০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলায় ব্ল্যাকমেইলে বিপর্যস্ত বিউটিশিয়ান, সাইবার আইনে অভিযুক্ত ‘কথিত সাংবাদিক’ গ্রেপ্তার

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪১:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৩ Time View

​মোংলা (বাগেরহাট): সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারাবাহিক কুরুচিপূর্ণ পোস্ট ও ভিডিও ছড়িয়ে এক নারী বিউটিশিয়ানকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে আত্মহত্যার মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে মোংলা থেকে রেজা মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪০) নামের এক ‘কথিত সাংবাদিক’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা রুজুর পর বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয় এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে কারাগারে পাঠানো হয়।
​ঘটনার পটভূমি ও ব্ল্যাকমেইল
মামলার বাদী মোঃ আল-আমিনের অভিযোগ অনুযায়ী, তার বোন কাজী কেয়া মোংলা পৌর শহরের কবরস্থান রোড এলাকায় ‘কেয়া ব্রাইডাল লুকস বিউটি পার্লার’ পরিচালনা করে আসছেন। মামলার প্রধান আসামি মাসুদ রানা দুটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে কেয়াসহ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও নারীর বিরুদ্ধে অনৈতিক দাবি, অর্থ দাবি এবং অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন।
​গত ২৮ জুলাই আসামি তার আইডি থেকে কাজী কেয়ার বিরুদ্ধে একাধিক আপত্তিকর স্ট্যাটাস ও ভিডিও প্রকাশ করলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
​মামলার আসামিরা
আদালতের নির্দেশে মোংলা থানায় দায়ের হওয়া এ মামলার আসামিরা হলেন:
​প্রধান আসামি: মোঃ মাসুদ রানা (৪০), কবরস্থান রোড, মোংলা (কথিত সাংবাদিক)।
​২য় আসামি: শেখ নাছিরুল হক সোহেল (৪০), গিলাতলা, রামপাল (ভুক্তভোগীর তালাকপ্রাপ্ত স্বামী)।
​৩য় আসামি: জিয়া আক্তার (২৯), মোর্শেদ সড়ক, মোংলা (বিউটি পার্লারের সাবেক কর্মী)।
​রাজনৈতিক প্রভাব ও অপকর্মের কৌশল
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আসামি নিজেকে সাবেক ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। তিনি মোংলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিকের আত্মীয়তার (সম্বন্ধি) পরিচয় দিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতেন। মাদকবিরোধী আন্দোলনের নামে তিনি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য ফেসবুকে প্রকাশ করে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আদায় করতেন বলে জানা গেছে।
​পুলিশের বক্তব্য ও জনপ্রতিক্রিয়া
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাইবার হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রধান আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
​এদিকে, অভিযুক্ত মাসুদ রানা গ্রেপ্তারের খবরে মোংলার বিভিন্ন এলাকায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং অনেক স্থানে মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মোংলায় ব্ল্যাকমেইলে বিপর্যস্ত বিউটিশিয়ান, সাইবার আইনে অভিযুক্ত ‘কথিত সাংবাদিক’ গ্রেপ্তার

Update Time : ০৭:৪১:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​মোংলা (বাগেরহাট): সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারাবাহিক কুরুচিপূর্ণ পোস্ট ও ভিডিও ছড়িয়ে এক নারী বিউটিশিয়ানকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে আত্মহত্যার মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে মোংলা থেকে রেজা মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪০) নামের এক ‘কথিত সাংবাদিক’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা রুজুর পর বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয় এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে কারাগারে পাঠানো হয়।
​ঘটনার পটভূমি ও ব্ল্যাকমেইল
মামলার বাদী মোঃ আল-আমিনের অভিযোগ অনুযায়ী, তার বোন কাজী কেয়া মোংলা পৌর শহরের কবরস্থান রোড এলাকায় ‘কেয়া ব্রাইডাল লুকস বিউটি পার্লার’ পরিচালনা করে আসছেন। মামলার প্রধান আসামি মাসুদ রানা দুটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে কেয়াসহ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও নারীর বিরুদ্ধে অনৈতিক দাবি, অর্থ দাবি এবং অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন।
​গত ২৮ জুলাই আসামি তার আইডি থেকে কাজী কেয়ার বিরুদ্ধে একাধিক আপত্তিকর স্ট্যাটাস ও ভিডিও প্রকাশ করলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
​মামলার আসামিরা
আদালতের নির্দেশে মোংলা থানায় দায়ের হওয়া এ মামলার আসামিরা হলেন:
​প্রধান আসামি: মোঃ মাসুদ রানা (৪০), কবরস্থান রোড, মোংলা (কথিত সাংবাদিক)।
​২য় আসামি: শেখ নাছিরুল হক সোহেল (৪০), গিলাতলা, রামপাল (ভুক্তভোগীর তালাকপ্রাপ্ত স্বামী)।
​৩য় আসামি: জিয়া আক্তার (২৯), মোর্শেদ সড়ক, মোংলা (বিউটি পার্লারের সাবেক কর্মী)।
​রাজনৈতিক প্রভাব ও অপকর্মের কৌশল
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আসামি নিজেকে সাবেক ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। তিনি মোংলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিকের আত্মীয়তার (সম্বন্ধি) পরিচয় দিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতেন। মাদকবিরোধী আন্দোলনের নামে তিনি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য ফেসবুকে প্রকাশ করে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আদায় করতেন বলে জানা গেছে।
​পুলিশের বক্তব্য ও জনপ্রতিক্রিয়া
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাইবার হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রধান আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
​এদিকে, অভিযুক্ত মাসুদ রানা গ্রেপ্তারের খবরে মোংলার বিভিন্ন এলাকায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং অনেক স্থানে মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে।