০৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নজরুলের সাহিত্য ও সঙ্গীতে নিবিড়ভাবে ফুটে উঠেছে রাসূল প্রেম: কেসিসি প্রশাসক

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪০:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৬ Time View

শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সঙ্গীতের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে রাসূল প্রেম। বাংলা সাহিত্যে ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি এমন নিবিড় ভালোবাসা ও আকুলতা আর কোনো কবির সৃষ্টিতে এত ব্যাপকভাবে ফুটে ওঠেনি। তিনি বাংলা ভাষায় ইসলামিক সঙ্গীতের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। ‘ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়’, ‘তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে’, কিংবা ‘মোহাম্মদের নাম জপেছিলি বুলবুলি তুই আগে’-এর মতো নাতে রাসূল আজও প্রতিটি মুসলিম হৃদয়ে নাড়া দেয়।
রবিবার বিকেলে খুলনা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ‘কবি কাজী নজরুল ইসলামের রাসূল প্রেম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এসব কথা বলেন। পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) পালন উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম গবেষণা পরিষদ-খুলনা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে খুলনার জিরো পয়েন্টকে ‘কবি নজরুল চত্বর’ এবং কেডিএ এভিনিউকে ‘কবি নজরুল এভিনিউ’ ঘোষণার উদোগ নেওয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম গবেষণা পরিষদের পক্ষ থেকে কেসিসি প্রশাসকের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।
জাতীয় কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কেসিসি প্রশাসক বলেন, কবি নজরুল শুধু একজন কবিই ছিলেন না; তিনি ছিলেন সুরকার, গীতিকার এবং শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি সারা জীবন যে শিক্ষা দিয়েছেন, তার মূল ভিত্তিই ছিল সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিকতা। নজরুল তাঁর কবিতায় রাসূল (সা.)-কে কেবল একজন ধর্মীয় নেতা হিসেবে দেখেননি, বরং তাঁকে শোষিত, লাঞ্ছিত ও অবহেলিত মানুষের মুক্তির দূত এবং পরম দয়ালু হিসেবে চিত্রিত করেছেন।
​কেসিসি প্রশাসক জানান, খুলনা মহানগরীতে ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। কেসিসি কর্তৃক আয়োজিত সকল অনুষ্ঠানে নজরুল গবেষণা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে নিয়েই নজরুল বর্ষ উদযাপন করা হবে। শিগগিরই সভা আহ্বানের মাধ্যমে চত্বর ও সড়ক নামকরণের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে। তিনি নজরুলের সাহিত্য পাঠ ও আদর্শকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ গঠনে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সংগ্রামী জীবন পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম গবেষণা পরিষদ-খুলনার সভাপতি, কবি ও নজরুল গবেষক সৈয়দ আলী হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর আবদুল মান্নান। অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা কবি ও গবেষক শেখ মনিরুজ্জামান লাভলু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. জিনারুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি রুহুল আমিন সিদ্দিকী, অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন, শের আলী সেরবাগ, অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েস, অধ্যাপক তাকদিরুল গনি, অ্যাডভোকেট এইচ এম বাহালুল করিম, আজাদুল হক আজাদ, বদিউল আলম চৌধুরী, রামপ্রসাদ রায়, সেলিম মাহবুব, নাজমুল তারিক তুষার, জামিল আহমেদ প্রমুখ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নজরুলের সাহিত্য ও সঙ্গীতে নিবিড়ভাবে ফুটে উঠেছে রাসূল প্রেম: কেসিসি প্রশাসক

Update Time : ০৮:৪০:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সঙ্গীতের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে রাসূল প্রেম। বাংলা সাহিত্যে ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি এমন নিবিড় ভালোবাসা ও আকুলতা আর কোনো কবির সৃষ্টিতে এত ব্যাপকভাবে ফুটে ওঠেনি। তিনি বাংলা ভাষায় ইসলামিক সঙ্গীতের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। ‘ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়’, ‘তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে’, কিংবা ‘মোহাম্মদের নাম জপেছিলি বুলবুলি তুই আগে’-এর মতো নাতে রাসূল আজও প্রতিটি মুসলিম হৃদয়ে নাড়া দেয়।
রবিবার বিকেলে খুলনা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ‘কবি কাজী নজরুল ইসলামের রাসূল প্রেম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এসব কথা বলেন। পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) পালন উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম গবেষণা পরিষদ-খুলনা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে খুলনার জিরো পয়েন্টকে ‘কবি নজরুল চত্বর’ এবং কেডিএ এভিনিউকে ‘কবি নজরুল এভিনিউ’ ঘোষণার উদোগ নেওয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম গবেষণা পরিষদের পক্ষ থেকে কেসিসি প্রশাসকের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।
জাতীয় কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কেসিসি প্রশাসক বলেন, কবি নজরুল শুধু একজন কবিই ছিলেন না; তিনি ছিলেন সুরকার, গীতিকার এবং শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি সারা জীবন যে শিক্ষা দিয়েছেন, তার মূল ভিত্তিই ছিল সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিকতা। নজরুল তাঁর কবিতায় রাসূল (সা.)-কে কেবল একজন ধর্মীয় নেতা হিসেবে দেখেননি, বরং তাঁকে শোষিত, লাঞ্ছিত ও অবহেলিত মানুষের মুক্তির দূত এবং পরম দয়ালু হিসেবে চিত্রিত করেছেন।
​কেসিসি প্রশাসক জানান, খুলনা মহানগরীতে ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। কেসিসি কর্তৃক আয়োজিত সকল অনুষ্ঠানে নজরুল গবেষণা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে নিয়েই নজরুল বর্ষ উদযাপন করা হবে। শিগগিরই সভা আহ্বানের মাধ্যমে চত্বর ও সড়ক নামকরণের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে। তিনি নজরুলের সাহিত্য পাঠ ও আদর্শকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ গঠনে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সংগ্রামী জীবন পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম গবেষণা পরিষদ-খুলনার সভাপতি, কবি ও নজরুল গবেষক সৈয়দ আলী হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর আবদুল মান্নান। অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা কবি ও গবেষক শেখ মনিরুজ্জামান লাভলু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. জিনারুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি রুহুল আমিন সিদ্দিকী, অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন, শের আলী সেরবাগ, অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েস, অধ্যাপক তাকদিরুল গনি, অ্যাডভোকেট এইচ এম বাহালুল করিম, আজাদুল হক আজাদ, বদিউল আলম চৌধুরী, রামপ্রসাদ রায়, সেলিম মাহবুব, নাজমুল তারিক তুষার, জামিল আহমেদ প্রমুখ।