সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরিকত আলহাজ্ব হযরত মওলানা শাহ সুফি সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আওলাদে রাসুল, নায়েব সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম এবং গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।
প্রতিযোগিতাকে ঘিরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। আয়োজকরা জানান, নতুন প্রজন্মের মাঝে পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া, কুরআন মুখস্থ করার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং মেধাবী হাফেজদের উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
আয়োজকরা আরও জানান, ভবিষ্যতেও কুরআন শিক্ষা, বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশে এ ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা—এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে কুরআনের আলোয় আলোকিত হওয়ার পথে আরও অনুপ্রাণিত করবে।
























