ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬,
২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপুরে জাল রশিদসহ ১৭টি ভারতীয় গরু ও পিকআপ জব্দ: ৫ চোরাকারবারি গ্রেপ্তার

md afzal Hossain shubo
  • প্রকাশের সময় : ০৫:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 43

নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুরে অবৈধ পথে ভারত থেকে আনা ১৭টি ভারতীয় ষাঁড়-বাছুরসহ পাঁচ চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় গরু চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান এবং জালিয়াতির উদ্দেশ্যে তৈরি নাজিরপুর বাজারের ভুয়া খাস আদায়ের রশিদ বই জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত গরু ও পিকআপের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোররাতে দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ সড়কের উত্তরাইল বাজারের দয়ালবাড়ী এলাকায় ধাওয়া করে গরুবোঝাই পিকআপসহ প্রথমে চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কলমাকান্দার নাজিরপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় থেকে জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—দুর্গাপুর উপজেলার ফুলপুর গ্রামের পারভেজ মিয়া (২৫), চারিখাল গ্রামের হানিফ (৩০), নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বীরকান্দি গ্রামের আফসার উদ্দিন (৩৪) ও ইয়াসিন মিয়া (২২) এবং কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর এলাকার রামপুর গ্রামের জাহিদ হাসান রাসেল (৩০)।
পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে দুর্গাপুর থানার এসআই মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সোমেশ্বরী সেতুর ওপর অবস্থান করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় গরুর একটি বড় চালান পিকআপ যোগে নাজিরপুর মোড় হয়ে দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ সড়ক দিয়ে পাচার করা হচ্ছে।
পুলিশ সেতুর ওপর চেকপোস্ট বসিয়ে পিকআপটি থামানোর সংকেত দিলে চালক সংকেত অমান্য করে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা সিএনজি ও মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া করে সকাল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরাইল বাজারের দয়ালবাড়ী এলাকায় পিকআপটি (কুষ্টিয়া-ন ১১-০০২৫) গতিরোধ করে চারজনকে গ্রেপ্তার করেন।
পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন রঙের ১৭টি ভারতীয় ষাঁড়-বাছুর উদ্ধার করা হয়। এ সময় বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে আটককৃতরা নাজিরপুর বাজারের নামসংবলিত হাতে লেখা ১৭ পাতার ভুয়া রশিদ দেখায়। পরবর্তীতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারকৃত জাহিদ হাসান রাসেলের সহযোগিতায় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু এনে ভুয়া খাস আদায়ের রশিদ ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার ও বিক্রি করে আসছিল।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন সকাল পৌনে ১১টার দিকে নাজিরপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় থেকে জাহিদ হাসান রাসেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত নাজিরপুর বাজারের নামসংবলিত ১০৯ পাতার আরও একটি ভুয়া রশিদ বই জব্দ করা হয়।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, উদ্ধারকৃত ১৭টি ভারতীয় গরুর আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা এবং জব্দকৃত পিকআপ ভ্যানটির মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতীয় গরু দেশে আনা, অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে জাল রশিদ ব্যবহারের অপরাধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং দণ্ডবিধির ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রিপোর্টারের তথ্য
আফজাল হোসেন শুভ

আফজাল হোসেন শুভ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

দুর্গাপুরে জাল রশিদসহ ১৭টি ভারতীয় গরু ও পিকআপ জব্দ: ৫ চোরাকারবারি গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ০৫:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুরে অবৈধ পথে ভারত থেকে আনা ১৭টি ভারতীয় ষাঁড়-বাছুরসহ পাঁচ চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় গরু চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান এবং জালিয়াতির উদ্দেশ্যে তৈরি নাজিরপুর বাজারের ভুয়া খাস আদায়ের রশিদ বই জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত গরু ও পিকআপের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোররাতে দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ সড়কের উত্তরাইল বাজারের দয়ালবাড়ী এলাকায় ধাওয়া করে গরুবোঝাই পিকআপসহ প্রথমে চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কলমাকান্দার নাজিরপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় থেকে জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—দুর্গাপুর উপজেলার ফুলপুর গ্রামের পারভেজ মিয়া (২৫), চারিখাল গ্রামের হানিফ (৩০), নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বীরকান্দি গ্রামের আফসার উদ্দিন (৩৪) ও ইয়াসিন মিয়া (২২) এবং কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর এলাকার রামপুর গ্রামের জাহিদ হাসান রাসেল (৩০)।
পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে দুর্গাপুর থানার এসআই মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সোমেশ্বরী সেতুর ওপর অবস্থান করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় গরুর একটি বড় চালান পিকআপ যোগে নাজিরপুর মোড় হয়ে দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ সড়ক দিয়ে পাচার করা হচ্ছে।
পুলিশ সেতুর ওপর চেকপোস্ট বসিয়ে পিকআপটি থামানোর সংকেত দিলে চালক সংকেত অমান্য করে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা সিএনজি ও মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া করে সকাল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরাইল বাজারের দয়ালবাড়ী এলাকায় পিকআপটি (কুষ্টিয়া-ন ১১-০০২৫) গতিরোধ করে চারজনকে গ্রেপ্তার করেন।
পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন রঙের ১৭টি ভারতীয় ষাঁড়-বাছুর উদ্ধার করা হয়। এ সময় বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে আটককৃতরা নাজিরপুর বাজারের নামসংবলিত হাতে লেখা ১৭ পাতার ভুয়া রশিদ দেখায়। পরবর্তীতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারকৃত জাহিদ হাসান রাসেলের সহযোগিতায় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু এনে ভুয়া খাস আদায়ের রশিদ ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার ও বিক্রি করে আসছিল।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন সকাল পৌনে ১১টার দিকে নাজিরপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় থেকে জাহিদ হাসান রাসেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত নাজিরপুর বাজারের নামসংবলিত ১০৯ পাতার আরও একটি ভুয়া রশিদ বই জব্দ করা হয়।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, উদ্ধারকৃত ১৭টি ভারতীয় গরুর আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা এবং জব্দকৃত পিকআপ ভ্যানটির মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতীয় গরু দেশে আনা, অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে জাল রশিদ ব্যবহারের অপরাধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং দণ্ডবিধির ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।