১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​জলবায়ু পরিবর্তনের ঐতিহাসিক ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে মোংলায় মানববন্ধন

​শাওন আকবার শান্ত মোংলা প্রতিনিধি:
  • Update Time : ০৮:৫১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩৩ Time View

​জলবায়ু মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোকে আবার নতুন করে ঋণের জালে জড়ানো যাবে না বলে দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা। বক্তারা বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতি থেকে লাভবান হচ্ছে তথাকথিত উন্নত রাষ্ট্র ও বড় কোম্পানিগুলো। অথচ ঘূর্ণিঝড়, খরা, নদীভাঙন ও ফসল নষ্টের চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা সাধারণ জনগণকে।”
​১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) সকালে মোংলার মিঠাখালি বাজারে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ও বিশ্বব্যাংকের আসন্ন বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বক্তারা। মানববন্ধনে পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করা, সবুজ ও টেকসই জ্বালানিতে রূপান্তর এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানানো হয়।
​’ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা), ‘পশুর রিভার ওয়াটারকিপার’, ‘উদয়ন যুব সংঘ (ইউজেএস)’ এবং ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আগামী ১২-১৮ অক্টোবর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভাকে সামনে রেখে “বিশ্ব অর্থনীতি কার স্বার্থে চলবে?”—এই মূল প্রশ্নটিকে তুলে ধরে মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করা হয়।
​শুক্রবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ‘ধরা’র কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের সমন্বয়কারী মোঃ নূর আলম শেখ।
​মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে মোঃ নূর আলম শেখ বলেন, “মুনাফার পৃথিবী নয়, মানুষের পৃথিবী গড়তে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও জনগোষ্ঠীকে ঋণের বোঝা না চাপিয়ে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জলবায়ু তহবিল নিশ্চিতের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগই হলো প্রকৃত জলবায়ু বিনিয়োগ। খাদ্যকে কোম্পানির মুনাফার পণ্য না বানিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
​মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে শ্রমিক নেতা নাজমুল হক বলেন, “উন্নয়নশীল দেশগুলোকে একদিকে বিদেশি ঋণের কিস্তি ও চড়া সুদ মেটাতে হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক খাতে ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জলবায়ু দুর্যোগের ঝুঁকি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। ঋণ শোধের নামে যদি মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়, তবে সেই উন্নয়ন কার স্বার্থে? ঋণদাতাদের শর্তের চেয়ে জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”
​মানববন্ধনে আরও বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ‘ধরা’ নেতা মোল্লা আল মামুন, কৃষক নেতা আসাদুজ্জামান টিটো, উদয়ন যুব সংঘের এস এম জানে আলম বাবু, সিপির নেতা মোঃ শাহ আলম, তরুণ নেতা শেখ সিফাতুল্লাহ শুভ, আরাফাত দূর্জয় এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের মেহেদী হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
​মানববন্ধন থেকে পরিবেশবান্ধব কৃষি নিশ্চিতকরণ, নবায়নযোগ্য সবুজ জ্বালানির বাস্তবায়ন এবং অবিলম্বে জলবায়ু তহবিলের অর্থ ছাড়ের জোর দাবি জানানো হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

​জলবায়ু পরিবর্তনের ঐতিহাসিক ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে মোংলায় মানববন্ধন

Update Time : ০৮:৫১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

​জলবায়ু মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোকে আবার নতুন করে ঋণের জালে জড়ানো যাবে না বলে দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা। বক্তারা বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতি থেকে লাভবান হচ্ছে তথাকথিত উন্নত রাষ্ট্র ও বড় কোম্পানিগুলো। অথচ ঘূর্ণিঝড়, খরা, নদীভাঙন ও ফসল নষ্টের চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা সাধারণ জনগণকে।”
​১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) সকালে মোংলার মিঠাখালি বাজারে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ও বিশ্বব্যাংকের আসন্ন বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বক্তারা। মানববন্ধনে পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করা, সবুজ ও টেকসই জ্বালানিতে রূপান্তর এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানানো হয়।
​’ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা), ‘পশুর রিভার ওয়াটারকিপার’, ‘উদয়ন যুব সংঘ (ইউজেএস)’ এবং ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আগামী ১২-১৮ অক্টোবর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভাকে সামনে রেখে “বিশ্ব অর্থনীতি কার স্বার্থে চলবে?”—এই মূল প্রশ্নটিকে তুলে ধরে মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করা হয়।
​শুক্রবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ‘ধরা’র কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের সমন্বয়কারী মোঃ নূর আলম শেখ।
​মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে মোঃ নূর আলম শেখ বলেন, “মুনাফার পৃথিবী নয়, মানুষের পৃথিবী গড়তে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও জনগোষ্ঠীকে ঋণের বোঝা না চাপিয়ে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জলবায়ু তহবিল নিশ্চিতের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগই হলো প্রকৃত জলবায়ু বিনিয়োগ। খাদ্যকে কোম্পানির মুনাফার পণ্য না বানিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
​মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে শ্রমিক নেতা নাজমুল হক বলেন, “উন্নয়নশীল দেশগুলোকে একদিকে বিদেশি ঋণের কিস্তি ও চড়া সুদ মেটাতে হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক খাতে ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জলবায়ু দুর্যোগের ঝুঁকি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। ঋণ শোধের নামে যদি মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়, তবে সেই উন্নয়ন কার স্বার্থে? ঋণদাতাদের শর্তের চেয়ে জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”
​মানববন্ধনে আরও বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ‘ধরা’ নেতা মোল্লা আল মামুন, কৃষক নেতা আসাদুজ্জামান টিটো, উদয়ন যুব সংঘের এস এম জানে আলম বাবু, সিপির নেতা মোঃ শাহ আলম, তরুণ নেতা শেখ সিফাতুল্লাহ শুভ, আরাফাত দূর্জয় এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের মেহেদী হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
​মানববন্ধন থেকে পরিবেশবান্ধব কৃষি নিশ্চিতকরণ, নবায়নযোগ্য সবুজ জ্বালানির বাস্তবায়ন এবং অবিলম্বে জলবায়ু তহবিলের অর্থ ছাড়ের জোর দাবি জানানো হয়।