০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জ জেলার চাষাড়ায় শুভ হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটনসহ ০৩ জন আসামি গ্রেফতার।

Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৮:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৯ Time View

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন চাষাড়া এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর শুভ চন্দ্র দাস (৩০) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি)। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিঃ রাত আনুমানিক ০১:৩০ ঘটিকায় স্থানীয় সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন হকার্স মার্কেটের পিছনে দুর্গামলের সামনে রাস্তা থেকে শ্রী শুভ চন্দ্র দাস (৩০), পিতা- শ্রী হরি চন্দ্র দাস, সাং- গলাচিপা, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ-এর গুলিবিদ্ধ ও চাকু দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং- ০৮, তারিখ- ০৫/০৯/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।

ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলায় নবাগত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান মহোদয়ের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জনাব মোঃ হাসিনুজ্জামান এর তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল ছায়া তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত পরিচালনা করে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অনিক ও সুমন শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর সহযোগী সোহানকে ব্যবহার করে শুভকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। পরবর্তীতে অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল শুভকে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। এ সময় অনিক ও অহিদ শুভকে গুলি করে এবং অন্যান্য সহযোগীরা চাকু দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়-
১। মোঃ সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫),
পিতা- কালু মিয়া, মাতা- মৃত ফরিদা বেগম, স্থায়ী ঠিকানা- আমলাপাড়া মাদ্রাসাপাড়া, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ। বর্তমানে বন্দর থানাধীন খানবাড়ি মোড়স্থ সুফিয়ানের বাড়ির ৫ম তলা ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া,
২। সিয়াম আহমেদ সিজান (২১), পিতা- মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মাতা- শাহনাজ বেগম, সাং- আমলাপাড়া, ২১ নং কেবি সাহা বাইলেন, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ,
৩। মোঃ সোহান (২৪),
পিতা- মৃত সমর্চান সরদার, মাতা- মৃত শেফালী বেগম, সাং- আমলাপাড়া, ২১ নং কেবি সাহা বাইলেন, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।

উদ্ধারকৃত আলামত-
১। আসামিদের ব্যবহৃত ০১টি মোটরসাইকেল।
২। আসামিদের ব্যবহৃত ০৩টি মোবাইল ফোন।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নারায়ণগঞ্জ জেলার চাষাড়ায় শুভ হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটনসহ ০৩ জন আসামি গ্রেফতার।

Update Time : ১২:১৮:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন চাষাড়া এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর শুভ চন্দ্র দাস (৩০) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি)। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিঃ রাত আনুমানিক ০১:৩০ ঘটিকায় স্থানীয় সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন হকার্স মার্কেটের পিছনে দুর্গামলের সামনে রাস্তা থেকে শ্রী শুভ চন্দ্র দাস (৩০), পিতা- শ্রী হরি চন্দ্র দাস, সাং- গলাচিপা, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ-এর গুলিবিদ্ধ ও চাকু দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং- ০৮, তারিখ- ০৫/০৯/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।

ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলায় নবাগত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান মহোদয়ের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জনাব মোঃ হাসিনুজ্জামান এর তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল ছায়া তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত পরিচালনা করে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অনিক ও সুমন শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর সহযোগী সোহানকে ব্যবহার করে শুভকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। পরবর্তীতে অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল শুভকে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। এ সময় অনিক ও অহিদ শুভকে গুলি করে এবং অন্যান্য সহযোগীরা চাকু দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়-
১। মোঃ সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫),
পিতা- কালু মিয়া, মাতা- মৃত ফরিদা বেগম, স্থায়ী ঠিকানা- আমলাপাড়া মাদ্রাসাপাড়া, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ। বর্তমানে বন্দর থানাধীন খানবাড়ি মোড়স্থ সুফিয়ানের বাড়ির ৫ম তলা ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া,
২। সিয়াম আহমেদ সিজান (২১), পিতা- মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মাতা- শাহনাজ বেগম, সাং- আমলাপাড়া, ২১ নং কেবি সাহা বাইলেন, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ,
৩। মোঃ সোহান (২৪),
পিতা- মৃত সমর্চান সরদার, মাতা- মৃত শেফালী বেগম, সাং- আমলাপাড়া, ২১ নং কেবি সাহা বাইলেন, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।

উদ্ধারকৃত আলামত-
১। আসামিদের ব্যবহৃত ০১টি মোটরসাইকেল।
২। আসামিদের ব্যবহৃত ০৩টি মোবাইল ফোন।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।