ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও নারীদের পাশে সহায়তার হাত— বিতরণ হলো সেলাই মেশিন, বাইসাইকেল ও নগদ অর্থ
- Update Time : ০৫:১৫:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / ১২ Time View

শাহিনুর ইসলাম : বিশেষ প্রতিনিধিঃ
যশোর সদর উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনগোষ্ঠীর দরিদ্র ও অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন, শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও শিক্ষা বৃত্তির নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) যশোর সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষায় সহায়তা এবং নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। দরিদ্র ও অসহায় নারীদের হাতে সেলাই মেশিন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও শিক্ষা বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা যাতে অর্থের অভাবে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে এবং নারীরা যাতে নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। তিনি বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর যে ধারাটি দেশে বিভিন্ন সময়ে গড়ে উঠেছে, তার সঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়ন ও মানুষের স্বনির্ভরতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচিতে গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা, শিক্ষা এবং নারী-যুবকদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ও শিক্ষা ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তাঁর সরকারের সময়ে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তি, ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি এবং মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষায় বিভিন্ন সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সহায়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। উন্নয়নের সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশা ও জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কয়েকজন শিক্ষার্থী ও নারী উপকারভোগীর হাতে সরাসরি সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। সেলাই মেশিন পাওয়া নারীরা এর মাধ্যমে আয়মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। আর বাইসাইকেল পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সহজ হবে বলে জানান আয়োজকরা। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



















