ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যৌথ বাহিনীর বড় সফলতা: ট্রাকে ৩৩৪ বস্তা ভারতীয় জিরা, কোটি টাকার চোরাচালানসহ আটক ৩
- Update Time : ১২:১৬:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২১ Time View

সীমান্তের নিরাপত্তা ডিঙিয়ে দেদারসে আসছিল চোরাই মালামাল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সড়ক আটকে যৌথ থাবা বসায় এলিট ফোর্স র্যাব ও বিজিবি। হাতেনাতে ধরা পড়ে কোটি টাকার বর্ডার টপকানো অবৈধ ভারতীয় জিরা আর তার সঙ্গে থাকা আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের তিন সক্রিয় সদস্য।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানাধীন শাহবাজপুর ব্রিজের পূর্ব পাশে চেকপোস্ট বসিয়ে এ সফল অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-৯ (সিপিসি-১) ও ২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের একটি যৌথ আভিযানিক দল।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার মৃত সুফি মিয়ার ছেলে এম ফয়সাল আবির (৩৩) এবং রাজশাহীর বিমানবন্দর থানার বাঘাটা এলাকার মো. হারুনের ছেলে মো. হাবিব (৩২) ও মৃত শুকুর আলীর ছেলে আজিজুল হাকিম (২৫)।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সীমান্ত এলাকা থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে একটি বড় চালানের ট্রাক ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দিকে আসছে—এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামে যৌথ বাহিনী। সকাল সোয়া ৯টার দিকে সরাইলের কুট্টা মোড়ে অবস্থানরত আভিযানিক দলটি দ্রুত শাহবাজপুর ব্রিজের কাছে চেকপোস্ট বসায়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্দেহভাজন ট্রাকটি চেকপোস্টের দিকে এগিয়ে এলে সংকেত দিয়ে সেটিকে থামানো হয়। এ সময় ট্রাকে থাকা ব্যক্তিরা র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত নেমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চতুর ঘেরাওয়ে ঘটনাস্থলেই আটক হন ওই তিন ব্যক্তি।
পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে চালকের পেছনে ও ট্রকের বডিতে থাকা ৩৩৪টি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে উদ্ধার করা হয় মোট ১০ হাজার ২০ কেজি (১০ metric ton) ভারতীয় জিরা। জব্দ করা হয় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকটিও। উদ্ধারকৃত জিরার আনুমানিক বাজারমূল্য অন্তত ১ কোটি টাকা বলে নিশ্চিত করেছে র্যাব।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামিরা স্বীকার করেছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা পরস্পর যোগসাজশে সীমান্ত রুট ব্যবহার করে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে এসব পণ্য আনছিল এবং দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, চোরাচালানবিরোধী এ বিশেষ অভিযানের পর গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ জিরা ও ট্রাকসহ আসামিদের সরাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সীমান্তের চোরাচালান সিন্ডিকেট ও রুটগুলোর মূল উৎপাটনে র্যাব-৯ এর এই বিশেষ গোয়েন্দা তৎপরতা ও সম্মিলিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।



















