নিখোঁজের দুই দিন পর ছোনগাছা ব্রিজের পাশে অটোচালকের মরদেহ, অটো নিখোঁজ
- Update Time : ০৫:১৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৯ Time View

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি এলাকার এক অটোচালক নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ছোনগাছা ব্রিজের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহ উদ্ধারের সময় তার সঙ্গে থাকা অটোর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে অটোটি নিখোঁজ থাকায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নিহত ব্যক্তি চিলগাছা এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন। জীবিকার তাগিদে তিনি অটো চালিয়ে পরিবারের ভরণ-পোষণ করতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত পরশুদিন সকালে প্রতিদিনের মতো অটো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ওই অটোচালক। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় স্বাভাবিকভাবেই কাজে যাওয়ার কথা বলে বের হন তিনি। কিন্তু দিনের পর দিন গড়িয়ে গেলেও আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। সন্ধ্যার পরও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন, পরিচিতজন ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন পরিবারের লোকজন। কোথাও তার সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে তার সন্ধান করতে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে আজ ছোনগাছা ব্রিজের পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা সেখানে ছুটে যান। পরে মরদেহটি নিখোঁজ অটোচালকের বলে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা।
মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর নিহতের স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। যে মানুষটি দুই দিন আগে জীবিকার সন্ধানে অটো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন, তার মরদেহ এভাবে ফিরে আসায় পরিবারে নেমে আসে শোকের মাতম। স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
তবে সবচেয়ে বেশি রহস্য তৈরি হয়েছে নিহতের অটোটি নিয়ে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি অটো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরে তার মরদেহ পাওয়া গেলেও সঙ্গে থাকা অটোটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ কারণে পরিবারের লোকজনের ধারণা, তিনি হয়তো ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে থাকতে পারেন এবং অটোটি নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
তবে নিহতের পরিবারের এই ধারণার বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি কীভাবে মারা গেছেন, কোথায় বা কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে এবং অটোটি কোথায় রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
স্থানীয়দের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। একজন অটোচালক বাড়ি থেকে অটো নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হলেন, এরপর দুই দিন পর তার মরদেহ পাওয়া গেল, অথচ অটোটি পাওয়া গেল না—এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা ঘটনার প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, তাদের স্বজন জীবিকার জন্য প্রতিদিন অটো চালিয়ে বের হতেন। কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল কি না, কিংবা অন্য কোনো কারণে তিনি এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন কি না—তা তারা জানেন না। হঠাৎ তার মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন অসহায় হয়ে পড়েছে।
নিহতের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অটোচালকদের রাতে বা নির্জন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ঘটনার পেছনে কোনো অপরাধ বা ছিনতাইয়ের ঘটনা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অটোটি উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনার প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে এবং তারা তাদের স্বজনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন অটোচালকের নিখোঁজ হওয়ার পর মরদেহ উদ্ধার এবং তার অটো নিখোঁজ থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।



















