০৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মামলা ঠেকানো’ সস্তার হেলমেট: স্বস্তিতে বাইকার, ঝুঁকিতে যাত্রী

স্টাফ রিপোর্টার মোঃ খসরু নোমান
  • Update Time : ১১:৪০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৬৪ Time View

‘
​ঢাকার ফুটপাতে কম দামি হেলমেটের রাজত্ব
রাজধানীর শনির আখড়া থেকে প্রতিদিন সকালে বাইক নিয়ে বের হন রাইড শেয়ারিং চালক নুরুল হুদা। উত্তরা পর্যন্ত দীর্ঘ রুটে যাতায়াত তার। কিন্তু একদিন অসাবধানতাবশত যাত্রীর হেলমেটটি সাথে নিতে ভুলে যান তিনি। ট্রাফিক সার্জেন্টের জরিমানা এড়াতে মোহাম্মদপুর থেকে আসাদগেট আসার পথেই ফুটপাত থেকে ৩০০ টাকায় কিনে নেন একটি হেলমেট। শুধু নুরুল হুদা নন, ঢাকার অসংখ্য বাইকারের জন্য এই ‘মামলা ঠেকানো’ হেলমেটগুলো সাময়িক স্বস্তি নিয়ে আসছে।
​ঢাকার আসাদগেট ফুটওভার ব্রিজের নিচে কিংবা সাইন্সল্যাব মোড়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় প্রতিদিন সারি সারি ঝোলানো থাকে এসব সস্তা হেলমেট। ১০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে মিলছে এসব হেলমেট, যার সাথে অতিরিক্ত ১০০ টাকা দিয়ে ভাইজর যুক্ত করার সুবিধাও রয়েছে। বিক্রেতারা জানান, মূলত ট্রাফিক পুলিশের মামলা থেকে বাঁচতেই চালকেরা এসব হেলমেট কিনে থাকেন।
​আইনের কড়াকড়ি ও হেলমেটের চাহিদা
বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের চালক ও সহযাত্রী (পিলিয়ন) উভয়ের জন্যই হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। আইন অমান্য করলে অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ঢাকা শহরে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ। ফলে বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ হেলমেটের বাজার।
​যেভাবে তৈরি হচ্ছে অনিরাপদ হেলমেট
পুরান ঢাকার বংশালের বিভিন্ন দোকানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে নিম্নমানের এসব হেলমেট। লিন অটো কর্পোরেশন ও কনকর্ড অটো ইন্টারন্যাশনালের মতো স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে:
​উপাদান: মিক্সড ও রিসাইকেল করা সস্তা প্লাস্টিক এবং নিম্নমানের ফোম বা পাতলা কাপড় দিয়ে এসব হেলমেট তৈরি হয়।
​উৎপাদন পদ্ধতি: বংশালের বিভিন্ন ভবনে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই গোপনে পরিচালিত হচ্ছে এসব হেলমেট তৈরির কারখানা। ভ্যানে করে গোপনে এসব পণ্য সরবরাহ করা হয়।
​আসল ঝুঁকিতে সাধারণ যাত্রীরা
নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে তৈরি এসব হেলমেট কোনো দুর্ঘটনায় মাথা বাঁচাতে সক্ষম নয়। রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহারকারী সুমন মালাকার জানান, “বাইকাররা যে হেলমেট দেন তা অত্যন্ত পাতলা প্লাস্টিকের। অনেক সময় বাইক চালানোর সময় হেলমেট পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে নিজেকেই ধরে রাখতে হয়।”
​আইনের কড়াকড়ি এড়াতে এই ‘নিয়ম রক্ষার হেলমেট’ বিক্রেতা ও বাইকারদের সাময়িক সুবিধা দিলেও, সড়কে যাত্রীদের জন্য এটি এক বড় ধরনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মামলা ঠেকানো’ সস্তার হেলমেট: স্বস্তিতে বাইকার, ঝুঁকিতে যাত্রী

Update Time : ১১:৪০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘
​ঢাকার ফুটপাতে কম দামি হেলমেটের রাজত্ব
রাজধানীর শনির আখড়া থেকে প্রতিদিন সকালে বাইক নিয়ে বের হন রাইড শেয়ারিং চালক নুরুল হুদা। উত্তরা পর্যন্ত দীর্ঘ রুটে যাতায়াত তার। কিন্তু একদিন অসাবধানতাবশত যাত্রীর হেলমেটটি সাথে নিতে ভুলে যান তিনি। ট্রাফিক সার্জেন্টের জরিমানা এড়াতে মোহাম্মদপুর থেকে আসাদগেট আসার পথেই ফুটপাত থেকে ৩০০ টাকায় কিনে নেন একটি হেলমেট। শুধু নুরুল হুদা নন, ঢাকার অসংখ্য বাইকারের জন্য এই ‘মামলা ঠেকানো’ হেলমেটগুলো সাময়িক স্বস্তি নিয়ে আসছে।
​ঢাকার আসাদগেট ফুটওভার ব্রিজের নিচে কিংবা সাইন্সল্যাব মোড়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় প্রতিদিন সারি সারি ঝোলানো থাকে এসব সস্তা হেলমেট। ১০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে মিলছে এসব হেলমেট, যার সাথে অতিরিক্ত ১০০ টাকা দিয়ে ভাইজর যুক্ত করার সুবিধাও রয়েছে। বিক্রেতারা জানান, মূলত ট্রাফিক পুলিশের মামলা থেকে বাঁচতেই চালকেরা এসব হেলমেট কিনে থাকেন।
​আইনের কড়াকড়ি ও হেলমেটের চাহিদা
বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের চালক ও সহযাত্রী (পিলিয়ন) উভয়ের জন্যই হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। আইন অমান্য করলে অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ঢাকা শহরে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ। ফলে বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ হেলমেটের বাজার।
​যেভাবে তৈরি হচ্ছে অনিরাপদ হেলমেট
পুরান ঢাকার বংশালের বিভিন্ন দোকানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে নিম্নমানের এসব হেলমেট। লিন অটো কর্পোরেশন ও কনকর্ড অটো ইন্টারন্যাশনালের মতো স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে:
​উপাদান: মিক্সড ও রিসাইকেল করা সস্তা প্লাস্টিক এবং নিম্নমানের ফোম বা পাতলা কাপড় দিয়ে এসব হেলমেট তৈরি হয়।
​উৎপাদন পদ্ধতি: বংশালের বিভিন্ন ভবনে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই গোপনে পরিচালিত হচ্ছে এসব হেলমেট তৈরির কারখানা। ভ্যানে করে গোপনে এসব পণ্য সরবরাহ করা হয়।
​আসল ঝুঁকিতে সাধারণ যাত্রীরা
নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে তৈরি এসব হেলমেট কোনো দুর্ঘটনায় মাথা বাঁচাতে সক্ষম নয়। রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহারকারী সুমন মালাকার জানান, “বাইকাররা যে হেলমেট দেন তা অত্যন্ত পাতলা প্লাস্টিকের। অনেক সময় বাইক চালানোর সময় হেলমেট পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে নিজেকেই ধরে রাখতে হয়।”
​আইনের কড়াকড়ি এড়াতে এই ‘নিয়ম রক্ষার হেলমেট’ বিক্রেতা ও বাইকারদের সাময়িক সুবিধা দিলেও, সড়কে যাত্রীদের জন্য এটি এক বড় ধরনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।