০৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের টানা অভিযান।

রিপোর্টার মোঃ ফয়সাল
  • Update Time : ০৮:৩৪:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২২ Time View

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের টানা বিশেষ অভিযানে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মাত্র দুই দিনে বিভিন্ন অপরাধে ২২৫ জনকে আটক ও গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। অভিযানের কারণে মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন মহল।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নারায়ণগঞ্জ জেলার সাতটি থানায় সমন্বিতভাবে বিশেষ অভিযান শুরু করেন পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান। অভিযানে মাঠপর্যায়ে তার সঙ্গে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোঃ তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক-সার্কেল শামীম আহমেদ।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের প্রথম দিনে বিভিন্ন অপরাধে ১২২ জনকে আটক করা হয়। এরপর রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দিনের বিশেষ অভিযানে আরও ১০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে দুই দিনের অভিযানে পুলিশের হাতে আসে ২২৫ জন।

দ্বিতীয় দিনের অভিযানে থানাভিত্তিক গ্রেফতারের মধ্যে সদর মডেল থানায় ২২ জন, ফতুল্লা মডেল থানায় ৩১ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১৪ জন, বন্দর থানায় ১১ জন, সোনারগাঁ থানায় ৫ জন, আড়াইহাজার থানায় ৪ জন এবং রূপগঞ্জ থানায় ১৮ জন রয়েছেন।

এর মধ্যে বন্দর থানার অভিযানে ৪ জন মাদকসেবী, ২ জন মাদক ব্যবসায়ী, ২ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং সুইচ গিয়ার ও নগদ ৪ হাজার টাকাসহ ৩ জন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানকালে পুলিশ ১ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা, ৮৯ পিস ইয়াবা, গাঁজার পুরিয়া, দেশীয় অস্ত্র এবং মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করেছে।

জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, “মাদকই সকল অপরাধের মূল। মাদক নির্মূল করতে পারলে নারায়ণগঞ্জে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। জেলাকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত রাখতে জেলা পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে নারায়ণগঞ্জকে একটি শান্তিপূর্ণ মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, শুধু মাঠপর্যায়ের অপরাধীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, অপরাধীদের যারা পেছন থেকে মদদ দিচ্ছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এ কাজে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে পুলিশের টানা অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে নবাগত পুলিশ সুপারের কঠোর অবস্থান ও দ্রুত অভিযানের প্রশংসা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমে নারায়ণগঞ্জ আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের টানা অভিযান।

Update Time : ০৮:৩৪:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের টানা বিশেষ অভিযানে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মাত্র দুই দিনে বিভিন্ন অপরাধে ২২৫ জনকে আটক ও গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। অভিযানের কারণে মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন মহল।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নারায়ণগঞ্জ জেলার সাতটি থানায় সমন্বিতভাবে বিশেষ অভিযান শুরু করেন পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান। অভিযানে মাঠপর্যায়ে তার সঙ্গে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোঃ তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক-সার্কেল শামীম আহমেদ।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের প্রথম দিনে বিভিন্ন অপরাধে ১২২ জনকে আটক করা হয়। এরপর রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দিনের বিশেষ অভিযানে আরও ১০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে দুই দিনের অভিযানে পুলিশের হাতে আসে ২২৫ জন।

দ্বিতীয় দিনের অভিযানে থানাভিত্তিক গ্রেফতারের মধ্যে সদর মডেল থানায় ২২ জন, ফতুল্লা মডেল থানায় ৩১ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১৪ জন, বন্দর থানায় ১১ জন, সোনারগাঁ থানায় ৫ জন, আড়াইহাজার থানায় ৪ জন এবং রূপগঞ্জ থানায় ১৮ জন রয়েছেন।

এর মধ্যে বন্দর থানার অভিযানে ৪ জন মাদকসেবী, ২ জন মাদক ব্যবসায়ী, ২ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং সুইচ গিয়ার ও নগদ ৪ হাজার টাকাসহ ৩ জন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানকালে পুলিশ ১ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা, ৮৯ পিস ইয়াবা, গাঁজার পুরিয়া, দেশীয় অস্ত্র এবং মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করেছে।

জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, “মাদকই সকল অপরাধের মূল। মাদক নির্মূল করতে পারলে নারায়ণগঞ্জে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। জেলাকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত রাখতে জেলা পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে নারায়ণগঞ্জকে একটি শান্তিপূর্ণ মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, শুধু মাঠপর্যায়ের অপরাধীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, অপরাধীদের যারা পেছন থেকে মদদ দিচ্ছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এ কাজে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে পুলিশের টানা অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে নবাগত পুলিশ সুপারের কঠোর অবস্থান ও দ্রুত অভিযানের প্রশংসা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমে নারায়ণগঞ্জ আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।